প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কামরুল হাসান মামুন: বাংলাদেশকে কিভাবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ, সভ্য দেশ হিসাবে বিবেচনা করা যায়?

কামরুল হাসান মামুন: সম্প্রতি কুমিল্লায় পূজা মণ্ডপে পবিত্র কোরআন অবমাননার খবর ছড়িয়ে পড়ে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশের অনেক স্থানে পূজা মন্ডপে আক্রমণ, প্রতিমা ভাঙচুর, হত্যার খবরসহ ধর্ষণের খবরও পাওয়া যায়। এরপরও বাংলাদেশকে কিভাবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ, সভ্য দেশ হিসাবে বিবেচনা করা যায়? এইরকম নারকীয় ঘটনার পরেও আমি চারিদিকে শুনশান নীরবতা দেখি। পত্রিকায়ও শুনশান নীরবতা। এই নীরবতা প্রমান করে বাংলাদেশে আসলে কোন বিশ্ববিদ্যালয় নাই। শতাধিক so called বিশ্ববিদ্যালয়ে হাজার হাজার শিক্ষক আর লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী যেই দেশে সেই দেশে এইরকম ঘটনা প্রথমত ঘটারই কথা না। আর ঘটলেও প্রতিবাদে আকাশ বাতাস প্রকম্পিত হতো। রাস্তায় প্রতিবাদে আকাশ বাতাস প্রকম্পিত করাতো দূরে থাক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তেমন কাউকে প্রতিবাদ করতে দেখছি না।

সকালবেলা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির একটা প্রতিবাদলিপি ইমেইলে পেলাম। সেই প্রতিবাদ বিবৃতিটি পড়ে আমি বাকরুদ্ধ। পুরো বিবৃতি জুড়ে কেবল সরকারের বন্দনা আর সরকারকে দোষারূপের উর্ধে রাখার চেষ্টা। একই সাথে এই ঘটনাগুলোকে বিরোধীপক্ষের চক্রান্ত হিসাবে দেখা হয়েছে। বলা হয়েছে একটি গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে দেশের বিরাজমান শান্তিপূর্ণ পরিবেশকে বিঘ্নিত করতে একটি রাজনৈতিক মহল তৎপর। ঠিক এই কারণেই বাংলাদেশে যেই ক্ষমতায় যায় তারাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনীতি ইঞ্জেক্ট করে। আমি নিশ্চিত ক্ষমতায় যদি অন্য বৃহৎ দলটি থাকতো তখনও যদি সরকার সমর্থিতরা শিক্ষক সমিতিতে থাকতো তারাও ঠিক এইভাবেই এই কথাগুলো বলেই বিবৃতি দিত। পুরো বিবৃতিতে পড়লে মনে হয় সমস্যাটা রাজনৈতিক। আর এই দেশে যেকোন সমস্যাকে একবার যদি রাজনৈতিক লেভেল দেওয়া যায় তার আর কোন বিচার হওয়ার নজির খুব একটা বেশি নাই। দেশ এর আগেও এই সরকার কিংবা ওই সরকারের ক্ষমতায় থাকাকালে আরো এমন কিংবা তার চেয়েও নৃশংস ঘটনা ঘটেছে। কোনটির কি বিচার হয়েছে?

কুমিল্লায় কোরআন অবমাননার খবর যখন ছড়ায় তার দুইদিন পর এই হামলাগুলো ঘটে। সরকারের হাতে প্রশাসন, পুলিশ, গোয়েন্দা, দলীয় কর্মী সব। এতসব থাকতে এই ঘটনাগুলো কিভাবে ঘটে? প্রধানমন্ত্রী বা দলের কাউকে কোন অবমাননা করে ফেইসবুকে কিছু লিখলে তাদের খুঁজে বের করে জেলে পুড়তেতো কোন সময় লাগে না। অথচ অতীত অভিজ্ঞতাও যদি কাজে লাগাই আমরা কি জানিনা শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর কিছু ঘটতে পারে। তা সত্বেও কেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি? এই দেশের সকল মানুষের সুরক্ষার দায়িত্ব সরকারের। কেউ ষড়যন্ত্র করে থাকলে তাদের ধরার দায়িত্বও সরকারের। ধরে দৃষ্টান্তমূলক বিচার করার দায়িত্বও সরকারের। আমরা এই ঘটনার বিচার না চেয়ে, প্রতিবাদ না করে যদি কেবল ষড়যন্ত্র দেখি তা খুবই দুঃখজনক। Remember that hiding the problem under the mattress will not help our cause!
জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল নাগরিকের উচিত এইসব নারকীয় ঘটনার বিচার চাওয়া। এই বিচার চাইতে গিয়ে কোন if কিংবা but থাকতে পারেনা। কোন ষড়যন্ত্র খোঁজার বাহানা থাকতে পারে না।

আগে ক্রিমিনালদের ধরুন, বিচার করুন তারপর ষড়যন্ত্রের তত্ব দিন। এখন এই দেশের সমস্যার আসল মূল কোথায়? মূল হলো শিক্ষায়। প্রকৃত শিক্ষায়। মানুষকে অশিক্ষিত বা কুশিক্ষিত বানিয়ে রাখা রাজনীতিবিদদের জন্য লাভ। এরা যখন যেভাবে চায় সেইভাবেই ব্যবহার করতে পারে। বাংলাদেশের সকল দল এইটার সুবিধা নেয়। সেই জন্যই শিক্ষায় এত কম বরাদ্দ দেয়। সেই জন্যই শিক্ষার মান দিন দিন নামিয়ে দেওয়া হচ্ছে। প্রকৃত শিক্ষিতদের দিয়ে যখন যা ইচ্ছে করানো যাবে না। প্রকৃত শিক্ষিতরা বেকার থাকবে না। এইটা বাংলাদেশের রাজনীতিবিদরা ভালোভাবে জানে। জানে বলেই এই দেশের এত সমস্যা। প্রকৃত শিক্ষার অভাবের কারণে মানুষ না পারে প্রকৃত ধার্মিক হতে, না পারে প্রকৃত সৎ নাগরিক হতে।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত