প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নারীদের অনলাইন বৈষম্যে ৩২ দেশ ১ ট্রিলিয়ন ডলার হারিয়েছে

রাশিদ রিয়াজ : গত ১০ বছরে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের এসব দেশ এই আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। এর কারণ নারীদের অনলাইনে আরো বেশি করে সুযোগ করে না দেওয়া। দেশগুলির মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ, ভারত, নাইজেরিয়া এবং ফিলিপাইন। ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব ফাউন্ডেশন ও অ্যালায়েন্স ফর অ্যাফোর্ডেবল ইন্টারনেটের এ প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে ডিজিটাল অর্থনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণে বাধা দেওয়ায় গত বছর বিশ^ জিডিপি ১২ হাজার ৬০০ কোটি ডলার কম হয়েছে। নারীদের ইন্টারনেটে সুযোগ করে না দেয়ার ফলে এধরনের ডিজিটাল বৈষম্যের সৃষ্টি হচ্ছে এবং এর ফলে এত বিশাল পরিমান আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে দেশগুলোর সরকারগুলোকে। আগামী ৫ বছরে যদি এধরনের বৈষম্য হ্রাস করতে পারে তাহলে দেশগুলোর অর্থনীতিতে ৫২৪ বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত যোগ হবে।

কিন্তু মুস্কিল হচ্ছে নারীদের ইন্টারনেট ব্যবহারে বাধা যেমন প্রয়োজনীয় অবকাঠামোয় বিনিয়োগ, স্বচ্ছ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ এবং নারীদের ডিজিটাল দক্ষতা ও স্বাক্ষরতা বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে নীতিমালা এসব দেশে এখনো প্রণয়ন করা হয়নি। নারী অধিকার প্রচার-প্রসারের পাশাপাশি নিরাপত্তা ও সুরক্ষাবিষয়ক দিকগুলো নিশ্চিত করা জরুরি। এবং পুরুষদের প্রায় অর্ধেক ইন্টারনেটে যুক্ত হলেও নারীদের বেলায় পরিমাণটা এক-তৃতীয়াংশের কিছু বেশি। ২০১১ সালের পর এ ব্যবধান না কমায় দেশগুলোর সরকার প্রতিবছর ২ হাজার ৪০০ কোটি ডলার কর থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে।

ওয়েব ফাউন্ডেশনের গবেষণাবিষয়ক পরিচালক ক্যাথেরিন অ্যাডেয়া জানান, ডিজিটাল লিঙ্গবৈষম্য দূর করার মানে হচ্ছে নৈতিক লক্ষ্য অর্জনের সঙ্গে সঙ্গে উদ্যোক্তার বিকাশ হওয়া। ইন্টারনেট শিক্ষা, ব্যবসায় ও কমিউনিটি মবিলাইজেশনের পথ সুগম করায় এক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমান অংশগ্রহণ অনিবার্য হয়ে উঠেছে। ক্যাথেরিন আরো বলেন, যেসব রাষ্ট্র নারীদের ডিজিটাল বিপ্লবে পূর্ণোদ্যমে অংশ নেওয়ার সুযোগ দিচ্ছে তারা তাদের সৃজনশীলতা ও উৎপাদনশীলতার সাথে সম্পৃক্ত করতেও সমর্থ হয়েছে। এসব দেশ ডিভাইস ও ইন্টারনেট ডেটা প্যাকেজ সুলভ করেছে। অথচ নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলো এধরনের অগ্রযাত্রা থেকে পিছিয়ে রয়েছে কারণ এসব দেশে সামাজিক রীতিনীতিও নারীদের ইন্টারনেট ব্যবহারে অনুৎসাহিত করে। ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা, সুরক্ষা ও নিরাপত্তার বিষয়টিও আরেক ধরনের খড়গ হয়ে নারীদের মাথার ওপর ঝুলছে। বাংলাদেশের নারীরাও ইন্টারনেট নিরাপত্তার সঙ্গে ব্যবহার করতে পারছে না। বিশেষ করে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু পোস্ট করার সময় তাদের মনে ভয় কাজ করে।

বিশ্বব্যাংকের ডিজিটাল উন্নয়নবিষয়ক পরিচালক বউথিনা গেরমাজি বলেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল ভবিষ্যতে বিনিয়োগ করলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষা, রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং উপার্জনে অসমতার মতো সমস্যাগুলো সমাধান দিয়ে আদর্শ সমাজ গড়ার সুযোগ পাবেন রাষ্ট্রনেতারা।

গবেষণায় বাংলাদেশসহ ৩২টি নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশের তথ্য ব্যবহার করে জানানো হয়, পুরুষদের প্রায় অর্ধেক ইন্টারনেটে যুক্ত হলেও নারীদের বেলায় পরিমাণটা এক-তৃতীয়াংশের কিছু বেশি। ২০১১ সালের পর থেকে এ ব্যবধানে তেমন পরিবর্তন আসেনি। এতে এ দেশগুলোর সরকার প্রতিবছর ২ হাজার ৪০০ কোটি ডলার কর থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে।

ওয়েব ফাউন্ডেশনের গবেষণাবিষয়ক পরিচালক ক্যাথেরিন অ্যাডেয়া জানান, ডিজিটাল লিঙ্গবৈষম্য দূর করা কেবল নৈতিক লক্ষ্য নয়, এর পেছনে অর্থনৈতিক দিকও রয়েছে। ইন্টারনেট এখন যেহেতু শিক্ষা, ব্যবসায় ও কমিউনিটি মবিলাইজেশনের পথ সুগম করেছে, তাই সবাইকে ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ করে দেওয়ার ব্যর্থতা মানে সবার সম্ভাব্য অবদান না পাওয়া।

ক্যাথেরিন অ্যাডেয়া বলেন, যে রাষ্ট্রগুলো নারীদের ডিজিটাল বিপ্লবে পূর্ণোদ্যমে অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দেয়, তারা সৃজনশীলতা ও উৎপাদনশীলতার পথ উন্মোচন করে।

নারীদের ইন্টারনেট ব্যবহার ও অনলাইনে যুক্ত হওয়ার বাধাগুলো উল্লেখ করেন গবেষণাপত্রের লেখকেরা। সেখানে ডিভাইস ও ইন্টারনেট ডেটা প্যাকেজ সুলভ নয় বলা হয়েছে। শিক্ষা ও ডিজিটাল দক্ষতায় অসমতাও একটি কারণ। তা ছাড়া সামাজিক রীতিনীতিও নারীদের ইন্টারনেট ব্যবহারে অনুৎসাহিত করে। ইদানীং ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা, সুরক্ষা ও নিরাপত্তার ব্যাপারটিও বড় হয়ে উঠেছে। আবার ডিজিটাল লিঙ্গবৈষম্য দূরীকরণে দেশগুলোর সরকার প্রয়োজনীয় নীতিমালা গ্রহণ করছে না বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলাদেশের নারীরাও ইন্টারনেট বা অনলাইনজগৎ তাদের জন্য নিরাপদ নয় বলে উল্লেখ করেন গবেষণাপত্রে। বিশেষ করে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু পোস্ট করার সময় তাদের মনে ভয় কাজ করে।

বিশ্বব্যাংকের ডিজিটাল উন্নয়নবিষয়ক পরিচালক বউথিনা গেরমাজি বলেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল ভবিষ্যতে বিনিয়োগ করলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষা, রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং উপার্জনে অসমতার মতো সমস্যাগুলো সমাধান দিয়ে আদর্শ সমাজ গড়ার সুযোগ পাবেন রাষ্ট্রনেতারা। এজন্যে তাদের ব্রডব্যান্ড নীতি প্রণয়নে নজর দিতে হবে। কারণ বিশে^ এখনো বিলিয়ন বিলিয়ন মানুষ স্মার্টফোন ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছে না। গবেষণায় আরো বলা হয় জাতিসংঘের যে ইন্টারনেট অধিকারের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে তা থেকেও অনেক দেশ পিছিয়ে রয়েছে। ওয়েব ফাউন্ডেশনের সিনিয়র গবেষক টেডি উডহাউস বলেন শুধু নীতি প্রণয়ন নয় মনে রাখতে হবে ডিজিটাল বৈষম্য হ্রাস মানেই ভাল অর্থনীতি। অনলাইন বিশে^ নারী ও মেয়েদের সংযুক্ত করতে পারলেই কেবল তা অর্জন করা যেতে পারে।

 

সর্বাধিক পঠিত