প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] কুমিল্লায় ৬’শ প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই প্রধান শিক্ষক

রুবেল মজুমদার: [২] কুমিল্লা নগরীর গুলবাগিচা আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রিয়াজ উদ্দিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নেউরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ জেলার সর্বমোট ১৭ উপজেলার ৬০৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় চলছে প্রধান শিক্ষক ছাড়াই। এছাড়া ৭৫৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এতে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

[৩] জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলার ১৭টি উপজেলার মধ্যে আদর্শ সদর উপজেলার ১৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই। লাকসাম উপজেলায় প্রধান শিক্ষক নেই ১৪ প্রতিষ্ঠানে, দেবিদ্বারে ৩৮টি প্রতিষ্ঠানে, মুরাদনগরে ৪৩ টি, দাউদকান্দিতে ৮৫টি, চৌদ্দগ্রামে ৩৮টি, বি-পাড়ায় ১৫টি, বরুড়া উপজেলায় ১৪টি, বুড়িচং উপজেলায় ৪৬টি, চান্দিনা উপজেলায় ৫১টি, হোমনা উপজেলায় ৪৯টি, নাঙ্গলকোট উপজেলায় ৪৫টি, মেঘনা উপজেলায় ৪০টি, মনোহরগঞ্জ উপজেলায় ৫৩টি, তিতাস উপজেলায় ২৫টি, সদর দক্ষিণ উপজেলায় ১২টি ও লালমাই উপজেলার ২৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই। এছাড়া ১৭ উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৭৫৮ জন সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে।

[৪] নগরীর গুলবাগিচা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক কাশেদুল হক চৌধুরী বলেন, এ বিদ্যালয়টি একটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান। দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক না থাকায় শিক্ষা কার্যক্রমের ব্যাঘাত ঘটবে এটাই স্বাভাবিক। আমরা আশা করি প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে এর সুনাম অক্ষুণ্ন রাখা হবে। নয়তো প্রতিষ্ঠানটি সেরাদের তালিকা থেকে ছিটকে পড়বে।

[৫] গুলবাগিচা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা লুৎফুর নাহার লিপি বলেন, দীর্ঘ নয় মাস ধরে এই প্রতিষ্ঠানের প্রধানের পদ শূন্য। সিনিয়র শিক্ষিকা নাজমুন নাহার ভারপ্রাপ্ত প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। প্রতিষ্ঠান প্রধান ছাড়া বিদ্যালয়য়ের শিক্ষা কার্যক্রম অনেকটাই ব্যাহত হচ্ছে। আমাদের বিদ্যালয়টি মডেল হওয়ায় আমরা সবাই চেষ্টা করে যাচ্ছি এর সুনাম ধরে রাখতে। আশা করি সহসাই এ প্রতিষ্ঠানে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে এর কার্যক্রম আরও গতিশীল করে তুলবে প্রাথমিক শিক্ষা অফিস।

[৬] নগরীর পুরাতন চৌধুরী পাড়ার রেয়াজ উদ্দিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আয়েশা আক্তার জানান, এক বছর ধরে তিনি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে আছেন। এর পাশাপাশি তাঁকে সিনিয়র সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়মিত ক্লাসগুলো করাতে হয়। এক সঙ্গে দুই দায়িত্ব পালনে অনেকটা চাপ সামলাতে হচ্ছে। তিনি এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন। নতুন প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দিলে তিনি ভারমুক্ত হবেন।

[৭] বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির কুমিল্লা জেলা শাখার সভাপতি ফয়জুন্নেছা সীমা আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘প্রধান শিক্ষক ছাড়া প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক কার্যক্রমসহ শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হয়। করোনা মহামারির কারণে দীর্ঘ ১৮ মাস বদলি বন্ধ রয়েছে, প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয় হাতে কলমে বদলির পরিবর্তে অনলাইনের আবেদনে বদলির পদ্ধতি চালু করেছে। বদলি ও নতুন নিয়োগ হলে শূন্য পদগুলো পূরণ হবে।’

[৮] দাউদকান্দি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. নূরুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘জেলার সবচেয়ে বেশি প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদ এ উপজেলায়। এ উপজেলায় ৮৫টি প্রতিষ্ঠানের প্রধানের পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে ৫৪ সহকারী শিক্ষককে চলতি দায়িত্ব ও ৩১ জন সহকারী শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চলমান রাখা হয়েছে। পদোন্নতি ও নতুন নিয়োগে এ পদগুলো পূরণ করা হবে।’

]৯] জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. আব্দুল মান্নান বলেন, করোনা মহামারির কারণে আমাদের নতুন নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলি বন্ধ ছিল। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর পরই নতুন নিয়োগ ও বদলি শুরু হবে। অনেকের পদোন্নতি হবে। এতে করে প্রতিষ্ঠানগুলোর শূন্য পদ পূরণ হবে। আশা করি অচিরেই এই সমস্যাগুলো সমাধান হবে। সম্পাদনা: হ্যাপি

সর্বাধিক পঠিত