প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] চৌগাছায় বা‌ণি‌জ্যিকভা‌বে মে‌টে আলুর চাষে লাভবান হ‌চ্ছেন কৃষক

র‌হিদুল খান: [২] য‌শো‌রের চৌগাছায় বাজারে বেশি দাম পেয়ে কৃষকেরা ঝুঁকেছেন মেটে আলু চাষে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষকেরা। লম্বা লতা আর পানের মত পাতা গাছটি হচ্ছে মেটে আলু। বপনের পর মাটির নিচে নিজে থেকেই বাড়তে থাকে এই আলু। এক সময় ঘরের কোনে বা পতিত জমিতে বিচ্ছন্ন ভাবে বপন করা হত মেটে আলু। সেখান থেকে যে আলু পাওয়া যেত নিজের সংসার ও আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে দিয়ে বাকি টুকু বিক্রি করতেন কৃষকেরা। বাজার মূল্য ভালো হওয়ায় গত কয়েক বছর ধরে মাঠের পর মাঠ মেটে আলুর চাষ শুরু করেছেন চাষীরা।

[৩] উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরে ৮৫ হেক্টর জমিতে স্থানীয় জাতের মেটে আলুর চাষ করেছেন কৃষকেরা। উপজেলার জগদীশপুর, মির্জাপুর, কান্দি, স্বর্পরাজপুর, পুড়াহুদা, মাড়ুয়া, সৈয়দপুর, কোটালীপুর, চারাবড়ি, রায়নগর, তেঁতুলবাড়িয়া, মুক্তদাহ, তেঘরী, পাতিবিলা, দেবীপুর, হাজরাখানা, টেংগুরপুর, পেটভরাসহ বেশ কিছু গ্রাম এলাকার কৃষকেরা নিয়মিত ভাবে মেটে আলুর চাষ করছেন।

[৪] শুক্রবার (১ অক্টোবর) উপজেলার জগদীশপুর গ্রামের মাঠে গিয়ে দেখা যায়, মাচায় উঠিয়ে দেয়া মেটে আলুর লতা আঁকাবাঁকা হয়ে এক মাচা থেকে অন্য মাচায় তার প্রভাব বিস্তার করছে। মাঠের পর মাঠ অন্য সব ফসলে সবুজের সমারোহ তার মাঝে মেটে আলুর পানের মতো পাতা যেন অন্য এক সৌন্দর্য বহন করে যাচ্ছে। অধিকাংশ জমিতে কৃষক আলু গাছ পরিচর্যায় বেশ ব্যস্ত।

[৫] কৃষক শাহাদৎ আলী, হেলাউদ্দিন, জামির হোসেন, ইউছুপ আলীর তারা জানান, বৈশাখ মাসে আলু বীজ বপন করা হয়। প্রায় ৬ মাস মাটির নিচে আপন মনেই বেড়ে উঠতে থাকে। একটি আলু গাছ হতে ৩ কেজি হতে ১০ কেজি পর্যন্ত আলু সংগ্রহ করা যায়। বাজার ভালো হলে ৪৫ হতে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা যায়।

[৬] কৃষকেরা বলেন, স্থানীয় গাড়ল লতা, মাছরাঙ্গা, মুন্সি, দুতসরসহ বেশ কিছু জাতের আলু চাষ হয়। এরমধ্যে মাছরাঙ্গা আলু খেতে বেশি সুস্বাদু। তাই বাজার দর অন্য আলুর থেকে কিছুটা বেশি পাওয়া যায়। মেটে আলু চাষে কোনো ধরনের সার বা কীটনাশক প্রয়োগ করতে হয় না। বেগুন, উচ্ছে বা পটলের চাষ শেষ হওয়ার আগেই ওই জমিতে মেটে আলু বপন করা হয়। জমিতে যে পরিমাণ সার প্রয়োগ করা থাকে তাতেই আলু চাষ সম্পন্ন হয়ে যায়। যার ফলে ব্যয় একেবারেই কম হয় বলে কৃষকরা জানান।

[৭] উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ সমরেন বিশ্বাস বলেন, এ জনপদের কৃষকেরা কৃষিতে আমুল পরিবর্তন এনেছেন। নতুন নতুন ফসল উৎপাদন করে তারা হচ্ছেন লাভবান। উপজেলা কৃষি অফিস কৃষকদের সব বিষয়ে সার্বিক সহযোগিতা করে যাচ্ছে।  সম্পাদনা: হ্যাপি

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত