প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিমানবন্দরে নমুনা পরীক্ষার ফি কমিয়ে ১৬০০ টাকা নির্ধারণ

নিউজ ডেস্ক : শনিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভেতরে স্থাপন হওয়া ল্যাব পরিদর্শন করে কারিগরি কমিটির সদস্যরা। পরে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে বিমানবন্দরে নমুনা পরীক্ষার জন্য অনুমোদন পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রস্তাবনা অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন দামের পরিবর্তে এক হাজার ৬০০ টাকা ফি নির্ধারণের সিদ্ধান্ত হয়। সূত্র: সারাবাংলা

জানতে চাইলে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান বলেন, ‘একেক প্রতিষ্ঠানের একেক ধরনের মূল্য থাকলে সেটি নমুনা পরীক্ষায় সমস্যা তৈরি করবে। এজন্য অনেক আগেই আমি সব প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি মূল্য নির্ধারণ করে দেওয়ার প্রস্তাবনা দিয়েছিলাম। আজ সেটি করা হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এক হাজার ৬০০ টাকা দিয়ে নমুনা পরীক্ষা করাতে পারবেন প্রবাসীরা।’

এর আগে, এ দিন সকালে ল্যাব পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা। তিনি জানান, বিমানবন্দরের ল্যাব শতভাগ প্রস্তুত। শেষ মুহূর্তের কাজ (টিউনিং কাজ) সম্পন্ন করে পরীক্ষামূলকভাবে বিমানবন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারী মিলিয়ে ১০০ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হবে। তবে কবে থেকে প্রবাসীদের নমুনা পরীক্ষা শুরু হবে এ বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।’ এমনকি এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিমানবন্দরের ল্যাবগুলোতে পরীক্ষার জন্য কোনো নমুনা সংগ্রহ করানো হয়নি।

জানতে চাইলে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ শাহরিয়ার সাজ্জাদ বলেন, ‘এটা নিয়ে কাজ চলছে। ইতোমধ্যেই সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। আশা করছি খুব দ্রুতই নমুনা সংগ্রহ করে কাজ শুরু করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘বিমানবন্দরে মোট ১০টি বুথ স্থাপন করা হয়েছে। এখানে ১২টি আরটিপিসিআর ল্যাবে প্রতি তিন ঘণ্টায় ১ হাজার ৪৫২ জনের নমুনা পরীক্ষা করা যাবে। আর ফলাফল জানানো হবে নমুনা নেওয়া থেকে তিন ঘণ্টা সময়ের মাঝে। এক্ষেত্রে বিমানবন্দরে রেজিস্ট্রেশন করতে আগের নেগেটিভ রেজাল্ট ফরম স্ক্যান করলেই অটোমেটিক রেজিস্টার হয়ে যাবে। পরীক্ষা শেষে নমুনা দেওয়ার স্থানেই মিলবে রিপোর্ট।’

এদিকে বিমানবন্দরে কবে থেকে শুরু হবে নমুনা পরীক্ষা?- একাধিক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও এর উত্তর পাওয়া যায়নি।

এর আগে দুপুরে অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, ‘সবকিছুর চূড়ান্ত কার্যক্রম শেষে আজই সিভিল এভিয়েশনকে জানানো হবে। সিভিল এভিয়েশন এয়ারলাইন্সগুলোর সঙ্গে কথা বলে ফ্লাইট শিডিউল ঠিক করবে। এর পর যাত্রীরা নমুনা পরীক্ষা সাপেক্ষে বিদেশ যেতে পারবেন।’

তিনি বলেন, ‘৪৮ ঘণ্টা আগে একবার করোনা নেগেটিভ রেজাল্ট সাপেক্ষে যাত্রীরা দ্বিতীয়বারের মতো বিমানবন্দরে করোনা পরীক্ষা করাবেন। আরটিপিসিআর ও র‌্যাপিড পিসিআর দুই সুবিধাই পাবেন যাত্রীরা। যারা ছয় ঘণ্টা হাতে সময় নিয়ে আসবেন তারা আরটিপিসিআর ও যারা কম সময় নিয়ে আসবেন তারা পয়েন্ট অব কেয়ারে ১৫-২০ মিনিটে রিপোর্ট নিতে পারবেন।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান বলেন, ‘আমার কাছে এখন পর্যন্ত অফিসিয়ালি কোনো কিছু আসেনি। কারিগরি কমিটি আমার কাছে তাদের কাজের অগ্রগতি জানানোর পর আমি এয়ারলাইন্সগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করব। এরপর তারা মূলত ঠিক করবে কবে থেকে যাত্রী পরিবহন শুরু হবে। এক্ষেত্রে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নমুনা পরীক্ষার ফলাফল জানার বিষয়ও থেকে যায়।’

এদিকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, যদি কোনো কারণে নমুনা পরীক্ষার ফলাফলে অসঙ্গতি দেখা যায় তবে বিমানবন্দরে দ্রুততম সময়ে বিকল্প ব্যবস্থা করা হবে। এক্ষেত্রে র‍্যাপিড পিসিআর পদ্ধতিতে নমুনা পরীক্ষাও করা হতে পারে।

এর আগে, নানা টানাপোড়েনের মাঝে ১৪ সেপ্টেম্বর বিমানবন্দরে বেসরকারিভাবে পিসিআর ল্যাব স্থাপন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি বৈঠক হয়। ওই বৈঠক থেকে পাওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্য অধিদফতরে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সাতটি ল্যাব চূড়ান্ত করা হয়। নমুনা পরীক্ষার মূল্য ও ল্যাব স্থাপনের সময় বিবেচনায় নিয়ে কারিগরি কমিটির বাছাই করা প্রতিষ্ঠানগুলোকে অনুমোদন দেয় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। ১৫ সেপ্টেম্বর প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. সারোয়ার আজমের সই করা প্রজ্ঞাপনে সাতটি প্রতিষ্ঠানের নাম জানানো হয় ।

এই সাতটি প্রতিষ্ঠানের আবেদন করা প্রস্তাবনায় নমুনা পরীক্ষায় ভিন্ন ভিন্ন মূল্য দেখা যায়। এর মধ্যে স্টেমজ হেলথ কেয়ার দুই হাজার টাকা, সিএসবিএফ হেলথ সেন্টার এক হাজার ৫০০ টাকা, এএমজেড হাসপাতাল এক হাজার ৮০০ টাকা, আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল দুই হাজার টাকা, ডিএমএফআর মলিকুলার ল্যাব অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক দুই হাজার ৩০০ টাকা, গুলশান ক্লিনিক এক হাজার ৭৫০ টাকায় নমুনা পরীক্ষা করতে পারবে বলে জানায়। আর জয়নুল হক সিকদার ওমেন্স মেডিকেল কলেজ এক হাজার ৭০০ টাকায় নমুনা পরীক্ষা করাতে পারবে বলে জানালেও পরবর্তী সময়ে প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের সরিয়ে নেয়।

উল্লেখ্য, নভেল করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতির কারণে প্রায় তিন মাস ফ্লাইটে নিষেধাজ্ঞা ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে বাংলাদেশের। ৪ আগস্ট বাংলাদেশসহ ছয় দেশের যাত্রীদের ট্রানজিট সুবিধা চালু করে সংযুক্ত আরব আমিরাত। তবে ভ্রমণের ৬ ঘণ্টার মধ্যে বিমানবন্দরে র‌্যাপিড পিসিআর পদ্ধতিতে কোভিড-১৯ নমুনা পরীক্ষা করে নেগেটিভ রিপোর্ট থাকতে হবে— এমন নির্দেশনা দেয় সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষ।

১ সেপ্টেম্বর র‍্যাপিড পিসিআর স্থাপন বিষয়ে প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইমরান আহমেদের সভাপতিত্বে। বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বেসরকারিভাবে প্রবাসী ও বিদেশগামীদের নমুনা পরীক্ষার করানো হবে। বৈঠকে ল্যাব স্থাপনের জন্য প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে কারিগরি বিষয়গুলো দেখভালের দায়িত্ব দেওয়া হয়। আর অবকাঠামোগত বিষয়গুলো দেখার দায়িত্ব দেওয়া হয় বেবিচককে। এই বৈঠকেই দুইটি কমিটি গঠন করা হয়। প্রবাসী ও বিদেশগামীদের নমুনা পরীক্ষায় বিমানবন্দরে ল্যাব স্থাপনের জন্য আবেদন করে বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান।

পরবর্তী সময়ে কারিগরি কমিটির বৈঠকের পর ১৫ সেপ্টেম্বর সাতটি প্রতিষ্ঠানকে আরটি-পিসিআর ল্যাব স্থাপনের অনুমতি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে ছয়টি প্রতিষ্ঠান তাদের কাজের পরিকল্পনা জানিয়ে আরব আমিরাতের দূতাবাসে এসওপি পাঠায়।

২১ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমেদ কায়কাউস, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমদ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক বিমানবন্দরে যান। সেখানে টার্মিনালের ভেতরে নতুন স্থান নির্ধারণ করে দ্রুত কাজ শুরুর নির্দেশ দেওয়া হয়। টার্মিনাল ভবনের দ্বিতীয় তলার উত্তর পাশে যাত্রীদের করোনা পরীক্ষার স্যাম্পল নেওয়ার নির্দেশনাও দেওয়া হয়। সেইসঙ্গে নমুনা পরীক্ষার জন্য ল্যাব স্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয় বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে।

ভ্রমণের ৭২ ঘণ্টা ও ছয় ঘণ্টা আগে দুই দফা পরীক্ষা এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে পৌঁছানোর চার দিন ও আট দিন পর আরও দুই দফায় নমুনা পরীক্ষার কারণে তাদের কষ্ট ও আর্থিক খরচ বিবেচনায় নিয়ে আলোচনা হয় ২১ সেপ্টেম্বর সকালে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে। এজন্য ছয়টি ল্যাবের প্রস্তাবিত ভিন্ন ভিন্ন মূল্য কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রতিটা ল্যাবকে অভিন্ন মূল্যে কাজ শুরুর নির্দেশনা দেওয়া হয়। সেইসঙ্গে স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগকে বিমানবন্দরে ল্যাব স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় জৈববলয় সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত