প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভারতে গেল ইলিশ, দেশে বাড়লো দাম

নিউজ ডেস্ক: ভারতে করোনা মহামারির কারণে গত বছর হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় আয়োজন শারদীয় দুর্গাপূজায় উৎসব হয়নি, শুধু পূজা হয়েছে। তবে এবার ভারতে করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যু কমায় উৎসবমুখোর পরিবেশে শারদীয় দুর্গাপূজা হবে। দুর্গাপূজা উপলক্ষে বুধবার (২২ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ থেকে প্রথম চালানে ৭৮ টন ৮৪০ কেজি ইলিশ ভারতে রপ্তানি করা হয়েছে। ইলিশ রপ্তানিতে দেশের বাজারে কিছুটা ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এই সুযোগে মাছ ব্যবসায়ীরা ইলিশের কেজিতে ৫০ থেকে ১০০ টাকা বাড়িয়ে দিয়েছেন। আরটিভি অনলাইন

বুধবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টায় এই মাছ বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে ভারতে প্রবেশ করে। বেনাপোল স্থলবন্দর মৎস্য কোয়ারেন্টিন পরিদর্শক আসওয়াদুল ইসলাম বলেন, ইলিশ মাছ রপ্তানি নিষিদ্ধ হলেও দুর্গাপূজা উপলক্ষে এবার দুই হাজার ৮০ মেট্রিক টন ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন দিয়েছে সরকার। ইলিশ রপ্তানির অনুমতি পেয়েছে বাংলাদেশের ৫২টি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে ৪০ মেট্রিক টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২ হাজার ৮০ মেট্রিক টন ইলিশ রপ্তানি করা হবে। ধারাবাহিকতায় বুধবার ইলিশের প্রথম চালানে ৭৮ টন ৮৪০ কেজি ইলিশ ভারতে প্রবেশ করেছে। পর্যায়ক্রমে আগামী ১০ অক্টোবরের মধ্যে বাকি ইলিশ রপ্তানির নির্দেশনা রয়েছে।

এদিকে ভারতে ইলিশ মাছ রপ্তানির খবরে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ইলিশের দাম বেড়েছে। বরিশালে কেজিপ্রতি ১০০ টাকা বেড়েছে ইলিশের দাম। এক কেজি সাইজের ইলিশ পাইকারি বাজারে ১২০০ আর খুচরা বাজারে ১৩০০ টাকা বিক্রি হয়েছে।

ভরা মৌসুমেও ইলিশের মোকাম হিসেবে পরিচিত নগরীর পোর্টরোডে ইলিশ আসছে না। মঙ্গলবার (২১ সেপ্টেম্বর) ইলিশ এসেছিল এক হাজার মণ। বুধবার (২২ সেপ্টেম্বর) এসেছে প্রায় দেড় হাজার মণ। এখানে প্রতিদিন দুই-তিন হাজার মণ ইলিশ আসার কথা।

ইলিশ মোকামের আড়তদার জহির সিকদার বলেন, মৌসুম শুরুর পর থেকে খুব খারাপ অবস্থা চলছিল। জেলেদের জালে ইলিশ ধরা না পড়ায় আড়তেও ছিল না। দুই-তিন দিন ধরে ইলিশ আসা শুরু হয়েছে। যেভাবে ইলিশ আসছে তাতে আগের ঘাটতি মিটবে না। এখন যে ইলিশ আসছে তার সাইজ ভালো। সর্বোচ্চ সোয়া দুই কেজির ইলিশ এসেছে।

জহির সিকদার বলেন, বুধবার মোকামে এক কেজি ২০০ গ্রাম সাইজের প্রতিমণ ইলিশ পাইকারি ৫২ হাজার হিসাবে প্রতিকেজি ১৩০০ টাকা, এক কেজি সাইজের প্রতিমণ ৪৮ হাজার হিসাবে ১২০০ টাকা, ৬০০-৯০০ গ্রাম ওজনের প্রতিমণ ৩৮ হাজার হিসাবে ৯৫০ টাকা, ৪০০-৫৫০ গ্রাম সাইজের প্রতিমণ ২৩ হাজার হিসাবে ৫৭৫ টাকা এবং ২৫০-৩৫০ গ্রাম সাইজের প্রতিমণ ১৪ হাজার হিসাবে ৩৫০ টাকা বিক্রি হয়েছে। বুধবার থেকে রপ্তানি শুরু হওয়ায় পাইকারি ও খুচরা বাজারে বেড়েছে কেজিতে ১০০ টাকা।

পোর্টরোডের একমাত্র ইলিশ রপ্তানিকারক নীরব হোসেন টুটুল বলেন, ইলিশের মৌসুম হলেও শুরুটা ছিল খুবই খারাপ। জেলেদের জালে ইলিশ ধরা পড়তো না, তাই মোকাম ছিল প্রায়শূন্য। তবে দুই-তিন দিন ধরে ইলিশ আসা শুরু করেছে। বিশেষ করে দুই দিন ধরে হাজার মণের ওপরে ইলিশ এসেছে। সাইজও ভালো। আশা করছি, এভাবে পরবর্তী সময়ে ইলিশ এলে গত কয়েকদিনের শূন্যতা সামাল দেওয়া যাবে।

তিনি বলেন, ‘বিকালে ইলিশের মোকাম থেকে ২০০ মণ ভারতে গেছে। দুপুর থেকে ট্রাকে তোলা হয়েছে এসব ইলিশ। ৬০০-৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ রফতানি করা হয়েছে।

বরিশাল মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা (ইলিশ) বিমল চন্দ্র দাস বলেন, মৌসুমের শুরুতে তেমন ইলিশ না মিললেও এখন আসা শুরু করেছে। মোকামে বুধবার প্রায় দেড় হাজার মণ ইলিশ এসেছে। আশা করছি, এভাবে প্রতিদিন ইলিশ বাড়বে। রপ্তানির খবরে ইলিশের দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে তা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যেই আছে।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত