প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] ফটিকছড়িতে বাবা-ছেলে হত্যার রহস্য উদঘাটন করলেন পিবিআই

রিয়াজুর রহমান রিয়াজ: চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে বাবা-ছেলে খুনের চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার রহস্য উদঘাটন নিয়ে বিপাকে পড়ে থানা পুলিশ। মাসখানেক আগে ছেলে হত্যার ও একদিন আগে বাবা হত্যার মামলার তদন্ত ভার নেয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তদন্তভার নিয়েই চাঞ্চল্যকর এই খুনের রহস্য উদঘাটন করে ৩জনকে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই চট্টগ্রাম জেলা।

[৩] হত্যায় জড়িত ৩জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠালে একজন ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

[৪] এক বছর আগে খালে পাওয়া যায় ছেলের গলাকাটা লাশ। চার মাস আগে বাঁশঝাড়ের নিচে মেলে তার বাবার গলাকাটা দেহ। ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর ইউনিয়নের মানিকপুর গ্রামে এজাহার মিয়া (৭০) ও তার ছেলে ফকির আহাম্মদ (৩৩) হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিলো।

[৫] এ ঘটনায় গ্রেপ্তার তিনজন হলেন- মো. ফিরোজ (৩৮), মো. সালাহউদ্দিন প্রকাশ মান্নান (২৮) ও মো. এখলাছ (৩৮)। তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দু’টি ধারাল দা উদ্ধার করা হয়।

[৬] পিবিআই জানিয়েছেন, ফটিকছড়ির কাঞ্চননগর ইউনিয়নের মানিকপুর গ্রামের হলুদ্যাখোলা এলাকায় পাহাড়ি জমি ইজারা নিয়ে ফকির আহাম্মদ একটি কৃষি খামার করেছিলেন। ২০২০ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর নিখোঁজ হন ফকির আহাম্মদ। পরদিন সকালে মানিকপুর সংলগ্ন দুইদ্যাখালে তার গলাকাটা মরদেহ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় তার বাবা এজাহার মিয়া বাদী হয়ে ফটিকছড়ি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর চলতি বছরের ২৪ জুন সকালে নিজের কৃষিজমিতে কাজ করতে গিয়ে আর বাড়িতে ফেরেননি এজাহার মিয়া। পরদিন বিকেল তিনটার দিকে তার মরদেহ জমির পাশে একটি বাঁশঝাড়ের নিচে পাওয়া যায়। এ ঘটনায় তার স্ত্রী নাছিমা বেগম বাদী হয়ে ফটিকছড়ি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। বাবা-ছেলের হত্যার ঘটনা একই সূত্রে গাথা। গ্রেপ্তার তিনজন জানিয়েছে, পাহাড়ে ইজারার জমির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ফকিরকে খুন করা হয়। পরে তারা এজাহারকেও একই কায়দায় খুন করে।

[৭] চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার (পিবিআই) নাজমুল হাসান গনমাধ্যমকে বলেন, বাবা-ছেলের হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে। জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন মো. সালাহউদ্দিন প্রকাশ মান্নান আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। ফিরোজ ও এখলাছকে সাত দিনের রিমাণ্ড আবেদন করা হলে আদালত দু’জনকে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

[৮] হত্যাকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে পিবিআই কর্মকর্তা নাজমুল হাসান বলেন, ‘পাহাড়ি জমি লিজ নিয়ে খামার করেছিলেন ফকির। সেই জমিতে অন্যদের গরু চরাতে দিতেন না তিনি। এ নিয়ে বিরোধের জেরে ভাড়াটে লোকজন দিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। তাকে হত্যার মামলাটির তদন্তভার পিবিআইকে দেওয়ার উদ্যোগ নিলে মামলার বাদি তার বাবাকেও হত্যা করা হয়।

[৯] মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই, চট্টগ্রাম জেলার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কামাল আব্বাস জানান, গ্রেপ্তার তিন জনের মধ্যে দু’জন কিলিং মিশনের সদস্য। এদের মধ্যে সালাহউদ্দিন বুধবার হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। তারা ভাড়াটে হিসেবে হত্যাকাণ্ডে অংশ নেন। কিলিং মিশনে আরও ছয় জন ছিল। তাদের যারা ভাড়া করেছে, তাদের বিষয়ে তদন্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। সম্পাদনা: হ্যাপি

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত