প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দীপক চৌধুরী: নিদারুণ এক দীর্ঘ সংগ্রামী রাজনীতিবিদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

দীপক চৌধুরী: সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র করা, ফেসবুক- ভিডিওতে উস্কানীমূলক অপপ্রচার চালানোর কথা আমরা প্রায়ই দেখছি। সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া জামায়াত-শিবিরের কিছু লোকের কাছ থেকেও এমন তথ্য পেয়েছে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী। মাঝেমাঝেই নব্য জেএমবিসহ জঙ্গি-সন্ত্রাসীরা ধরা পড়ছে। এদের একমাত্র কাজ হচ্ছে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা। সরকারকে অস্থিতিশীল করে তোলা। অবশ্য দেশকাঁপানো গুলশানের হলি আর্টিজানের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর গোয়েন্দা পুলিশ ভীষণ সতর্ক। তবে এরপরও জঙ্গিরা বসে নেই। সরকারও সতর্ক।

মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তি আওয়ামী লীগ ক্ষমতাকালে একশ্রেণির রাজনৈতিক সংগঠনের গাত্রদহ শুররু হয় নির্বাচনের ঠিক আগে আগে। তবে এটাও সত্য যে, সকল ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার ওপর মানুষের আস্থা বাড়ছেই। মানুষ এটুকু বুঝতে পারছে যে, তিনিই শেষ ভরসা।

বর্তমান সময়ে নানান মিথ্যাচার, মিথ্যা তথ্য, গুজব, অপপ্রচার ছড়ানো হচ্ছে। মূল উদ্দেশ্য এদেশের সহজ-সরল মানুষকে বিভ্রান্ত করা। গভীরভাবে লক্ষ্য করলে দেখা যায়, নির্বাচনের আগে আগে অতিকৌশলে একটা নতুন চক্রান্ত ও মিথ্যাচার শুরু হয়ে থাকে। ১৯৯৫-৯৬ সালেও এটি হয়েছে। গত নবম, দশম, একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে আগেও এমনটিই আমরা দেখেছি। কারণ, আওয়ামী লীগকে ঠেকাতে হবে। কথাটা এরকম যে, আওয়ামী-বিরোধী ও বিএনপিপন্থী সমমনাদলগুলো তখন একটাই কাজ সৃষ্টি করে। ওদের একমাত্র টার্গেট থাকে আওয়ামী লীগ ঠেকাও। মিথ্যা, অসত্য তথ্য, গুজব, অযৌক্তিক বক্তৃতা যাই হোক না কেনো? বাঙালির স্বপ্ন পদ্মা সেতু নিয়ে কী করা হয়েছে আমরা জানি না? ’৯৬ সালে খালেদা জিয়া বলেছিলেন পার্বত্য চুক্তি হলে পার্বত্য এলাকায় পাসপোর্টবিহীন যাওয়া যাবে না। মসজিদে উলুধ্বনী হবে। এদেশে মসজিদ হয়ে যাবে মন্দির। কী জঘন্য মিথ্যাচার। অপপ্রচারের ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বলা ২০২১ সালে তো আরো সহজ। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির কারণে তারা নানান সুযোগ পাবে এখন। এটা তো সত্য, এখন মানুষ সরকারি প্রচারযন্ত্র কিংবা মূলধারার সংবাদমাধ্যম থেকে আসা তথ্য বিশ^াস করতে চাইলেও একটি স্বার্থান্বেষী চক্র রয়েছে। নির্ভরযোগ্য না হলেও ফেসবুক, ইউটিউব, অনলাইন ইত্যাদি ব্যবহার করে বিভ্রান্তিমূলক অপপ্রচারের সুযোগ নিচ্ছে চক্ররা। এতে মানুষ বিভ্রান্ত হয়। কিছুদিন আগে টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, তারা ফেসবুক ও গুগলের কাছে অসহায়। অর্থাৎ, এসব মাধ্যমে আসা তথ্য তা যত অসত্যই হোক, বন্ধ করতে পারছেন না) । ফলে, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে একতরফা অপপ্রচার কিংবা গুজবের ঢোল পেটানোর যুগ সম্ভবত আরো সমৃদ্ধ হয়েছে! এজন্যেই আওয়ামী লীগ, আওয়ামী যুবলীগ, ছাত্রলীগ, কৃষক লীগ, শ্রমিক লীগ, ১৪ দলীয় জোটসহ সমমনা মুক্তিযুদ্ধের সকল পক্ষ-শক্তিকে এগিয়ে আসতে হবে। অপপ্রচারের জবাব দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে তাঁর কার্যালয়ের যানবাহন ক্রয় বাতিল করে দেশের সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য-সেবার জন্য ১৫ কোটি টাকা প্রদান করেছেন এটা কিন্তু ফেসবুকে আলোচনায় নেই। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের যানবাহন ক্রয়ের জন্য এই ১৫ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল- এটা ফেসবুকে দেখতে পাই না কেনো? অথচ এটি এতো বড় একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ।

নির্মাণ সমাপ্ত পাঁচটি বিদ্যুৎকেন্দ্র উদ্বোধনকালে আপসোস্ করে গতকাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, “আমি এত উন্নয়ন করার পরেও কিছু কিছু লোকের মুখে কিছু কথা যখন শুনি মনে হয় তখন যেন সেই সব সুরে কথা বলার প্রতিধ্বনিটাই আমি শুনতে পাই। সেই সব শ্রেণির লোকেরা কিন্তু সমালোচনা করেই যায়। যদিও আমি এর পরোয়া করি না। কারণ দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য আমার কাজ করতে হবে এবং জাতির পিতার যে স্বপ্ন এদেশকে ঘিরে, তা পূরণ করতে হবে।”

১৯৮১-তে দেশে ফেরার পর থেকেই প্রতিকূলতার মুখে মানুষের অধিকার আদায়ের রাজনীতি করে আসছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। এর আগে তিক্তকর ও ভয়ংকর অভিজ্ঞতার মুখোমুখী হতে হয় তাঁকে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধু পরিবারকে হত্যার সময় বেঁচে যান বঙ্গবন্ধুর দুই মেয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। ওই হত্যাকাণ্ডের কিছুদিন আগে জার্মানিতে বেড়াতে গিয়েছিলেন দুই বোন। বড় বোন শেখ হাসিনার স্বামী ড. এম ওয়াজেদ মিয়ার কর্মস্থল ছিল জার্মানি। হত্যাকাণ্ডের রাতে দুই বোন ছিলেন বেলজিয়ামে। নৃশংস সেই হত্যাকাণ্ডের পর পরিস্থিতি বদলে যায় দ্রুত।

গত চার দশকের ইতিহাসে এখন এটা দিবালোকের মতো পরিষ্কার যে, জিয়াউর রহমানের বিএনপি আর জেনারেল এরশাদের জাতীয় পার্টির শাসনকাল আমরা দেখেছি, দেশের মানুষ দেখেছে। আসলে তারা মানুষকে কিছু দিতে পারে না। মানুষের জীবন নিতে আর কেবল ধ্বংস করতে পারে। ২০১৩ সালে বিএনপি-জামায়াতের অগ্নিসন্ত্রাস কোনোদিন কী এদেশের মানুষ ভুলতে পারবে। ক্ষমতায় জোর করে যাওয়ার জন্য পেট্রোলবোমা হামলা এদেশকে কীভাবে ভয়ংকর জনপদ করে তুলেছিল তা ভুলবার নয়।

শিক্ষাঙ্গনে আগ্নেয়াস্ত্র-বোমা ছিল নিত্যদিনের সংস্কৃতি। আমরা সেই সংস্কৃতি থেকে বের হতে পেরেছি। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার সরকার কি না করেছে দেশের অগ্রগতির জন্য। বছরের প্রথম দিনে বিনামূল্যে শিক্ষার্থীদের হাতে বই, গরিব শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি, হাজার হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ, পদ্মা সেতু নির্মাণ, বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার, একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী-রাজাকার ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার (হয়েছে ও হচ্ছে), বিদ্যুৎ উৎপাদনের সফলতা, সমুদ্র সীমানা বিজয়, ফ্লাইওভার নির্মাণ, জেলেদের খাদ্যসহায়তা প্রদান, বয়স্ক ভাতা, মাতৃত্বকালীন ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ভাতা, কমিউনিটি ক্লিনিকে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান, প্রতিটি ইউনিয়নে ডিজিটাল তথ্যসেবা স্থাপন, ইকোনমিক জোন নির্মাণ, জঙ্গি ও সন্ত্রাস দমনে সফলতা, নারীর ক্ষমতায়ন, কৃষিতে সফলতা, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, অনলাইন- মোবাইল ও ইন্টারনেটে বিপ্লব, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি, ছিটমহল সমস্যার সমাধানসহ সহস্রাধিক ইস্যুতে সরকারের ইতিহাস সৃষ্টি মানুষকে আকৃষ্ট করে আছে। ছিটমহল নিয়ে এরশাদ-বিএনপি-জামায়াত অর্থাৎ আওয়ামী লীগ বিরোধী সকল শক্তি একজোট হয়েছিল। সেসব দল প্রচার করত-এটি নাকি গোলামি চুক্তি। যদিও তারা ক্ষমতায় থেকেও এর কিনার করতে পারেনি। কিন্তু ৬৮ বছর পর এক ঐতিহাসিক বিজয় নিয়ে এলো শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার। ছিটমহল বিনিময় প্রকৃতপক্ষে এক ঐতিহাসিক অর্জন। ২০১১ সালের যৌথ জনগণনা অনুযায়ী, বাংলাদেশের ভেতরে থাকা ভারতের ১১১টি ছিটমহলের মানুষের সংখ্যা ৩৭ হাজার ৩৮৩ জন এবং আয়তন ১৭ হাজার ১৬০ দশমিক ৬৩ একর। ভারতে থাকা বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহলে মানুষের সংখ্যা ১৪ হাজার ৯০ জন এবং আয়তন ৭ হাজার ১১০ দশমিক শূন্য ২ একর। ২০১৬ সালের ৩১ জুলাই মধ্যরাতে তা কার্যকর হয়। মহামারি করোনাকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকল ক্ষেত্রে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। ভ্যাকসিন ও ব্যবসায়ীদের প্রণোদনা প্রদানসহ এমনকিছু ঘটনা আছে যা পৃথিবীতে বিরল। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার পক্ষেই তা সম্ভব হয়েছে। কারণ, মানুষ আর মানবিকতা তাঁর কাছে গুরুত্ববহ।

লেখক : উপসম্পাদক, আমাদের অর্থনীতি, সিনিয়র সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক

 

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত