শিরোনাম
◈ জি এম কাদেরের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনে বাধা নেই : হাইকোর্ট ◈ ১০ টাকায় টিকিট কেটে চক্ষু পরীক্ষা করালেন প্রধানমন্ত্রী ◈ বন্দি জঙ্গিরা যেন রাষ্ট্রবিরোধী তৎপরতা চালাতে না পারে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারি: ৩ মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করতে নির্দেশ ◈ মুজিব কোট পরলেই মুজিব সৈনিক হওয়া যায় না: কাদের ◈ ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টা মামলায় সাক্ষ্য দিলেন পরীমণি ◈ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগকারিদের জন্য বিশেষ সুযোগ  ◈ রংপুর সিটি নির্বাচনে মোস্তাফাকে লাঙ্গলের মেয়র প্রার্থী ঘোষণা রওশনের ◈ পুলিশে ছেয়ে গেছে চীনের রাজপথ ◈ টাঙ্গাইলে বাসচাপায় দুই ব্যাংক কর্মকর্তা নিহত

প্রকাশিত : ১১ অক্টোবর, ২০২১, ১১:০৯ রাত
আপডেট : ১১ অক্টোবর, ২০২১, ১১:৫১ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

[১] সহিংসতার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে আসার পথে সিডনিতে আটক নওরোজ আমিনের ৫ বছরের কারাদণ্ড

খালিদ আহমেদ: [২] সোমবার পাঁচ বছরের কারাদ দিয়েছেন নিউ সাউথ ওয়েলস সুপ্রিম কোর্ট।

[৩] অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যম এবিসি জানায়, ২০১৬ সালের ফেব্রæয়ারিতে বাংলাদেশে আসার পথে সন্দেহজনক মনে হওয়ায় নওরোজ আমিনকে সিডনি বিমানবন্দরে আটক করা হয়। সে সময় তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যাগে আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) প্রকাশিত ম্যাগাজিন, সন্ত্রাসবাদ সম্পর্কিত বিভিন্ন উপকরণ ও ইউএসবি ড্রাইভ পাওয়া যায়। দীর্ঘ তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া শেষে নওরোজ শিকার করেছেন যে, তিনি সন্ত্রাসী কর্মকা যুক্ত হওয়ার উদ্দেশেই ভ্রমণ করছিলেন। এর সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে কাস্টমস আইনেও একটি মামলা ছিল।

[৪] তদন্তে জানা যায়, বাংলাদেশে অবস্থানকারী কয়েকজনের সঙ্গে তিনি কিছু সাংকেতিক ভাষায় কথা বলেছিলেন। এর মধ্যে বিস্ফোরক বানানোর পদ্ধতি শেখার বিষয়ে তিনি ‘রান্না শিখছি’ এবং ‘রেস্তোরাঁ খুলতে যাচ্ছি’-এর মতো সাংকেতিক ভাষা ব্যবহার করেন। তবে জিজ্ঞাসাবাদে নিজে কোনো জঙ্গি হামলার পরিকল্পনা করেননি বলে দাবি করেন নওরোজ। তাঁর দাবি, তিনি বাংলাদেশে এমন কাউকে খুঁজেছিলেন, যিনি এমন কিছু করতে পারবেন। তিনি নিজেই এমন হামলা করবেন, এমন কিছু ভাবেননি।

[৫] সোমবার রায় ঘোষণার সময় বিচারক পিটার গার্লিং বলেন, নওরোজ আমিনের লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশের সরকার। তিনি এখানে কোনো হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন কিনা, তা প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছেন তদন্তকারীরা। অভিযুক্ত বলেছেন, মুসলিমরা, বিশেষত রক্ষণশীল মুসলিমেরা বৈষম্যের শিকার বলে তিনি দৃঢ়ভাবে মনে করেন। এমন অনুভূতি থেকেই তিনি চরমপন্থার কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন। কিন্তু বাংলাদেশে যাওয়ার উদ্দেশে ভ্রমণের আগে এমন কিছুর সঙ্গে তাঁর সংযোগ ঘটেনি।

[৬] বিচারক তাঁর রায়ে বলেছেন, নওরোজ আমিন যখন আটক হয়েছেন, তখন তাঁর কাছে কোনো অস্ত্র পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার তেমন ‘সুনির্দিষ্ট প্রস্তুতিও’ তাঁর ছিল না। কট্টর ভাবাদর্শ পোষণের পেছনে কিছু কারণ করেছে। এর মধ্যে ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতি উল্লেখযোগ্য, যার মধ্য দিয়ে তিনি বেড়ে উঠেছেন। কিন্তু তিনি এখন অনুতপ্ত এই কারণে যে, মুসলমানেরা সহিংস এই গৎবাঁধা ধারণাকেই তিনি তাঁর কাজ দিয়ে আরও দৃঢ় করেছেন। বিচারক বলেছেন, ‘নওরোজ আমিন জঙ্গিবাদী ধারণা ত্যাগ করেছেন বলে আমি বিশ্বাস করি।’

[৭] এই কারণে বিচারে তাঁকে কিছু ছাড় দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের অপরাধের কারণে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন সাজা হওয়ার বিধান থাকলেও নওরোজ আমিনের অপরাধকে তুলনামূলক লঘু হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। একই সঙ্গে পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই এর সুরাহা সম্ভব বলেও মত দেওয়া হয়েছে। তাঁকে পাঁচ বছরের কারাদ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে এক বছর প্যারোলে থাকতে পারবেন তিনি।

[৮] আগামী বছরের জুন মাসেই নওরোজের চার বছর পূর্তি হতে যাচ্ছে। আর এরই মধ্যে তিনি পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েও গেছেন। ফলে সব ঠিক থাকলে আগামী জুনে তিনি প্যারোলে মুক্তি পেতে পারেন।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়