প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] বিভিন্ন থানার ওসি পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজি, গ্রেপ্তার ৩

রাজু চৌধুরী: [২] চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করে মোবাইল ফোনে চাঁদাবাজির অভিযোগে তিনজনকে প্রতারককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা বিভিন্ন থানার ওসি এবং পুলিশ কর্মকর্তা সেজে মানুষকে ব্ল্যাকমেইল করে।

[৩] রোববার (১৯ সেপ্টেম্বর) বাকলিয়া থানাধীন ময়দার মিল বৌ বাজার মোড় এবং আশেপাশের এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

[৪] গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, মো. আজিম হোসেন ওরফে ইমন (২৭), মো. আরিফ হোসেন (৩০) ও মো. তারেক (২২)। তারা চট্টগ্রামের মিরসরাই ও জোরারগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা। তাদের বিরুদ্ধে একটি মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মূল আসামি ইমন গত ১৫ সেপ্টেম্বর বিকেলে নগরীর আসাদগঞ্জের ব্যবসায়ী লুৎফর রহমানকে কোতোয়ালী থানার ওসি পরিচয় দিয়ে ফোন করে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আয়কর ফাঁকি দিয়ে ব্যবসা চালানোর অভিযোগে বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়।

[৫] এরপর ম্যাসেজের মাধ্যমে একটি নগদ নম্বর পাঠানো হয়। পরে লুৎফর রহমান ওই নম্বরে দেড় হাজার টাকা বিকাশ করেন। পুনরায় টাকা চেয়ে না পেয়ে ইমন তাকে প্রাণ নাশের হুমকি দেন। লুৎফর রহমান এর পরে কোতোয়ালী থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ ঘটনার রহস্য উদঘাটনে অভিযানে নেমে ঘটনার সাথে জড়িত ইমনের আরও দুইজন সহযোগীকেও পুলিশ গ্রেপ্তার করে।

[৬] ভুয়া ওসি গ্রেপ্তারের ব্যাপারে কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নেজামউদ্দীন বলেন, এরা একটি সংঘবদ্ধ চক্র, ইমন দীর্ঘদিন যাবৎ এই চক্রের সক্রিয় সদস্য হিসাবে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আদায় করে আসছে। এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম জেলায় ও মহানগরী আশেপাশের এলাকায় সক্রিয় ছিলো।

[৭] তারা থানায় আগত সেবাপ্রার্থীদের টার্গেট করে মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে ফোন করে চাঁদাবাজি ও প্রতারণা করে। পুলিশ নাম্বার ট্র্যাকিং করে বিভিন্ন জায়গা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে। তিনি আরও বলেন, আসামীরা কখনো রিকশা চালক, কখনো দিনমজুর হিসেবে ছদ্মবেশ ধরে । তারা বিভিন্ন সময়ে ভিকটিম বা সেবাপ্রার্থী সেজে বিভিন্ন থানায় গিয়ে মামলার তদন্ত ও অফিসারদের নাম সংগ্রহ করে সংঘটিত বিভিন্ন ঘটনা সম্পর্কে খোঁজখবর নেয়। খোঁজখবর নিয়ে তাৎক্ষনিক উক্ত ঘটনার দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসারের নাম ব্যবহার করে আসল বাদী, বিবাদীর কাছ থেকে চাঁদা দাবী করে। আবার কখনো থানার ওসি পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা দাবী করে।

[৮] ওসি নেজাম উদ্দীন আরো বলেন, প্রতারক ইমনের বাকি দুই বন্ধুর মধ্যে আরিফ হোসেন বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মোবাইল নম্বর সরবরাহ করে। আরেক বন্ধু তারেক বিভিন্ন লোকের কাছ থেকে ব্ল্যাকমেইলিংয়ের মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেয়। পরে এসব টাকা তারা তিনজনে ভাগভাগি করে। সাম্প্রতিক সময়েও সমীর চৌধুরী নামে এক ব্যক্তির নামে ভুয়া ওয়ারেন্ট এর রেফারেন্স দিয়ে ৫০০০ টাকা দাবি করে।তাদের এই প্রতারণার মাধ্যমে চাঁদাবাজির ঘটনায় কোতোয়ালী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ