প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দীপক চৌধুরী: মানুষের কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করার ব্রত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার

দীপক চৌধুরী: আলোচনায় এখন নির্বাচন কমিশন। আগামী নির্বাচনের জন্য যে নির্বাচন কমিশন গঠিত হবে, সেটা নতুন আইন প্রণয়নের মাধ্যমে হবে, নাকি আগের মত সার্চ কমিটির মাধ্যমে হবে এমন একটি প্রশ্ন এখন অনেক জায়গাতেই আলোচিত হয়ে থাকে। কারণ, বিএনপি প্রকাশ্যে ও কঠিনকণ্ঠে বলে যাচ্ছে যে, বর্তমান নির্বাচন কমিশন দিয়ে সঠিকভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ সম্ভব নয়। এর অধীনে নির্বাচনে যাবে না দলটি। ফলে এটি এখন বড় একটি বিষয় হয়ে উঠেছে। মানুষের মধ্যে দ্বিধাদ্বন্দ্ব সৃষ্টি করা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে গত ৪ অক্টোবর গণভবনের সংবাদ সম্মেলনে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে জানতে চেয়েছিলেন এক সাংবাদিক। জবাবে শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘রাষ্ট্রপতি একটা সার্চ কমিটি করবেন। তার মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন গঠন হবে।’

আমরা জানি, দেশের ইতিহাসে নির্বাচন কমিশনকে কী উলঙ্গভাবে জিয়া, এরশাদ ও খালেদা জিয়া নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করেছেন। এ কারণেই “ভোট ডাকাতি”র নির্বাচন করতে পেরেছেন তারা। ১ কোটি ২৭ লাখ ভুয়া ভোটার দিয়ে জালিয়াতি করেছিল বিএনপি। এটা প্রমাণিত সত্য যে, এনআইডি কার্ড গঠনের পর এদের বাদ দেওয়া হয়। এটাও আমরা জানি, সংবিধান অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের এখতিয়ার রাষ্ট্রপতির হাতে যায়। কে এম নূরুল হুদা নেতৃত্বাধীন ৫ সদস্যের বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি। তার আগেই নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের কাজটি সারতে হবে। গেল এক দশকে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান ২০১২ সালে এবং বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ২০১৭ সালে অধিকাংশ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ করে সার্চ কমিটির মাধ্যমে সর্বশেষ দুই নির্বাচন কমিশন নিয়োগ দিয়েছিলেন। সার্চ কমিটি গঠিত হয়ে জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে; নাম প্রস্তাব করবে। এরপর বাছাই পর্ব। শেষে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে সিইসি ও ইসির নাম প্রকাশ করার কথা। এই প্রক্রিয়ার বিধান যেখানে রয়েছে সেখানে কেনো নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে প্রশ্ন? এখানেও গভীর ষড়যন্ত্র বিদ্যমান বলে আওয়ামী লীগ থেকে শোনা যায়। তাদের কথায় যুক্তিও আছে।

আমরা দেখেছি, ধর্মান্ধ ও অপশক্তির বিরুদ্ধে এখনও আন্দোলন করতে হয়। এখনও তারা গুজব ছড়ায়, মিথ্যাচার করে, দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করতে কৌশল করে চলেছে একটি মহল। প্রগতিশীল আন্দোলনের মানুষ, বুদ্ধিজীবী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদেরকে হত্যা করা হয়। বাজার-হাট সর্বত্র কিছু দিন ধরে গুজব চলেছে, “এই সরকার তো ডিস লাইন বেইচ্যা ফেলছে।” আসলে সত্য ঘটনাটা কী তা কিন্তু তারা প্রচার করে না। কী রকম জঘন্য কাণ্ড। তারা পদ্মা সেতু, ছেলে ধরা, ধর্মীয় বিষয়সহ বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে গুজব ছড়িয়েছে। সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করতে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপনের বিরোধিতাও করেছে।

গভীরভাবে খেয়াল করলে বোঝা যায়, নির্বাচন আসার আগে আগে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র চালায় চক্রান্তকারীরা। এবং এটি মুক্তিযুদ্ধেও পক্ষশক্তি ও প্রগতিশীতার বিরুদ্ধে। এটা সত্য যে, যেকোনোভাবে আওয়ামী বিরোধী শক্তিগুলো ক্ষমতায় যাওয়ার লক্ষ্যে নানান ধরনের ষড়যন্ত্র করে চলেছে অতীতে। তাদের এই ষড়যন্ত্র চলমান। প্রগতিশীল শক্তিগুলো নিজেদের মধ্যে ঐক্য ধরে না রাখতে পারলে অপশক্তির বিরুদ্ধে টিকে থাকা কঠিন হয়ে যাবে। স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি, রাজাকার-আলবদর ও ধর্মান্ধরা আবার ক্ষমতা দখল করতে একজোট। সুতরাং আমাদের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। দেশের জনগণকে বিপদের মুখে ফেলবার জন্য যারা চক্রান্ত করছে তারা মানুষের শান্তি চায় না, ক্ষমতা চায়। অন্যদিকে মানুষের কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করার ব্রত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আজীবন একটিই সাধনা করেছেন, বাঙালির মুক্তির জন্য নিজকে উৎসর্গ করা। ধাপে ধাপে প্রতিটি সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন। মানুষের মুক্তি ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতার জন্য প্রতিটি ক্ষেত্রে কাজ করেছেন। ষড়যন্ত্রকারীরা যখন কোনোভাবেই তাঁর জনপ্রিয়তা কমাতে পারছিলো না তখন শেষকালে ঘাতকরা তাঁকে হত্যা করলো। ঘাতকদের হাতে জীবন দিয়ে গেছেন বাঙালির জন্য। তিনি স্বাধীন দেশ দিয়েছেন। আর তাঁর সুযোগ্যকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাঙালির অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে একের পর এক কাজ করে যাচ্ছেন। প্রতিবারই জনগণ তাঁকে নির্বাচিত করছে। চারবারের প্রধানমন্ত্রী তিনি। বঙ্গবন্ধুকন্যার নিরন্তর বিশ্রামহীন এমন কর্মজীবন মানুষের জন্য। অতিমারি করোনাকালেও সারাদেশের মানুষের সার্বিক অবস্থার খোঁজ রেখেছেন। সকল সেক্টরে সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন। কখনো ব্যক্তিগত, কখনো রাষ্ট্রীয়। বিশে^র রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের কাছে বাংলাদেশ উন্নয়নের ‘রোল মডেল’। সারাবিশে^ আলোচিত দেশরত্ন শেখ হাসিনা। সমালোচকদের গাত্রদহ এটা। ‘ডিজিটাল’ বাংলাদেশ গড়ার প্রাক্কালে কতরকম কথা শুনতে হয়েছে তাঁকে। আর আজ? গণমানুষের একমাত্র আস্থা তাঁকে নিয়েই।

লেখক : উপসম্পাদক, আমাদের অর্থনীতি, সিনিয়র সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক

 

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত