প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] স্বতন্ত্র ইউনিট হিসেবে আসছে ৯৯৯, চালু হচ্ছে দুটি অ্যাপস

সুজন কৈরী: [২] রাস্তাঘাটসহ বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত অপরাধ বা দুর্ঘটনা বা যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে নাগরিকদের তাৎক্ষণিক সহায়তা দিচ্ছে জাতীয় জরুরি সেবা- ৯৯৯। এই সেবা আরও জনমুখী করতে আলাদা ইউনিট গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। চালু হচ্ছে বিডি-৯৯৯ ও অ্যাম্বুলেন্স নামক দুটি অ্যাপস।

[৩] বৃহস্পতিবার ৯৯৯-এর প্রধান অতিরিক্ত ডিআইজি মো. তবারক উল্লাহ বলেন, কর্মীদের আন্তরিকতা এবং সেবা প্রদানের প্রচেষ্টা ৯৯৯-কে দেশের মানুষের কাছে একটি আস্থার নাম হিসেবে পরিচিত করিয়েছে। আমরা সবসময় চাই বিপদে পড়া মানুষকে আরও বেশি সেবা কিভাবে দেওয়া যায়। এ লক্ষ্যে নতুন নতুন সব ফিচার যুক্ত করে চলেছি।

[৪] তিনি বলেন, সেবা আরও জনমুখী করতে ৯৯৯ জাতীয় জরুরি সেবা নামক একটি আলাদা ইউনিট হিসেবে গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। এটি নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করছে। এই ইউনিটের জনবল কাঠামো নিয়ে কাজ করছে।

[৫] এছাড়া চালু হচ্ছে বিডি-৯৯৯ ও অ্যাম্বুলেন্স নামক দুটি অ্যাপস। এগুলো আগে পরীক্ষামূলক রান করাতে হবে। ইতিমধ্যে এগুলো রান করতে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরে চিঠির অপেক্ষায় রয়েছি। চিঠি পাওয়া মাত্রই রান করা হবে। পরীক্ষামূলক রান করার পর সফলতা পেলে পুরোপুরি চালু হবে।

[৬] এসডিজি অর্জনে ৯৯৯ কি ভূমিকা পালন করছে এ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ৯৯৯ জননিরাপত্তায় কাজ করছে। জনগণের জন্য একটি সার্ভিস হচ্ছে ৯৯৯। সমাজ যত উন্নত হবে, দেশ যত উন্নত হবে, এর সঙ্গে সেফটি এবং সিকিউরিটি জড়িত। সমাজ যদি সেফ এবং সিকিউরড না হয় তাহলে যত উন্নয়ন করা হোক না কেনো তা নষ্ট হবে। নিরাপদ সমাজ বিনির্মাণে ৯৯৯-এর মতো ইমার্জেন্সি সার্ভিসকে প্রোমট করতেই হবে। এজন্য কাজ চলছে।

[৭] ৯৯৯-এর মিডিয়া কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক আনোয়ার সাত্তার বলেন, বিডি ৯৯৯ অ্যাপসটি মোবাইলে ইন্সটল করার পর সেখানে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। যদি কেউ এমন কোনো বিপদে পড়েন, সেখানে কথা বলার মতো পরিস্থিতি নেই, তখন এই অ্যাপসে প্রবেশ করে এসওএস নামক একটি বাটনে ক্লিক করলেই ঘটনাস্থল থেকে ৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও বার্তা, ঘটনাস্থলের লোকেশন, ভুক্তভোগীর নাম-নম্বরসহ যাবতীয় প্রয়োজনীয় তথ্য পেয়ে যাবে ৯৯৯। সেই বার্তা দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবে ৯৯৯। তবে এই সেবা পেতে মোবাইলের ডাটা ও জিপিএস সিস্টেম অন থাকতে হবে।
অপর অ্যাপসটি চালু হলে অ্যাম্বুলেন্স কোথায় রয়েছে, খালি আছে কি না তা খুব সহজেই জানা যাবে। সেবাগ্রহীতা অ্যাম্বুলেন্স গ্রহণের সময় থেকে গন্তব্যে পৌঁছানো পর্যন্ত বিষয়টি মনিটরিং করতে পারবে ৯৯৯। এছাড়া এই অ্যাপসে হাসপাতালগুলোকেও যোগ করার প্রক্রিয়া চলছে।

[৮] তিনি আরও জানান, এছাড়াও থাকছে এমডিটি সার্ভিস। কেউ বিপদে পড়ে ৯৯৯-এ ফোন করলে সেই তথ্য সংশ্লিষ্ট থানার নিকটতম টহল টিমের কাছে থাকা ডিভাইসে সঙ্গে সঙ্গে এসএমএসের মাধ্যমে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। টহল টিম দ্রুত কলারের কাছে পৌঁছে তাকে সেবা দিয়ে থাকে।

[৯] ৯৯৯-এর গোটা প্রক্রিয়াকে ডিজিটাল করতে একগুচ্ছ পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। এগুলোর মধ্যে- ভৌগোলিক তথ্য ব্যবস্থাপনা (জিআইএস), আইওটি, ইন্টেলিজেন্স সার্ভাইলেন্স ক্যামেরা স্থাপন, রেসপন্ডারের সংখ্যা বাড়ানো, ডিজাস্টার রিকভারি সেন্টার স্থাপন, স্বতন্ত্র কমপ্লেক্স তৈরি, ফায়ার স্টেশনের অটোমেশন (ইতিমধ্যে থানা অটোমেশন করা হয়েছে) এবং জনবল-ট্রান্সপোর্ট বাড়ানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

[১০] ভৌগোলিক তথ্য ব্যবস্থাপনা হলো বাংলাদেশ পুলিশের নিজস্ব তত্ত্বাবধানে সারাদেশের ম্যাপকে একটি আধুনিক ভৌগোলিক তথ্য ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যারের মাধ্যমে নিয়ে আসা। এর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

[১১] অপরাধ মানচিত্রের বিশেষ একটি ফিচার থাকবে এই জিআইএস সিস্টেমে। যার মাধ্যমে অপরাধপ্রবণতা এবং যে কোনো এলাকার অপরাধের ধরন অনুযায়ী পুলিশের পূর্বপ্রস্তুতি গ্রহণসহ দ্রুত অপরাধ নির্মূলে এক অত্যাধুনিক প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনায় আসবে পুরো পুলিশিং ব্যবস্থা।

[১২] আইওটি (ইন্টারনেট অব থিংস) হচ্ছে, যে কোনো জরুরি অবস্থা বা দুর্ঘটনায় মানুষের উপস্থিতি ছাড়াই স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে ৯৯৯-কে জানিয়ে দেবে এই প্রযুক্তি। সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা, যানবাহন, শিল্পকলকারখানা, ব্যাংক এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ৯৯৯-এর আওতায় চলে আসবে। ফলে খুব দ্রুত যে কোনো স্থানে জরুরি সেবা প্রদানে আরও সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।

[১৩] জরুরি পরিস্থিতি দ্রুত ও নিখুঁত মনিটরিংয়ের জন্য পুলিশ সদস্যদের শরীরে ও চোখের চশমাতে বিশেষ ধরনের ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। যার মাধ্যমে ৯৯৯-এর সার্ভিস সেন্টার থেকে সরাসরি পর্যবেক্ষণ ও ঘটনাস্থলের ভিডিও সংগ্রহ এবং সংরক্ষণ করা যাবে।

[১৪] ইতোমধ্যে দেশের প্রতিটি মহানগর পুলিশের প্রতিটি থানায় মোবাইল ডাটা টার্মিনাল (এমডিটি) সার্ভিস চালু করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রতিটি থানায় তিনটি টহল টিমের জন্য ডিভাইস (আইপ্যাড) দেওয়া হয়েছে। আর অন্য মেট্রোপলিটনের থানাগুলোতে একটি করে ডিভাইস দেওয়া হয়েছে। পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে চালু হওয়া এমডিটি সার্ভিস পর্যায়ক্রমে সারাদেশের সকল থানায় ছড়িয়ে দেয়া হবে।

[১৫] ৯৯৯-এর কল রিপোর্টের তথ্যানুযায়ী, ২০১৭ সালের ১২ ডিসেম্বর চালু হওয়ার পর চলতি বছরের ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯৯৯-এ মোট ৩ কোটি ২৫ লাখ ২৯ হাজার ৪৩৭টি কল এসেছে। যার মধ্যে ১ কোটি ৩ লাখ ৩৪ হাজার ৮৭টি কলের সেবা দেওয়া হয়েছে।

[১৬] এর মধ্যে ৬ লাখ ২৩ হাজার ৮৪৯টি জরুরি কলে সাড়া দিয়ে পুলিশ, ফায়ার ও অ্যাম্বুলেন্সের মতো জরুরি সেবা দেওয়া হয়। অর্থাৎ মোট কলের প্রায় ৩২ ভাগ সেবা দেওয়া হয়। এর মধ্যে ৪ লাখ ৮৭ হাজার ৩৭২টি কলের সেবা দিয়েছে পুলিশ। ৬১ হাজার ৮৯৩টি কলের সেবা দিয়েছে ফায়ার সার্ভিস এবং ৭৪ হাজার ৫৮৪টি কলের সেবা দিয়েছে অ্যাম্বুলেন্স। এর মধ্যে পুরুষ কলার ছিলেন ৫৫ লাখ ৫৫ হাজার ৬১৬ জন। নারী কলার ছিলেন ২ লাখ ৫১ হাজার ৭০২ জন। এ ছাড়া ৬ লাখ ২৯ হাজার ১৭২ শিশু-কিশোর ৯৯৯-এ কল করে তাদের বিভিন্ন বিষয়ে জানতে চেয়েছেন। সম্প্রতি স্কুল খোলার বিষয়ে সবচেয়ে বেশি জানতে চেয়েছে শিশুরা।

[১৭] কর্তৃপক্ষ জানায়, এ পর্যন্ত ১ কোটি ৪৫ লাখ ১৭ হাজার ৯১টি ব্ল্যাংক কল (ভুতুড়ে কল) করেছেন কলাররা। অর্থাৎ কল করে কোনো কথা বলেননি তারা। এ ছাড়া ২১ লাখ ১৫ হাজার ৮০৩টি প্রাংক কল করা হয়েছে। এসব কলার সেবা না চেয়ে বিভিন্ন অপ্রাসঙ্গিক বিষয়ে কথা বলেছেন বা ফান করেছেন। এ ছাড়া মিসড ও টেস্ট কলও করেছেন কলাররা।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত