প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ত্রাণ চুরিতে অভিযুক্তদের মিলছে না মনোনয়ন

নিউজ ডেস্ক : আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে ত্রাণ চুরির অভিযোগকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। যেসব চেয়ারম্যান বা নেতার বিরুদ্ধে ত্রাণ চুরির অভিযোগ রয়েছে তাঁদের এবার মনোনয়ন দেওয়া হচ্ছে না। তাঁদের বদলে এবার তরুণ আওয়ামী লীগ নেতা কিংবা সহযোগী সংগঠনের নেতাদের মনোনয়ন দেওয়া হচ্ছে। গতকাল শুক্রবার এমন নীতি নিয়ে তিন বিভাগে আওয়ামী লীগের প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে দলটির স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ড। কালের কণ্ঠকে এমনটা জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ডের একাধিক সদস্য। কালের কণ্ঠ

গতকাল বিকেল ৪টায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে দ্বিতীয় দিনের মতো স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ডের সভা শুরু হয় এবং শেষ হয় রাত সাড়ে ১০টার দিকে। সভায় সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকালের সভায় বরিশাল বিভাগের ৪৮ ইউনিয়ন পরিষদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়। এদিন ঢাকা ও খুলনা বিভাগের প্রার্থী চূড়ান্ত করার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত এ বিভাগ দুটির অর্ধেকের বেশি প্রার্থী চূড়ান্ত করেই সভা মুলতবি ঘোষণা করা হয়। আজ বিকেল ৪টায় এ সভা আবার বসবে।

সভায় উপস্থিত আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে কভিড মহামারিতে জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। যাঁরা ত্রাণসামগ্রী চুরি করেছেন তাঁদের কাউকেই আমরা মনোনয়ন দিচ্ছি না। আবার যেসব নেতা মহামারিকালে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন তাঁদের মূল্যায়ন করা হচ্ছে। যেসব ইউনিয়ন পরিষদে প্রার্থী পরিবর্তন করা হচ্ছে সেখানে তরুণ নেতাদের মূল্যায়ন করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনগুলোর কোনো যোগ্য নেতা পাওয়া গেলে তাঁদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই নেতা বলেন, ‘আমরা তৃণমূলে বদনাম ঘোচাতে চাই। কোনো ব্যক্তির অপকর্মের দায় আমরা নিতে চাই না। যাঁরা মহামারি পরিস্থিতিতে ত্রাণ চুরি করে আওয়ামী লীগকে বিব্রত করেছেন তাঁদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।’

সভায় উপস্থিত ছিলেন এমন একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘এবার শিক্ষিত অনেক নেতা ইউপিতে চেয়ারম্যান হওয়ার জন্য আবেদন করেছেন। আমরা চেষ্টা করছি এসব নেতাকে মূল্যায়ন করতে। উচ্চশিক্ষিত নেতারা তৃণমূলে মনোনয়ন পেলে রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আসবে। এ বিবেচনায় তাঁদের মূল্যায়ন করা হচ্ছে।’

আওয়ামী লীগের সূত্রগুলো জানায়, গতকাল দলটির স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ডের সভায় প্রার্থী চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে আগের দিন বৃহস্পতিবারের মতোই নারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। যেসব ইউপিতে যোগ্য নারী প্রার্থী পাওয়া গেছে সেখানে তাঁদের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন ঘোষিত দ্বিতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দেশের আট বিভাগে ৮৪৮ ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১১ নভেম্বর। সেই নির্বাচন সামনে রেখে দলীয় প্রার্থী বাছাই করছে আওয়ামী লীগ। গত বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ডের সভায় রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ইউনিয়নগুলোতে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়। এখনো ঢাকা বিভাগের ১৭৬ ইউনিয়ন পরিষদ, বরিশাল বিভাগের ৪৮, খুলনা বিভাগের ১৩৩, চট্টগ্রাম বিভাগের ১৬৫, সিলেট বিভাগের ৪৫ এবং ময়মনসিংহ বিভাগের ৮৪ ইউনিয়ন পরিষদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ঘোষণা বাকি রয়েছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত