প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সরকারি তথ্যের চেয়ে ডেঙ্গু রোগী অন্তত ২০ গুণ বেশি, বলছেন বিশেষজ্ঞরা

প্রথম আলো: চলতি বছর দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১৫ হাজার ৪৬০ জন। এর বাইরে অসংখ্য ডেঙ্গু রোগী বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিলেও তাদের সঠিক সংখ্যা জানা যায় না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাধারণত একজন হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু রোগীর বিপরীতে বাইরে অন্তত ২০ জন আক্রান্ত হয়। সে হিসাবে চলতি বছর তিন লাখের বেশি মানুষ ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে।

রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে শনিবার ‘নগরীর মশা নিবারণে সমস্যা: টেকসই সমাধানের একটি রূপরেখা’ শীর্ষক সেমিনারে বিশেষজ্ঞরা এ কথা বলেন। সেমিনারে কীটতত্ত্ববিদ, রোগতত্ত্ববিদ, চিকিৎসক, শিক্ষক ও গবেষকেরা অংশ নেন। সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) এ সেমিনারের আয়োজন করে।

সিজিএসের চেয়ারম্যান এবং কীটতত্ত্ববিদ মনজুর আহমেদ চৌধুরী বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্তের সরকারি পরিসংখ্যান খুবই সীমিত। রাজধানীর মাত্র ৪১টি হাসপাতালে ভর্তি রোগীর তথ্য দিয়ে ডেঙ্গু সংক্রমণের পুরো চিত্র পাওয়া যায় না। চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকী ল্যানসেট–এর গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, একজন হাসপাতালে ভর্তি রোগীর বিপরীতে ২০ থেকে ৪০ জন পর্যন্ত আক্রান্ত রোগী থাকতে পারে। সর্বনিম্ন ২০ জন ধরা হলেও চলতি বছরে ইতিমধ্যে দেশে তিন লাখের বেশি মানুষ ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গতকালের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শেষ ২৪ ঘণ্টায় (শুক্রবার সকাল আটটা থেকে শনিবার সকাল আটটা) ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ২৩২ জন। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিল ১ হাজার ১৯৭ জন। এর মধ্যে ৯৯০ জনই ঢাকার হাসপাতালে ভর্তি। চলতি বছরে এ পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৫৯ জন।

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার পেছনে চারটি প্রধান কারণ রয়েছে বলে সেমিনারে জানান সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) সাবেক মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা তৌহিদ উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে জাতীয় লক্ষ্য, নীতিমালা, নির্দেশাবলি এবং কর্মপরিকল্পনার অভাব রয়েছে।

* বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে চলতি বছর তিন লাখের বেশি মানুষ ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে।
* ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ২৩২ জন

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, একটা মশারির দাম ২০০ টাকা। সরকারকে দরিদ্র মানুষের মধ্যে এক কোটি মশারি বিতরণ করার প্রস্তাব দিলেও তারা আমলে নেয়নি। সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘চুরি করবেন, একটু কম করে করেন। যে মশার ওষুধ আনবেন, একটু কার্যকর ওষুধ আনেন।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নিজামুল হক ভূঁইয়া বলেন, সিটি করপোরেশনের মেয়ররা মিডিয়া সঙ্গে নিয়ে দৌড়ঝাঁপ করছেন, লোকজনকে জরিমানা করছেন। তাতে তো পরিস্থিতি বদলাচ্ছে না।

আওয়ামী লীগপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের মহাসচিব এম এ আজিজ বলেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে সারা দেশের মশা এবং অন্যান্য বাহক নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি স্বতন্ত্র সংস্থা করা জরুরি।
সিজিএসের নির্বাহী পরিচালক জিল্লুর রহমানের সঞ্চালনায় সেমিনারে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল মজিদ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের জি এম সাইফুর রহমান, জাপান-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালের চেয়ারম্যান সরদার এ নাঈম, আইইডিসিআরের জ্যেষ্ঠ কীটতত্ত্ববিদ খলিলুর রহমান প্রমুখ বক্তব্য দেন।

বাপার ভার্চ্যুয়াল আলোচনা সভা
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) উদ্যোগে গতকাল ‘পরিবেশ ও ডেঙ্গু: স্বাস্থ্যগত দৃষ্টিকোণ’ শীর্ষক ভার্চ্যুয়াল আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বাপার সভাপতি সুলতানা কামাল বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন এবং জনসচেতনতার মধ্যে সমন্বয় না থাকলে ডেঙ্গু থেকে বাঁচা দুঃসাধ্য। দেশের পরিবেশ ঠিক না থাকার কারণে আজ বিভিন্ন রোগবালাই বেড়েই চলেছে। সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাপার পরিবেশ ও স্বাস্থ্যবিষয়ক কমিটির আহ্বায়ক আবু মোহাম্মাদ জাকির হোসেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন মহিদুল হক খান, গোলাম রহমান, আফতাব উদ্দিন, এম এস সিদ্দিকী, ফরিদ হাসান আহমেদ প্রমুখ।

সর্বাধিক পঠিত