প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] যেভাবে হোক কিশোর গ্যাং কালচার নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে: র‌্যাব ডিজি

সুজন কৈরী: [২] র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) মহাপরিচালক (ডিজি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেছেন, যেভাবেই হোক কিশোর গ্যাং কালচার নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। এর জন্য জনসচেতনতার প্রয়োজন। আমাদের তরুণ প্রজন্মকে কোনোভাবে আমরা ব্যর্থ হতে দিতে পারি না।

[৩] শনিবার (০২ অক্টোবর) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (এফডিসি) ‘কিশোর গ্যাং বৃদ্ধির কারণ’ নিয়ে আয়োজিত ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আয়োজক সংগঠন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।

[৪] র‌্যাব ডিজি বলেন, কিশোর গ্যাং কালচার ও কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করতে ২৭২ জনের বেশি কিশোর গ্যাং সদস্যকে র‌্যাব আটক করেছে। জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ, জলদস্যু নির্মূলে র‌্যাব অনেক কাজ করছে। সমাজের মূল ধারায় জলদস্যু ও জঙ্গিবাদে জড়িতদের নিয়ে আসার চেষ্টা করছে। অনেকে এসব পথ থেকে ফিরে এখন স্বাভাবিক জীবনযাপন করছে।

[৫] র‌্যাব মহাপরিচালক বলেন, আমাদের গর্ব পারিবারিক বন্ধন। পারিবারিক বন্ডিংয়ের কারণে অনেক নেতিবাচক কাজে আমরা জড়াতে পারি না। এরপরও অনেক কিছু ঘটছে। কিশোররা কেন গ্যাং কালচারে জড়াচ্ছে তা খুঁজে বের করতে হবে। আমাদের সবারই অনেক দায়িত্ব আছে। সবার যথাযথ ভূমিকাটা পালন করতে হবে।

[৬] র‌্যাব ডিজি বলেন, আমরা যা করতে পারিনি তা এই প্রজন্মের সন্তানদের মধ্য দিয়ে দেখতে চাই। আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্ম যাতে কোনও লজ্জাজনক পরিবেশ তৈরি না করে, সেদিকে পিতামাতাসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে নজর রাখতে হবে। পারিবারিক বন্ধনের অভাবে যাতে শিশু কিশোররা বিপথে না যায় সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি। প্রযুক্তি যাতে কিশোর ও তরুণদের বিপথে না নেয় তার জন্য সোশ্যাল মিডিয়ার অপব্যবহার প্রতিরোধ করতে হবে। তবে প্রযুক্তিকে বাদ দিয়ে দিলে আমরা পিছিয়ে পড়বো। এর ভালোদিকটা গ্রহণ করে মন্দ দিকটা পরিহার করতে হবে।

[৭] তিনি বলেন, যারা সোশ্যাল মিডিয়ার অপব্যবহারের মাধ্যমে গ্যাং কালচারে জড়িয়ে পড়ছে তাদের নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বদা সতর্ক রয়েছে। যেভাবেই হোক কিশোর গ্যাং কালচার নিয়ন্ত্রণে আনা হবে। তরুণ প্রজন্মকে ব্যার্থ হতে দেওয়া যাবে না। আমাদের পারিবারিক বন্ধন ও পারিবারিক ঐতিহ্য সারা পৃথিবীতে প্রশংসিত। সেই পারিবারিক পরিবেশ আজ অনেকটাই শিথিল। পারিবারিক বন্ধন সুদৃঢ় করে এবং খেলাধূলা ও সাংস্কৃতিক চর্চার পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে কিশেরদের সুস্থ জীবন সুনিশ্চিত করতে হবে।

[৮] র‌্যাব মহাপরিচালক বলেন, যেখানেই কিশোর গ্যাং কালচার রয়েছে সেখানে কিন্তু আমাদের তরুণ কিশোররা বিপথে পা বাড়াচ্ছে। আমাদের সামাজিক যে স্বাভাবিক আচার-আচরণ, তার বাইরে গিয়ে তারা বিচ্যুত পথে যাচ্ছে। আমরা নিশ্চয়ই মাথা ব্যথার জন্য মাথা কাটা নয়, মাথা ব্যথার ওষুধ দেব। বিচ্ছিন্নতাবোধ থেকে বের হতে হবে। দেশে বই পড়া খেলাধুলা আমাদের বাড়াতে হবে।

[৯] চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেন, আমাদের একটি বড় সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় সমস্যা ছিলো জঙ্গীবাদ, জলদস্যু ও বনদস্যুদের ভয়ঙ্কর আধিপত্য। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর তৎপরতায় বর্তমানে তা অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত। জঙ্গীবাদ দমন হয়েছে, জলদস্যু ও বনদস্যুরা আত্নসমর্পণ করে সমাজের মূল ধারায় ফিরে এসেছে। একইভাবে গ্যাং কালচারের সাথে যুক্ত কিশোরদেরকেও আমাদের সুস্থ সমাজ ও জীবনে ফিরিয়ে আনতে হবে।

[১০] প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ একটি উন্নত দেশে পরিণত হতে যাচ্ছে। এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা পূরণে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। বিভিন্ন সূচকে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য কিন্তু সমাজের নারী-পুরুষ কিশোর-তরুণ সবারই দরকার আছে। সবাই মিলেই আমাদের স্বপ্নের সোনার বাংলা।

[১১] সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপব্যবহারের কারনে কিশোর গ্যাং কালচার নিয়ন্ত্রণ করতে হিমশিম খেতে হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে। টিকটক সহ বিতর্কিত বিভিন্ন অ্যাপসের অপব্যবহারের কারনে অনৈতিক কর্মকান্ডের ফাঁদে ফেলা হচ্ছে অনেক কিশোরী-তরুণীকে। আর্থিক প্রলোভনে ফেলে এসব কিশোরীদের তারকা বানানোর স্বপ্ন দেখানো হয়। নিচু মানের ও অশালীনতাপূর্ণ কন্টেন্টের বেশি ব্যবহার দেখা যায় টিকটক, লাইকি, ইমোসহ বেশ কয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

[১২] সুস্থ বিনোদন ও সামাজের ইতিবাচক চিত্র উপস্থাপনের জন্য এসব অ্যাপসগুলো তৈরি হলেও ব্যাপকভাবে এর অপব্যবহার হচ্চে। ফলে দেখা যাচ্ছে আমাদের দেশে কিছু কিছু শিশু কিশোর থেকে আরম্ভ করে বয়ষ্করা পর্যন্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহারে আসক্ত হয়ে পড়ছে। তবে শুধুমাত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপব্যবহার নয়, ত্রুটিপূর্ণ সমাজব্যবস্থা, শিথিল সামাজিক বন্ধন, পারিবারিক বন্ধনের ঘাটতি, বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ, সন্তানকে সময় না দেওয়া, সামাজিক অবক্ষয়, সঙ্গদোষ, মাদকের সহজলভ্যতা সহ নানা কারণে কিশোর-তরুণরা বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। তাই কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা জরুরি।
কিশোর গ্যাং কালচার প্রতিরোধে হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ ৭ দফা সুপারিশ করেন। সুপারিশগুলো হচ্ছে- শিশু কিশোরদের সৃজনশীল কর্মকান্ডে আরও বেশি সম্পৃক্ত করে এলাকাভিত্তিক পাঠাগার, সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড, খেলাধূলাসহ বিনোদনের ব্যবস্থা করা

[১৩] শিশু কিশোরদের বিপথে নিতে পারে ফ্রি-ফায়ার ও পাবজির মতো অন্যান্য কোনও অ্যাপস নিষিদ্ধ করা যায় কি না সে বিষয়ে বিবেচনা করা। কিশোর অপরাধ সংক্রান্ত আইনের জটিলতা নিরসন করা। রাজনৈতিক কর্মকান্ডে কিশোরদের ব্যবহার না করা। পারিবারিক, সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ জাগ্রত করে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা।

[১৪] রাত ১০ টার পর থেকে সকাল পর্যন্ত অপ্রয়োজনীয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যবহার বন্ধ রাখা। কিশোর অপরাধ সংশোধন কেন্দ্রগুলি আধুনিকায়ন করে সেখানে কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করা।প্রতিযোগিতায় বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ এবং সেন্ট যোসেফ হায়ার সেকেন্ডারী স্কুলের উভয় দলের বিতার্কিকরা সমান নম্বর পাওয়ায় উভয় দলকে যৌথভাবে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলের মাঝে ট্রফি ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।

[১৫] অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন র‌্যাবের লিগ্যাল এন্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কামান্ডার খন্দকার আল মঈন এবং র‌্যাব-২ এর সিইও লে. কর্নেল আবু নাঈম মো. তালাত। বিচারক ছিলেন অধ্যাপক আবু মোহাম্মদ রইস, ড. এস এম মোর্শেদ, উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ তানজিনা শারমিন, সাংবাদিক এস এম ফয়েজ ও সাংবাদিক জামিউল আহসান শিপু।

সর্বাধিক পঠিত