প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষ্যে দেশব্যাপী একযোগে টিকাদান কর্মসূচি পালিত

শাহীন খন্দকার: [২] রাজধানীসহ ইউনিয়ন, ওয়ার্ড থেকে শুরু করে সিটি কর্পোরেশন ও শহরজুড়ে এ কর্মসূচি সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে সরকারি, বেসরকারি ও সেচ্ছাসেবীসহ প্রায় ৮০ হাজার লোক অংশ নেন। মঙ্গলবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা থেকে সারাদেশের নির্ধারিত টিকা কেন্দ্রগুলোয় এই কার্যক্রম শুরু হয়ে বেলা ৫টা পর্যন্ত চলে। তবে যেসব কেন্দ্রে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি সেসব কেন্দ্রে টিকাদান চলমান থাকবে।

[৩] এদিকে দুপুরে কাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করতে ধানমন্ডি ৮/এ, ডিঙি রেস্টুরেন্ট সংলগ্ন টিকাদান কেন্দ্র পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব লোকমান হোসেন মিয়া, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক এবিএম খুরশিদ আলম প্রমুখ।

[৪] পরিদর্শনকালে মুখ্যসচিব বলেন, সারাদেশে একযোগে টিকাদান কর্মসূচি সুষ্ঠুভাবে পালিত হচ্ছে। দেশের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে টিকাদান কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছে। এই কর্মসূচি আমাদের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়া পর্যন্ত চলমান থাকবে। জানা গেছে, সারাদেশের সঙ্গে রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল, শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতাল ও কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালেও এই কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

[৫] এদিকে রাজধানীর মগবাজারের ৩৫ নম্বর ওয়ার্ড। মধুবাগ আমবাগান এলাকা। ৩৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কার্যালয়ের সামনে খালি জায়গায় বসে আছেন টিকা নিতে আসা মানুষ। তাদের মধ্যে যেমন বৃদ্ধ রয়েছেন, তেমনি আছেন যুবক-তরুণ-মাঝ বয়সীরাও। নির্ধারিত লাইন মানুষ দাঁড়িয়ে আছেন, কেউ লাইনের ভেতরেই বসে পড়েছেন। এর বাইরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে বসে রয়েছেন অসংখ্য মানুষ। কারও হাতে টিকাকার্ড, কারও হাতে জাতীয় পরিচয়পত্র।

[৬] জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে এলেই টিকা নেওয়া হবে, এমন খবরে কেউ কেউ জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে এলেও টিকা নিতে পারছেন না। বলে দেওয়া হয়েছে, কেবল মোবাইল ফোনে খুদেবার্তা এলেই টিকা দেওয়া হবে। প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষে মঙ্গলবার দেশে করোনাভাইরাস প্রতিরোধী গণটিকাদান কর্মসূচির ঘোষণা দেয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এদিনে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির ৫ লাখসহ মোট ৮০ লাখ টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

[৭] দুপুর আড়াইটা থেকে উত্তর সিটি করপোরেশন কেন টিকাদান কর্মসূচি শুরু করবে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ভ্যাকসিন ডেপ্লয়মেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা জানিয়েছেন, উত্তর সিটি করপোরেশন সকাল থেকে টিকা দিচ্ছে না। এটা তারা জানিয়েছে। মাইকিং করে বলা হয়েছে। এখন কেউ কেউ সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে না এসে যদি আগে আসে তাহলে কিছুটা বিড়ম্বনা হতেই পারে। উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে অনুষ্ঠান থাকায়, দুপুর আড়াইটা থেকে টিকাদান কর্মসূচি শুরু করবে বলে আমাদের জানিয়েছে।

[৮] জেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যে জানা যায়, রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার ভায়ালক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের করোনার টিকা কেন্দ্রে ভিড় ঠেলে বাইরে এসে রায়পুর গ্রামের গৃহিণী আকলিমা বেগম (৫০) জানান, ‘সকাল আটটায় আইচি। আমার ডায়াবেটিস, প্রেসার। পায়ে ব্যথা। দাঁড়াতে পারতিছি না। তাই লাইন থাইকি বারা আইছি’।

[৯] রাজশাহী নগরের টিকাকেন্দ্রগুলো অনেকটাই ফাঁকা। আজ বেলা ১১টার দিকে নগরের মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সের বুথে কোনো মানুষ না আসায় একজন স্বেচ্ছাসেবককে টেবিলে মাথা রেখে আরাম করতে দেখা গেছে। রাজশাহী সিভিল সার্জনের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী সিটি করপোরেশন এলাকায় ৮৭টি, ৯টি উপজেলার ৭৩টি ইউনিয়নে ও ৪৫টি পৌরসভায় টিকাকেন্দ্র খোলা হয়েছিল। আজ সারা দিন ঘুরে দেখা গেছে, রাজশাহী মহানগরের কেন্দ্রগুলোতে টিকা নিতে তেমন লোকজন ভিড় করেননি। পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে ব্যাপক ভিড় হয়েছে।

[১০] পুঠিয়া উপজেলার বেলপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের টিকাকেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে, টিকা নিতে আসা মানুষের সারি রাজশাহী-নাটোর মহাসড়কে এসে ঠেকেছে। একই অবস্থা দেখা গেছে, চারঘাট উপজেলার নন্দনগাছি ইউনিয়ন পরিষদ ও ভায়ালক্ষ্মীপুর ইউনিয়ন পরিষদ কেন্দ্রে। রাজশাহীর পবা উপজেলার কাটাখালী পৌরসভা চত্বরে এসে দেখা যায়, সকাল আটটা থেকে মানুষের ভিড় একটুও কমেনি। চৌদ্দপাই মহল্লার খুরশিদা বেগম (৪৫) বললেন, সকাল আটটায় এসেছিলেন। ভিড়ের কারণে বেলা দুইটায় টিকা নিতে পেরেছেন।

[১১] রাজশাহী মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্স কেন্দ্রে আগের বুথের পাশাপাশি বিশেষ টিকাদান কর্মসূচির জন্য তিনটি নতুন বুথ করা হয়েছে। দুটি বুথে মাঝেমধ্যে দু–একজন করে এসে টিকা নিয়ে যাচ্ছেন। আরেকটি বুথে কোনো মানুষই ছিলেন না। এই সুযোগে টেবিলে মাথা দিয়ে আয়েশ করছিলেন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির একজন স্বেচ্ছাসেবক। কেন্দ্রে কেন্দ্রে এই স্বেচ্ছাসেবকেরাই টিকাকার্ড যাচাই-বাছাই এবং লেখালেখির কাজ করে থাকেন।

[১২] রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এফ এ এম আঞ্জুমান আরা বেগম বলেন, শহরের ৮০ ভাগ মানুষ আগেই টিকা নিয়েছে। সেই জন্য টিকা নেওয়ার চাপ কম। এরপরও বলতে হবে, এবার উপস্থিতি একটু কম।

সর্বাধিক পঠিত