প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শরিফুল হাসান: দোহাই লাগে যানজটের রোজকার যন্ত্রণা থেকে নগরবাসীকে মুক্তি দিন

শরিফুল হাসান: যানজটে সন্ধ্যার পর প্রায় ঘণ্টাখানেক এক জায়গায় বসেছিলাম। মাঝে মধ্যে মনে হয়, শুধু যানজটের কারণে এই শহর ছেড়ে চলে যাই। এই শহরে গাড়ির গতি ঘণ্টায় ৫ কিলোমিটার। অথচ ১২ বছর আগেও এই গতি ছিলো ঘণ্টায় ২১ কিলোমিটার। এক যুগের ব্যবধানে সেটি পাঁচে নেমে এসেছে। ভেবে দেখেন, আপনার হয়তো টাকা আছে গাড়ি কিনেছেন। কিন্তু আপনার যেমন গাড়ি হোক, কম-বেশি যতো দামী গাড়িই হোক, বাসে বা উবারে যেভাবেই যান, ঘণ্টায় পাঁচ কিলোমিটাররের বেশি যেতে পারবেন না। অথচ পায়ে হেঁটেও একই গতিতে চলা যায়। গাড়িতে আপনার কখনো কখনো এক কিলোমিটার যেতে এক ঘণ্টা লাগবে কিন্তু পায়ে হেঁটে আপনি হয়তো ২০ মিনিটে যাবেন। কিন্তু হাঁটার পরিবেশও কী আছে? ফুটপাতগুলো তো প্রায় সব বেদখলে। প্রায়ই মন মেজাজ খারাপ হয়ে যায়। মাঝে মধ্যে মনে হয়, আমাদের নীতি নির্ধারকদের বলি, একটু পাবলিক বাসে বা সিএনজিতে চড়েন। পাবলিকের কষ্টটা বোঝেন। কোনো ভাবনা চিন্তা ছাড়া একেকটা ফ্লাইওভার বানানো হয়েছে। সেখানে উঠতে নামতে ঘণ্টা শেষ। এই যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকার ফলে নগরবাসীর কিন্তু শারীরিক মানসিক নানা সংকট তৈরি হচ্ছে। আমি বলবো, এই শহরের মানুষের পারিবারিক বা সামাজিক বহু অশান্তির কারণ এই যানজট। এই শহরের বহু মানুষ সকালে বের হয় আর রাতে বাসায় ফেরে। পথে যানজটে যায় ৬-৭ ঘণ্টা। এটা কী কোনো নাগরিক জীবন?

বুয়েটের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, ঢাকায় যানজটের কারণে প্রতিদিন ৫০ লাখ কর্মঘণ্টা নষ্ট হয়। আর এই যানজটে বছরে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ৩৭ হাজার কোটি টাকা, যা জাতীয় বাজেটের ১১ ভাগের এক ভাগ। ২০১৮ সালের প্রতিবেদনে বিশ্বব্যাংক বলেছে, ১৯৮০ সালে গাড়ির গড় গতি ছিলো ঘণ্টায় ২১ কিলোমিটার এবং এখন তা কমে দাঁড়িয়েছে ঘণ্টায় ৭ কিলোমিটারেরও কম। এতে যানজটের কারণে প্রতিদিন ৩ দশমিক ২ মিলিয়ন কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। ২০৩৫ সালে ঢাকায় জনসংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ২৫ মিলিয়নে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের ২০১৩ সালে তার এক গবেষণায় দেখানো হয়, শুধু যানজটে কর্মঘণ্টা নষ্টের জন্য বছরে ক্ষতি হয় ১২ হাজার কোটি টাকা। শুধু গণপরিবহণ ব্যবস্থা ভালো নয় বলেই এই শহরে অনেকে ধার করে বা ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে একটি গাড়ি কেনে। কিন্তু তাতে লাভটা কী হয়? বাসের বদলে নিজের গাড়িতে যানজটে বসে থাকতে হয় এই যা। সবচেয়ে বিস্ময়কর ব্যাপার হলো এই শহরে ট্রাফিক সিগন্যাল বলে কিছু নেই। অথচ ছোটবেলায় আমি দেখেছি এই শহরে ট্রাফিক সিগন্যাল ছিলো। লাল-সবুজ বাতি কাজ করতো। এখন সব বৃথা। কিন্তু প্রযুক্তির এই যুগে যেখানে প্রতিটা রাস্তার প্রতিক্ষণের অবস্থা দেখা যায় সেখানে কী প্রযুক্তির ব্যবস্থা নেয়া যায় না? আমাদের নীতি নির্ধারকদের বলবো, একটু ভাবুন। যানজট সমস্যা দূর করা খুব কঠিন কাজ বলে মনে করি না। খুব ভালো দেখে কয়েকশ পাবলিক বাস নামান প্রতিটা রুটে। কোম্পানি করে দিন। নীতি নির্ধারকেরাও এসব বাসে চলুন। কয়েকদিন ব্যক্তিগত গাড়ি সব বন্ধ করে দেখেন। প্রয়োজনে শুধু পাবলিক বাস আর রিকশা-সাইকেল চলুক। ফুটপাতগুলো দখলমুক্ত করে দেন। আর সিগন্যালিং সিস্টেমটা ঠিক করুন। আপনাদের দোহাই লাগে যানজটের রোজকার এই যন্ত্রণা থেকে নগরবাসীকে মুক্তি দিন! ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত