প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অজয় দাশগুপ্ত: সুবেশী আধুনিক রাজনীতিবিদ

অজয় দাশগুপ্ত: বাংলাদেশের সবগুলো রাজনৈতিক দলের শাখা আছে বিদেশে। আওয়ামী লীগ বেশ কয়েক দফা দেশ শাসনে থাকার কারণে সবাই বলে, বিদেশে একটা আওয়ামী লীগ নিলে নাকি দুইটা ফ্রি পাওয়া যায়। বিএনপিও পিছিয়ে নেই আর ছুপা জামায়াত রয়েছে সবার আগে। প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা সিডনি সফরে এসে বাঙালিদের সভায় বক্তব্য রাখার সময় মজা করে বলেছিলেন,মাত্র দশ বারোজন বক্তার পর তাকে ডাকাতে তিনি অবাক হয়ে গেছিলেন। বলেছিলেন, সিডনি আসার আগে তিনি ছিলেন বিলেতে। সেখানকার সভায় নাকি একজন একজন করে ভাষণ দেওয়ার পর ও তাকে ডাকা হয়েছিলো সত্তর জনের পর।

বিদেশে যারা রাজনীতি করতে চায় তাদের তো মূলস্রোতের রাজনীতি করাই উচিত। বিশেষত তারুণ্য কেন বিদেশে আওয়ামী লীগ-বিএনপি বা অন্যদলের রাজনীতি করবে? তারা কেন নিমজ্জিত থাকবে দেশের পঙ্কিল রাজনীতির আবর্তে? এই তরুণীর বুকে আছে রাজনীতি। বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের রক্তধারায় জন্ম তার। তাই তিনি এবং রাজনীতি অভিন্ন হবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু তিনি তো পথ হারানোর কেউ না। উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার পর রাজনীতিতে এলেন ঠিকই। এবং সেটা বৃটেনের মূলধারায়। বৃটিশ পার্লামেন্টে বিদায় প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে এর সঙ্গে তার একটা ডিবেট আমি দেখেছি। অসাধারণ বাচনভঙ্গি আর চমৎকার ইংরেজিতে বাজীমাত করা এই মেয়েটিকে নিয়ে সেখানকার মিডিয়া কি লিখেছিল জানেন? একজন নারী এমপি বাচ্চা জন্মদানের ঠিক দু’দিন আগে সংসদে এসেছেন হুইল চেয়ারে করে। ধৈর্য নিয়ে পার্লামেন্টের আলোচনা শুনছেন এবং অংশ নিচ্ছেন। নিজের সিজার অপারেশনের তারিখ পিছিয়ে দিয়েছেন শুধু ব্রেক্সিট ইস্যুতে ভোট দেবেন বলে। আর এটি নিয়েই ব্রিটেনজুড়ে আলোচনার ঝড় উঠল। মানুষের জন্য রাজনীতি। রাজনীতির জন্য মানুষ নয়। পার্লামেন্টের নিয়ম দিয়ে একজন দেশ সেবকই শুধু নয়, একজন মা ও শিশুর ভবিষ্যৎ বিপন্ন করা চলে না। তবে ব্রেক্সিটের মতো বিষয়কেওতো গুরুত্ব না দিলে চলে না। তাই ওই সংসদ সদস্যের ঘটনা জন্ম দিল প্রক্সি ভোট দেওয়ার মতো নতুন নিয়ম। এখন ব্রিটেনের সংসদ সদস্যরা অসুস্থ হলে তার শারীরিকভাবে উপস্থিত হয়ে ভোট দেওয়ার দরকার নেই, তার বদলে নির্ধারিত আরেকজন সেই ভোট দিয়ে দিতে পারবেন।

ব্রিটেনের এই আলোচিত সংসদ সদস্য হচ্ছেন টিউলিপ সিদ্দিক। ব্রিটেনের মর্যাদাপূর্ণ ও জনপ্রিয় পত্রিকা ‘দ্য গার্ডিয়ান’ তাকে অভিহিত করেছে ভবিষ্যতের অত্যন্ত প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের একজন দঙহব ঃড় ডধঃপয’। আর ‘সানডে টাইমস’ বলেছে, লেবার পার্টির উদীয়মান তারকা’। ব্রিটিশ বাংলাদেশি পাওয়ার ম্যাগাজিনের সেরা ১০০ প্রভাবশালী ব্রিটিশ বাংলাদেশি পাওয়ার অ্যান্ড ইন্সপায়ারেশনের তালিকায় এসেছে তার নাম। এ ছাড়া ইংল্যান্ডের শীর্ষ প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের তালিকায়ও আছেন টিউলিপ। ২০১৫ সালে ব্রিটেনের হাউস অব কমন্সে যে ভাষণ দিয়েছিলেন সেটি বিবিসির সেরা ১০০ ভাষণের একটি বিবেচিত হয়েছে। অথচ এই মেয়েটিকে ভোটে হারানোর জন্য হেন কোন কাজ নেই যা কিছু বাংলাদেশী করে নি। সবাই জানেন যুক্তরাজ্য একদিকে যেমন আইন বিচার গণতন্ত্র ও সভ্যতার পীঠভূমি তেমনি এর বড় বড় শ্রে আশ্রয় নিয়ে বাস করে নানা দেশের পলাতক খুনী যুদ্ধাপরাধী ঘাতক আর যুবরাজেরা। আমাদের দেশের বেলায় ও সেটা সত্য। আমরা বৃটিশ শাসনে দুশ বছর থাকার কারণে এখনো লন্ডন ই হচ্ছে এদের নিরাপদ ভূমি। তারা টাকা পয়সা অপপ্রচার আর বিরোধিতা করেও তাকে ঠেকাতে পারে নি। প্রথমবার কাউন্সিলের ভোটে পরাজিত হলেও এরপর এম পি নির্বাচিত হন হাজারের বেশী কিছু ভোটের ব্যবধানে। কিন্তু পরের বার সে ব্যবধান বেড়ে দাঁড়ায় দশ হাজারে।

হয়তো জানেন সে দেশে ভারতীয়রা এখন মিনিস্টার তো বটেই আশা করছে একদিন প্রধানমন্ত্রী ও হবেন ভারতীয় কেউ। লন্ডনের দু বারের মেয়র সাদেক খান পাকিস্তানী বংশ উদ্ভুত। আমরা কি আশা করতে পারি না এই তরুণীও একদিন তেমন কোন পদে গিয়ে আমাদের দেশ ও জাতির মুখ উজ্জ্বল করবেন? আর স্বাভাবিকভাবেই তিনি দাঁড়াবেন বাঙালি জাতির হয়ে?এটুকু উদারতার জন্য রাজনীতি দলান্ধ কিংবা স্বার্থপর হবার দরকার নাই। বরং দরকার জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ঐক্যের। যা আমাদের নাই। থাকলে আমাদের অগ্রযাত্রা কেউ রুখতে পারবে না। জন্মদিনে অপার ভালোবাসা আর শুভেচ্ছা জানাই আপনাকে। দীর্ঘায়ু হন সুবেশী আধুনিক রাজনীতিবিদ বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্রী টিউলিপ সিদ্দিক। লেখক : কলামিস্ট

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত