প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] ‘ঔষধ আইন-২০২১’ এর খসড়া চূড়ান্ত, মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের সম্ভাবনা আজ

আনিস তপন: [২]  খসড়া চূড়ান্ত করেছে স্বাস্থ্য ও পরিববার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। আজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভা বৈঠকে এই খসড়া অনুমোদন দেওয়া হতে পারে বলে  জানা গেছে। এই আইনের অধীনে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর পরিচালিত হবে। এর প্রধান নির্বাহী হবেন মহাপরিচালক। এই পদে কর্মকর্তাকে সরকার নিয়োগ দেবে।

[৩] খসড়া আইনে বলা হয়েছে, অধিদপ্তর ওষুধ উৎপাদন ও বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স দেবে ও পরিদর্শন করবে, মার্কেট তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ করবে, ফার্মাকোভিজিল্যান্স কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে, ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল পর্যবেক্ষণ করবে, ভ্যাকসিনের লট রিলিজ ও ওষুধের মান নির্ধারণ ও নিয়ন্ত্রণ করবে।

[৪] সরকার লক্ষ্য অর্জনের জন্য জাতীয় ওষুধ উপদেষ্টা পরিষদ, প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি, ওষুধের মূল্য নির্ধারণ কমিটি, ওষুধ নিয়ন্ত্রণ কমিটিসহ এক বা একাধিক কমটি গঠন ও কার্যপরিধি নির্ধারণ করতে পারবে।
আইনের অধীনে ওষুধ সম্পর্কিত পরীক্ষা ও বিশ্লেষণ, মূল্যায়ন, গবেষণা ও অন্যান্য কার্যক্রম অথবা সরকার যেভাবে চাইবে সেভাবে অধিদপ্তরের অধীনে একটি জাতীয় নিয়ন্ত্রণ পরীক্ষাগার থাকবে।

[৫] ওষুধ উৎপাদন, আমদানি, রপ্তানি, বিতরণ, মজুত, প্রদর্শন অথবা বিক্রয়ের জন্য লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষের নিবন্ধন থাকতে হবে। লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ ঔষদ নিয়ন্ত্রণ কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে যে কোন ঔষদ নিবন্ধন বাতিল করতে পারবে। তবে কোন ব্যক্তি লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষের আদেশ বা সিদ্ধান্তে সংক্ষুব্ধ হলে আদেশ বা সিদ্ধান্ত দেয়ার দিন থেকে পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে আইনের অধীনে গঠিত আপিল কর্তৃপক্ষের নিকট আপিল করতে পারবেন। আপীল কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তই চূরান্ত এবং পক্ষগণের জন্য অবশ্যই পালনীয়। এর বিরুদ্ধে কোন আদালত, আপীল কর্তৃপক্ষ অথবা অন্য কোন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রশ্ন উত্থাপন করা যাবে না।

[৬] লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষের পূর্ব অনুমতি ছাড়া কোন প্রকার নিবন্ধিত ওষুধ ও কর্তৃপক্ষের অনুমোন দেয়া লাইসেন্স ছাড়া কোন প্রকার ওষুধ আমদানি-রপ্তানি করা যাবে না। লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন ছাড়া কোন ব্যক্তি ওষুধের ব্যবহার অথবা আরোগ্য অথবা চিকিৎসা সংক্রান্ত কোন বিজ্ঞাপন প্রচার করতে পারবেন না।

[৭] লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষের অনাপত্তি গ্রহণ ছাড়া আমদানি করা ওষুধ এবং নিবন্ধিত নয় এমন কোন ওষুধ কোন চিকিৎসক রোগীকে ব্যবহারের জন্য পরামর্শ/ব্যবস্থাপত্র দিতে পারবেন না।

[৮] আইনে সর্বসাধারণের চলাচলে পথে, মহাসড়ক, ফুটপাথ, পার্ক, গণপরিবহন বা বাহনে অ্যালোপ্যাথিক, ইউনানী, আয়ুর্বেদ, হেমিওপ্যাতিক, বায়োকেমিক, হারবাল অথবা অন্য কোন বর্ণনার ফার্মাসিউটিক্যাল বিশেষত্বেও ওষুধ ফেরি করে বিক্রয়, বিতরণ করতে পারবে না। লঙ্ঘনে অনুর্ধ্ব দুই বছর সশ্রম/ কারাদণ্ড অথবা অনুর্ধ্ব দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

[৯] কোন ব্যক্তি অনিবন্ধিত ওষুধ উৎপাদন, আমদানি, বিতরণ, মজুত, প্রদর্শন অথবা বিক্রয় করলে অনুর্ধ্ব ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড অথবা অনুর্ধ্ব ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

[১০] কোন ব্যক্তি লাইসেন্স ব্যতীত বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে কোন প্রকার ওষুধ উৎপাদন/আমদানি করলে অনুর্ধ্ব ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড অথবা অনুর্ধ্ব ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

[১১] কোন ব্যক্তি নিম্নমানের ওষুধ উৎপাদন, মজুত, বিক্রয় করলে অনুর্ধ্ব সাত বছর সশ্রম কারাদণ্ড অথবা অনুর্ধ্ব ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।কোন ব্যক্তি মিসব্র্যান্ডেড ওষুধ উৎপাদন, মজুত, প্রদর্শন, বিক্রয় অথবা বিতরণ করলে অনুর্ধ্ব ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড অথবা ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

[১২] কোন ব্যক্তি ওষুধে ভেজাল দিলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা অনূর্ধ্ব ১৪ বছর সশ্রম কারাদণ্ড অথবা অনুর্ধ্ব ২০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন। ভেজাল ওষুধ মজুত, বিক্রয়, বিতরণ, প্রদর্শন করলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা অনূর্ধ্ব ১৪ বছর সশ্রম কারাদণ্ড অথবা অনুর্ধ্ব ২০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

[১৩] নকল ওষুধ প্রস্তুত/উৎপাদন, মজুত, বিক্রয়, বিতরন, প্রদর্শন করলে করলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা অনুর্ধ্ব ১৪ বছর সশ্রম কারাদণ্ড অথবা অনুর্ধ্ব ২০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন। মেয়াদোত্তীর্ণ তারিখের পর কোন ওষুধ বিক্রয়, মজুত, প্রদর্শন করলে অনূর্ধ্ব তিন বছর সশ্রম কারাদণ্ড অথবা তিন লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

[১৪] লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন ছাড়া কোন ওষুধ অথবা ওষুধ তৈরীর কাঁচামাল অথবা ক্ষেত্রমতে ওষুধের প্যাকেজিং ম্যটেরিয়াল আমদানি করলে অনূর্ধ্ব তিন বছর সশ্রম কারাদণ্ড অথবা অনূর্ধ্ব তিন লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। তাছাড়া আদালতের আদেশ নিয়ে এরূপ সামগ্রী সরকারের অনুক’লে বাজেয়াপ্ত করা হবে।

[১৫] আইনের অধীন নির্ধারিত সর্বোচ্চ মূল্যেও চাইতে বেশিী মূল্যে কোন ওষুধ অথবা ওষুধ তৈরীর কাঁচামাল বিক্রয়/আমদানি করলে অনূর্ধ্ব দুই বছর সশ্রম কারাদণ্ড অথবা অনূর্ধ্ব দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

[১৬] সরকারি ভাণ্ডার, হাসপাতাল, ক্লিনিক, স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে কোন প্রকারের ওষুধ চুরি করে বিক্রয় বা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে নিজ অধিকারে সংরক্ষণ করলে অনূর্ধ্ব ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড অথবা অনূর্ধ্ব ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

[১৭] কোন ব্যক্তি লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন ছাড়া ওষুধের ব্যবহার, আরোগ্য অথবা চিকিৎসা সংক্রান্ত কোন দাবি করে বিজ্ঞাপন প্রকাশ বা প্রকাশে অংশগ্রহণ করলে অনুর্ধ্ব পাঁচ বছর সশ্রম কারাদণ্ড অথবা পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

[১৮] কোন ব্যক্তি অপরাধে দণ্ডিত হওয়ার পর আবার একই অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে আগের আরোপিত দণ্ডের চাইতে বেশি দণ্ডিত হবেন।

[১৯] এই আইনের অধীনে সংগঠিত অপরাধের ক্ষেত্রে মোবাইল কোর্ট আইন (২০০৯ সনের ৫৯ নং আইন) এর তফসিলভূক্ত হলে মোবাইল কোর্ট শাস্তি দিতে পারবে।

[২০] এই আইনে যেসব অপরাধের জন্য অনূর্ধ্ব পাঁচ বছর সশ্রম কারাদণ্ড অথবা অনূর্ধ্ব পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে, সেসব অপরাধ ম্যাজিস্ট্রেট অথবা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কতৃক বিচার করা যাবে।

সম্পাদনা: আখিরুজ্জামান সোহান

 

 

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত