প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] বিনাধান-১৭ এর বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

আল আমীন: [২] ময়মনসিংহ অঞ্চলে চলতি আমন মৌসুমে চাষ করা স্থানীয় জাতের ধানের এখনো থোর বের হয়নি অথচ বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) উদ্ভাবিত আগাম জাতের বিনাধান-১৭-এর কাটার কাজ শুরু হয়েছে। স্বল্প সময়ে ভালো ফলনে এ ধানকে ঘিরে কৃষকদের মধ্যে চলছে নানা আলোচনা। খরা সহিষ্ণু, স্বল্প জীবনকালীন ও অধিক ফলনশীল বিনাধান-১৭-এর বাম্পার ফলন দেখে বেজায় খুশি কৃষক।

[৩] চলতি আমন মৌসুমে ময়মনসিংহ অঞ্চলে স্থানীয় জাতসহ রোপণ করা বিভিন্ন জাতের ধানগাছে এখনো থোরই বের হয়নি। মাঝে মধ্যে একটি দুটি শীষ গজালেও পরিপক্ব হতে আরও দেড় মাস লেগে যাবে। অথচ একই সময়ে চাষ করা বিনাধান-১৭ এখনই পেকে গেছে। ইতিমধ্যে ময়মনসিংহ অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় বিনাধান-১৭ কাটা শুরু হয়েছে।

[৪] জেলার মুক্তাগাছা উপজেলার বড়গ্রাম ইউনিয়নের কোণাগাঁও কেজাইকান্দা গ্রামের কৃষক হেলাল উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) থেকে ১০ কেজি বীজ নিয়ে ১৫ শতাংশ জমিতে বিনাধান-১৭ রোপণ করেছিলেন। এখন ক্ষেতে বাম্পার ফলন হয়েছে। আশপাশের অন্য ক্ষেতের ধানে থোর না এলেও, বিনাধান-১৭ পেকে যাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। আগামীতে পুরো জমিতে বিনাধান-১৭ লাগানোর ইচ্ছা রয়েছে।

[৫] এ কে এম আজিজুল হক দুদু বলেন, ৫২ শতক জমিতে বিনা ধান-১৭ চাষ করেছি। প্রথমে একটু ভয় ছিল ধানকে ঘিরে। রোপণের পর ফলন ভালো হওয়ায় আশা জাগিয়ে তুলেছে বিনাধান-১৭। এলাকার অনেক কৃষক আগামীতে এ ধান চাষ করার জন্য পরামর্শ নিচ্ছেন। আশা করা যাচ্ছে, কয়েক বছরের মধ্যে এটি বাংলাদেশে জনপ্রিয় হয়ে উঠবে।

[৬] শিক্ষক আনোয়ার হোসেন বলেন, আশ্বিন মাসে বিনাধান-১৭ কর্তন করতে পেরে ভালো লাগছে। সাধারণত অগ্রহায়ণ মাসে আমরা আমন ধান কর্তন করে থাকি। এ ধানগুলো অন্য ধানের ছড়ার চেয়ে বেশ বড়। ধানের রঙও ভালো। আশা করছি, দামও ভালো পাব।

[৭] কৃষক সিরাজুল ইসলাম বলেন, বিনাধান-১৭ রোপণ করার সময় অনেককে নিয়ে হাসাহাসি করেছি; কিন্তু আজকে তারা ধান কাটছে। আমাদের ক্ষেতে এখনো থোরই আসেনি। আগামীতে আমরাও বিনাধান-১৭ চাষ করব।

[৮] বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) মহাপরিচালক ও বিনাধান-১৭-এর উদ্ভাবক ড. মির্জা মোফাজ্জল ইসলাম বলেন, ইরি ও বিনার যৌথ গবেষণা করে অনেক বৈশিষ্ট্যের সমন্বয়ে বিনাধান-১৭ উদ্ভাবন করা হয়েছে। এই ধানটি রোগ বালাই সহনশীল, এক-তৃতীয়াংশ ইউরিয়া সার ও অর্ধেক পানি সাশ্রয়ী এবং খরাসহিষ্ণু হওয়ায় আগাম ও অধিক ফলনশীল বিনাধান-১৭কে ‘গ্রিন সুপার রাইস’ বলা হয়। এই ধানটি ‘মেগা ভ্যারাইটি’র হয়। এ ফসল কাটার পর পরই গম, আলু, সরিষা চাষ করা যায়। পরবর্তীতে বুরো ধান আবাদ করা যায়। এ জাত থেকে আগাম হওয়াতে গবাদি পশুর খাদ্য পূরণে খড়ের সঞ্চয় হয়। এক বিঘা জমি থেকে খড় বিক্রি করে ৮-১০ হাজার টাকা বাড়তি আয় করার সুযোগ পায় কৃষক। এ জাতটি আগামীতে কৃষকের আর্শীবাদ হিসাবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা।

[৯] প্রতি হেক্টর জমিতে ৮ টন ধান পাওয়া যায়। রোপণের ১১০ দিনে ধান কাটা যায়। একই জমিতে বিনাধান-১৭ চাষ করে আরও কমপক্ষে তিন থেকে চারটি ফসল অতিরিক্ত করে বোরো আবাদ করা সম্ভব। এতে কৃষকদের আয় বাড়বে।

সর্বাধিক পঠিত