প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘দেশের প্রবৃদ্ধি টেকসই করতে চাইলে ই-কমার্সের বিকল্প নেই’

ভূঁইয়া আশিক রহমান: সিপিডির সম্মানিত ফেলো অধ্যাপক ড. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, মুক্তবাজার অর্থনীতিতে অনেক সময় ব্যক্তিগত উদ্যোক্তারা সরকার থেকে একধাপ এগিয়ে থাকে। এই সুযোগে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডগুলো করে। সরকারি রেগুলেটরি প্রতিষ্ঠানগুলো অনেক সময় বেসরকারি উদ্যোক্তাদের থেকে পিছিয়ে থাকে। অ্যাক্টিভ না থেকে রিঅ্যাক্টিভ থাকে। কোনো একটা ঘটনা ঘটলে অ্যাক্টিভ হয়। কোনো একটা ব্যবস্থা নেয়।

এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপে তিনি বলেন, ই-কমার্স নতুন ধরনের সম্ভাবনাময় অ্যাক্টিভিটিজ। প্রতারণার কারণে যেন সংকটে না পড়ে, সেজন্য নিয়ন্ত্রকদের মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন। প্রতারক প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিদের নজরদারির রাখার দরকার আছে। ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো একটা নিয়মনীতির মধ্যে নিয়ে আসতে হবে। তিনি আরো বলেন, উৎপাদক, উদ্যোক্তা ও ভোক্তাÑসবার জন্যই উইন উইন ব্যবস্থাপনা দরকার। নিয়ন্ত্রণ সংস্থাগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে হবে। ভোক্তা এডুকেশনেরও দরকার আছে। সরকারের পক্ষ থেকে ভোক্তা এডুকেশনের ব্যবস্থা করলে মানুষ আরও সতর্ক থাকবেন।

ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষক, অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমানের মতে, যখনই নতুন কিছু হয়, যুতসই আইন-কানুন না থাকার কারণে প্রতারক চক্র সুযোগ নেয়। দেশে ই-কমার্স খাতেও এর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। ই-কমার্স খাত একটা ধাক্কা খেয়েছে। এই ধাক্কা সামলে উঠবে। কারণ প্রতারক প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা খুবই কম, বেশিরভাগই ভালো প্রতিষ্ঠান। তিনি বলেন, কিছু প্রতারকের কারণে ই-কমার্স সংকটে পড়বে না। বন্ধও হবে না। প্রযুক্তির কারণে ই-কমার্স দিন দিন আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠবে। তবে সরকারের উচিত ছিলো প্রতারক চক্রের বিষয়টি বিবেচনা নিয়ে রক্ষাকবচ হিসেবে আইন-কানুন তৈরি করা। বিশেষ করে কোনো পণ্য ডেলিভারির আগে কেউ যেন অর্থ পরিশোধ করতে না পারেÑ এমন একটা ব্যবস্থা রাখা দরকার ছিলো।
ড. মীজানুর রহমান আরো বলেন, যখনই কোনো কোম্পানি দশ বা বিশ শতাংশ ডিসকাউন্ট দেয়, তখনই তা নিষিদ্ধ করা দরকার ছিলো। ৪০ বা ৫০ শতাংশ কিংবা সাইক্লোন ডিসকাউন্ট দিয়ে যখন প্রচারণা চালায়, তখনই প্রতিষ্ঠানগুলোকে সন্দেহ করা উচিত ছিলো। চিন্তা করা উচিত ছিলো নিশ্চিয়ই কোনো একটা প্রতারণা আছে। আইনি কাঠামোর মধ্যে এনে খুব দ্রুত ই-কমার্স খাতকে শৃঙ্খলায় ফেরানো দরকার।

ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শাহাদাত হোসেন সিদ্দিকী বলেন, যেকোনো ট্রানজিশন পিরিয়ডের সময় একটা খরচের বিনিময়ে ফুল ডিজিটাইজেশন অর্জন করতে হয়। ই-কমার্স একটা ট্রানজিশন পিরিয়ড পার করছে। প্রত্যেকটা ট্রানজিশনেরই একটা ব্যয় বা খরচ আছে। সেগুলো কী? কোনো কোনো উদ্যোক্তা যদি ক্ষতিগ্রস্ত হন, ভোক্তাদের কারও কারও টাকাপয়সা লুট হয়ে যায়। কোনো কোনো জায়গায় টাকার বিনিময়ে পণ্য দেবে, কেউ দেবে না। নানান রকমের জালিয়াতির ঘটনাগুলোর সমাহার ট্রানজিশন পিরিয়ডের খরচ। এই খরচের বিনিময়ে একদিন আমরা পুরোপুরি ই-কমার্সে দিকে যাবো।
তিনি বলেন, দেশের প্রবৃদ্ধি টেকসই করতে চাইলে ই-কমার্সের কোনো বিকল্প নেই। উৎপাদককে ব্যবসা করতে হয়। উৎপাদন প্রক্রিয়ায় যে জিনিসপত্র কিনতে হয়, সেগুলোও আলটিমেটলি ই-কমার্সের সঙ্গে যুক্ত বা সম্পৃক্ত হতে হয়। পণ্যগুলো বিক্রির জন্য ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে। চাহিদা ও সরবরাহ খাত যদি শক্তিশালী না হলে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো সহজভাবে ফাংশন করবে না। টেকসই প্রবৃদ্ধিও নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না ভবিষ্যতে। সম্পাদনা: হাসান হাফিজ

 

সর্বাধিক পঠিত