শিরোনাম
◈ যশোর সীমান্তে আবারো আগ্নেয়াস্ত্রের চালান আটক ◈ ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন নিয়ে কোনো ষড়যন্ত্র হলে দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে : তারেক রহমান ◈ বিশ্বকা‌পের উ‌দ্বোধনী ম‌্যা‌চে পরাজ‌য়ের দ্বারপ্রা‌ন্তে থাকা পা‌কিস্তান‌কে জয় এ‌নে দি‌লেন ফা‌হিম আশরাফ ◈ চট্টগ্রাম বন্দরে কাল থেকে লাগাতার ধর্মঘট, বহির্নোঙরেও কাজ বন্ধের ঘোষণা ◈ জনগণকে সঙ্গে নিয়েই দেশ এগিয়ে নিতে চাই: তারেক রহমান ◈ মিয়ানমার সংলগ্ন সীমান্তে গুলিবিদ্ধ সেই শিশু মারা গেছে ◈ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তরুণ ভোট, নৌকা সমর্থকসহ যেসব 'ফ্যাক্টর' হিসাব পাল্টে দিতে পারে ◈ সূর্যের তীব্র ক্ষোভে বিপদের আশঙ্কা, ভারতে বড় ধরনের রেডিও ব্ল্যাকআউটের সতর্কবার্তা ইসরোর ◈ নির্বাচন উপলক্ষে দুই দিন বন্ধ থাকবে দেশের সব বাণিজ্যবিতান ও শপিংমল ◈ যুক্তরাস্ট্র ও অ‌স্ট্রেলিয়াসহ বি‌ভিন্ন দে‌শে যেতে বাংলাদেশিদের 'ভিসা সংকট' কাটছে না কেন? 

প্রকাশিত : ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ০১:৫৫ রাত
আপডেট : ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ০১:৫৫ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

আহসান হাবিব : অনিন্দ্যসুন্দরী নারীর দল

আহসান হাবিব : বসেছিলাম চিলেকোঠায়। তখন আকাশে চাঁদ ছিলো, ছিলো পূর্ণিমা। ছাদে আমার বিবিধ ফুলের গাছ। তারা গন্ধ বিলিয়ে আমাকে মুগ্ধ করছিলো। আমি তখন মর্তে উপভোগ করছিলাম স্বর্গীয় আনন্দ। যদিও স্বর্গ আছে বলে আমার মনে হয় না, কিংবা নরক। এসব বানানো গল্প। হঠাৎ একটা বাতাস আমাকে উড়িয়ে নিয়ে চললো। আমি বাতাসের পাখায় ভর করে উড়ে চললাম। আমি মহাশূন্যে ভাসছিলাম। মনে হলো মাধ্যাকর্ষণ শক্তির বিলোপ ঘটেছে। আমি উড়ছি তো উড়ছি। ক্রমে চিলেকোঠা আমার কাছে একটা বিন্দুর মতো লাগছিলো। জানি না বাতাস আমাকে কোথায় নিয়ে যাবে।

হয়তো তারও আছে নিজস্ব আলয়, আছে অনিন্দ্যসুন্দরী নারীর দল। আমি কেন নারীর থাকার কথা ভাবলাম জানি না, শুধু জানি বাতাস তার সংগীতের মতো নরম এবং পেলব। আর কে না জানে এসব সে পেয়েছে নারীদের কাছ থেকেই। উড়তে উড়তে আমরা পৌঁছে গেলাম এক সমুদ্র তটে। তখন সমুদ্র শান্ত ছিলো। তার বুকে ছিলো ছোট ছোট ঢেউ। আকাশ থেকে বি”্ছুরিত চাঁদের আলো সমুদ্রের ওপর পড়লে সেখানে তৈরি হচ্ছিলো এক নয়নাভিরাম দৃশ্য। আমি আমার নয়ন মেলে তা উপভোগ করতে লাগলাম।
বাতাস আমাকে সমুদ্রের ওপর ফেলে দিলো। আমি ভরহীন পালকের মতো অতি মন্থর গতিতে নিচে নামতে লাগলাম এবং নামতে নামতে সমুদ্রের গভীরে প্রবেশ করলাম। সেখানে আমার জন্য অপেক্ষা করছিলো অসাধারণ এক অভ্যর্থনা। মাছেরা আমাকে গ্রহণ করলো গান গেয়ে। আমি মাছেদের প্রাসাদে অতিথি হিসেবে দিন কাটাতে লাগলাম। আমার খাদ্যের কোনো অভাব ছিলো না। মাছেরা আমাকে সঙ্গ দিতো। এমনকি তারা আমার সঙ্গে সংগম করতো।

সংগমের ফলে মাছেরা গর্ভবতী হয়ে পড়লো এবং একদা তারা সন্তান প্রসব করলো। মাছ নয়, আবার মানুষ নয়, এমন সন্তানে ভরে উঠলো সাগরের তলদেশ। তখন একদিন মাছেদের সর্দার আমাকে আমার সব সন্তান নিয়ে সমুদ্র ত্যাগের নির্দেশ দিলো। আমি তার নির্দেশ পালন করি, আমি আমার অগণিত সন্তান নিয়ে সমুদ্র থেকে উপরে উঠে আসি। বাতাস আমার জন্য অপেক্ষা করছিলো। আমরা সবাই তার পাখায় উঠে বসলাম। বাতাস আবার আমাদের নিয়ে উড়ে চললো। উড়তে উড়তে সে আমাদের নামিয়ে দিলো আমারই রেখে যাওয়া চিলেকোঠায়। চিলেকোঠা ভরে উঠলো কলহাস্যগীতিতে। ফুল থেকে তখনো সুবাস ছড়াচ্ছিলো আর আমরা সেই সুবাস গায়ে মাখছিলাম মহানন্দে। লেখক : ঔপন্যাসিক

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়