প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

প্রবীর বিকাশ সরকার: বঙ্গবন্ধুর রাষ্ট্র গঠনের পরিকল্পনা তথা বাকশাল সম্পর্কে চৌম্বক স্বপ্নটাকে তুলে ধরেছেন

প্রবীর বিকাশ সরকার: মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন শুনলাম। তাকে ধন্যবাদ জানাই এ ধরনের আয়োজনে সশরীরে আসন গ্রহণ করে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য। অন্ততপক্ষে, তিন মাসে একবার এ ধরনের সংবাদ সম্মেলন করা জরুরি। কেননা দেশের সার্বিক অবস্থা ও পরিস্থিতির সংবাদ প্রধানমন্ত্রীর কর্ণে বা চোখের সামনে যে তুলে ধরা হয় না, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। কাজেই সাংবাদিকরাও সুযোগ পাবেন নানা সমস্যা তুলে ধরার জন্য। সংবাদ সম্মেলনে আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে, বঙ্গবন্ধুর রাষ্ট্র গঠনের পরিকল্পনা তথা বাকশাল সম্পর্কে চৌম্বক স্বপ্নটাকে তুলে ধরে সহজভাবে ব্যাখ্যা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এতে অনেক ইতিহাসকানার দৃষ্টি খুলবে।

বাংলাদেশে এখন উন্নয়নের উৎসব চলছে। সেই উৎসব যাতে সফল হয় তার জন্য প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা আরো জোরালো করা জরুরি বলে মনে করি। কেউ স্বেচ্ছায় দেশের জন্য কাজ করছে বা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ মান্য করছে এমন উদাহরণ খুবই কম। এটা বাস্তবতা। উন্নয়ন একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। একে ধরে রাখার জন্য, প্রকল্পগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত সকল কর্মকর্তাকে জবাবদিহিতা এবং জরিমানার আওতায় না আনা পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন বলি আর দেশের জন্য কিছু করার সদিচ্ছার কথা বলি, কোনোটাই সফল হবে বলে প্রতীয়মান হয় না। কাজের ভুলভ্রান্তি, নির্দেশের প্রতি অবজ্ঞা, অবহেলা প্রদর্শন সব দেশের সব জাতির মধ্যেই কমবেশি বিদ্যমান। যেসব দেশে এর জন্য জবাবদিহিতা ও জরিমানা রয়েছে সেসব দেশ উন্নতির শিখরে পৌঁছেছে।

জাপানের উন্নতির ইতিহাস তাই বলে। শুধু প্রকল্পের ক্ষেত্রেই নয়, দুর্নীতি নেই এমন কোনো সরকারি ও বেসরকারি সেক্টর বাংলাদেশে আর আছে বলে মনে হয় না। মহামারির আকার ধারণ করেছে সর্বত্র ছোট, বড় এবং মেগা করাপশন। দেশ-বিদেশে বাংলাদেশের দুর্নীতি নিয়ে গণমাধ্যম সরব। যা সম্মানজনক নয়, নয় আস্থা ও বিশ্বাসের জন্য উত্তম। দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সরকার এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ তহবিল থেকে অর্থ বরাদ্দ এবং তহবিল গঠন করে আর্থিক সহযোগিতা করছেন। এর জন্য তাকে সাধুবাদ জানাতেই হয়। কিন্তু শুধু দিলেই যে যথার্থভাবে তা ব্যবহৃত হচ্ছে, উন্নতির উদাহরণ সৃষ্টি হচ্ছে বা সাফল্য লাভ করছে তার প্রমাণ দৃষ্টিগোচর হচ্ছে না। প্রতিদিন সংবাদপত্র খুললেই অর্থ আত্মসাৎ, চুরি, হয়রানি, অপচয়ের সংবাদে আমাদের চোখ কপালে ওঠে যায়! এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণের উপায় হচ্ছে, জবাবদিহিতা এবং জরিমানা। এর বিকল্প নেই। এটা অভ্যাসে পরিণত করা ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন স্বপ্নেই থেকে যাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা বিদ্যমান। আপনারও কী তাই মনে হয় না? লেখক : রবীন্দ্রগবেষক

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত