প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] রিং আইডির পরিচালক সাইফুল গ্রেপ্তার

সুজন কৈরী: [২] সামাজিক নেটওয়ার্কিং প্লাটফর্ম রিং আইডি’র পরিচালক সাইফুল ইসলামকে (৪১) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। শুক্রবার রাজধানীর গুলশানের ১৪ নম্বর রোডের ১৫ নম্বর বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

[৩] শনিবার সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. আজাদ রহমান বলেন, রিং আইডিতে বিনিয়োগ করে প্রতারণার শিকার একজন গ্রাহক প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শরীফুল ইসলাম, চেয়ারম্যান শরীফুলের স্ত্রী আইরিন ইসলাম ও পরিচালক সাইফুলসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করে বৃহস্পতিবার ভাটারা থানায় একটি মামলা করেন। ডিজিটাল নিরাপত্তাসহ মাল্টিলেভেল মার্কেটিং নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলায় রিং আইডি’র কয়েকটি এজেন্টসহ অজ্ঞাত হিসেবে ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। সিআইডির শিডিউলভুক্ত হওয়ায় মামলাটি সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার গ্রহণ করে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে। এরই প্রেক্ষিতে সাইফুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করে সাইফুলকে আদালতে পাঠানো হয়। শুনানি শেষে আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

[৪] সিআইডির সাইবার ক্রাইম ইউনিটের বিশেষ পুলিশ সুপার রেজাউল মাসুদ বলেন, রিং আইডিকে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান বলা যাবে না। তবে ই-কমার্সের মতো কার্যক্রম চালানোর পরিকল্পনা ছিলো প্রতিষ্ঠানটির। প্রতিষ্ঠানটি তিন মাসে ২১২ কোটিরও বেশি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

[৫] তিনি বলেন, রিং আইডি প্রাথমিকভাবে একটি সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও পরবর্তীতে তারা এ প্লাটফর্মে বিভিন্ন সার্ভিস যোগ করে জনগণের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ আমানত সংগ্রহ করেছে। এসব সার্ভিসের ভেতরে রয়েছে বৈদেশিক বিনিয়োগ, কমিউনিটি জবসসহ বিভিন্ন সার্ভিস, যার আড়ালে এ আমানত সংগ্রহের কার্যক্রম পরিচালনা করে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিপুল সংখ্যক জনগণ এ খাতে বিনিয়োগ করে। এর আগেও তাদের করোনাকালীন ডোনেশনের মাধ্যমে জনগণের কাছে থেকে অর্থ সংগ্রহের বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে সন্দেহ পোষণ করা হয়েছিলো। বর্তমানে সন্দেহের তালিকায় থাকা বিভিন্ন ই-কমার্স সাইটের মতো তারাও অস্বাভাবিক ডিসকাউন্টে বিভিন্ন পোডাক্ট বিক্রি এবং ক্রেতাদের কাছে থেকে ই-ওয়ালেটের মাধ্যমে লেনদেন পরিচালনা করছিলো।

[৬] সিআইডি জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার সাইফুল জানিয়েছেন, বিপুল পরিমাণ আমানত গ্রহণের কোনও অনুমোদন তিনি বা তার প্রতিষ্ঠান গ্রহণ করেনি।

[৭] প্রতিষ্ঠানটির সন্দেহজনক কার্যক্রম লক্ষ্য করে বেশ কিছুদিন পূর্বেই সংস্থার সাইবার পুলিশ সেন্টার থেকে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকে (বিএফআইইউ) অনুসন্ধানের জন্য একটি চিঠি পাঠানো হয়। বিএফআইইউ ইতোমধ্যেই এ বিষয়ে অনুসন্ধানও শুরু করেছে। এছাড়াও রিং আইডির ইস্যুতে সাইবার পুলিশ সেন্টারে মানিলন্ডারিং বিষয়ে একটি অনুসন্ধান চলছে।

[৮] বিশেষ পুলিশ সুপার রেজাউল মাসুদ বলেন, কমিউনিটি জবস খাতে এডভার্টাইজমেন্ট দেখে উপার্জনের কথা বলেই এই প্রতিষ্ঠান জনগণের কাছে থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার প্রমাণ পাওয় গেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী কেবল মাত্র কমিউনিটি জবস খাত থেকেই গত মে মাসে ২৩ কোটি ৯৪ লাখ, জুন মাসে ১০৯ কোটি ১৩ লাখ এবং জুলাই মাসে ৭৯ কোটি ৩৮ লাখ টাকা অবৈধভাবে সংগ্রহ করেছে। আইনি প্রক্রিয়া চলাকালে যেন জনগণের কাছ থেকে আমানত অবৈধভাবে দেশের বাইরে পাচার করতে না পারে সে জন্য ইতোমধ্যেই তাদের সকল ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

[৯] তিনি আরও বলেন, রিং আইডির এমডি ও চেয়ারম্যান বর্তমানে কানাডায় আছেন বলে জানা গেছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ভাটারা ছাড়াও যশোরে আরও একটি মামলা দায়ের হয়েছে তথ্য পাওয়া গেছে। সম্পাদনা: খালিদ আহমেদ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত