প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রহমান বর্ণিল: ইতোপূর্বে বাংলাদেশে কোরআন পোড়ানোর যতো ঘটনা ঘটেছে

রহমান বর্ণিল: মসজিদে মূর্তি স্থাপন বা ভিন্ন ধর্মের কোনো গ্রন্থ ঢোকানোকে ইসলাম এবং মসজিদের আদবের চরম খেলাপ হিসেবে গণ্য করা হয়। শুধু মুসলমানদের মসজিদই নয়, পৃথিবীর প্রতিটি ধর্মই যেহেতু অন্য ধর্মের সঙ্গে মৌলিক বৈপরীত্য আছে, সেহেতু প্রতিটি ধর্মই ভিন্ন ধর্মের কোনো অনুষঙ্গের প্রবেশকেই নিজ ধর্মের প্রতি অবমাননা হিসেবে বিবেচনা করে। মসজিদে গীতা ঢোকানোকে মুসলমানরা যেমন পাপ মনে করে, অনুরূপ মন্দির বা মপে কোরআন ঢোকানোও সনাতনীরা নিজ ধর্মের অবমাননা হিসেবে বিবেচনা করবে সেটাই স্বাভাবিক। কুমিল্লার পূজামপে কোরআন পাওয়া যাওয়ার যে ঘটনাটি ঘটেছে, মাথায় একেবারে ন্যূনতম ঘিলুও থাকলেও সেটা বোঝার কথা যে এই কোরআন কোনোভাবেই কোনো হিন্দু কর্তৃক এখানে আসেনি। বরং সেটা পরিষ্কার সহিংসতার ষড়যন্ত্র। কিন্তু তারপরও ফেসবুকের মাঠে ইতোমধ্যে রণক্ষেত্র করে ফেলছে মুরক্ষ একটা প্রজন্ম।

বৃহত্তর ধর্মের সমাজের একজন হিসেবে খুব ছোটকাল থেকে দেখে এসেছি আমাদের দেশে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা অত্যন্ত নিরীহ জীবনযাপন করে। সংখ্যায় কম হওয়ায় এবং মুসলমানদের ঈমান সবসময় দাঁড়িয়ে থাকার দরুন এদেশের হিন্দু সমাজের মানুষগুলো সবসময় ভয় এবং আতঙ্কে থাকে, ঝামেলা এড়িয়ে চলতে চেষ্টা করে। এই বিষয়গুলো দেশের সব মানুষেরই জানার কথা। এরকম একটা পরিস্থিতিতে কোনো হিন্দু ধর্মাবলম্বী মুসলমানদের কোরআন শরীফ পূজামপে নিয়ে যাওয়া এবং সেটা প্রকাশ্যে দেবীর চরণে স্থাপন করার সাহস করবে এই কথা কস্মিনকালেও কেউ বিশ্বাস করার কথা নয়। তারপরও মপে কোরআন পাওয়া গেছে শুনে ইতোমধ্যে তারা জিহাদের প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছে।

ঘটনার এখনো ঘণ্টাকাল পার হয়নি, ইতোমধ্যে সাতটি মন্দির ভাঙচুর হয়েছে। রাত হতে হতে হিন্দুপাড়ায় ভাঙচুর, আগুন, সাধারণ হিন্দু ধর্মাবলম্বী নির্যাতন, ঠাকুর পুরোহিত খুনের ঘটনা ঘটলেও আশ্চর্য হওয়ার কিছু থাকবে না। ইতোপূর্বে বাংলাদেশে কোরআন পোড়ানোর যতো ঘটনা ঘটছে সেসবের সঙ্গে কোনো হিন্দু ধর্মাবলম্বীর সম্পৃক্ততা ছিলো না। সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে বা ইসলামের এক তরিকা আরেক তরিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে নিজেদের কোরআন নিজেরাই পুড়িয়েছে, নিজেদের মসজিদ নিজেরাই ভেঙেছে, আগুন দিয়েছে। এবারও সনাতনীদের শান্তিপূর্ণ উৎসবে রাষ্ট্রকে বেকায়দায় ফেলতে এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে মুসলমানদের মধ্য থেকেই কেউ কোরআনকে ব্যবহার করেছে, অবমাননা করেছে। সেটা চোখ বন্ধ করে বলে দেওয়া যায়। শুধু সংশ্লিষ্টদের বিচারের আওতায় আনলে সমস্যার সমাধান হবে না। কোনো একটি ঘটনা ঘটতে না ঘটতে সেটার আদ্যোপান্ত না জেনে, কিছু না বুঝে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জিহাদের ডাক দেওয়া গোষ্ঠীকেও শনাক্ত করতে হবে। কোরআন অবমাননার চেয়ে দেশের শান্তি বিনষ্ট করাও কোনো অংশেই কম অপরাধ নয়। কোনোটিকেই লঘু করে দেখার অবকাশ নেই।

সর্বাধিক পঠিত