প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রাজনাথ, গড়করিকে নিয়ে রাস্তাতেই কেন অবতরণ করল বিমান ?

অনলাইন ডেস্ক: ভাবুন তো, হাইওয়েতে আস্ত একটা বিমান! হাইওয়ে দিয়ে গাড়ি যাবে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু নিমেষে হাইওয়ে যদি বদলে যায় রানওয়েতে? এমনটাই করে দেখালেন ভারতীয় বায়ুসেনার পাইলটরা। আর এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকল বারমের। রাজস্থানের বারমেরে ৯৯৫এ জাতীয় সড়কে অবতরণ করল বায়ুসেনার সি-১৩০জে সুপার হারকিউলিস বিমান। বিমানে তখন বসে ছিলেন দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, সড়ক পরিবহন মন্ত্রী নিতিন গডকরি এবং এয়ার চিফ মার্শাল আর কে এস ভাদুড়িয়া।

কেন হঠাৎ রানওয়ে ছেড়ে রাস্তার উপর অবতরণ করল বিমান? এই অবতরণ ছিল পরীক্ষামূলক। আপৎকালীন পরিস্থিতিতে যদি কাছাকাছি রানওয়ে না পাওয়া যায়, তাহলে জরুরিকালীন ভিত্তিতে বায়ুসেনা কতটা প্রস্তুত; সেটাই পরীক্ষা করে দেখা হল। আর ভৌগোলিক অবস্থানগত দিক থেকেও বারমেরের এই জাতীয় সড়ক যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে আফগানিস্তানের পরিস্থিতি প্রতিমুহূর্তে যেভাবে বদলাচ্ছে, তাতে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনওরকম ফাঁক রাখতে চাইছে না কেন্দ্র।

বারমের থেকে পাকিস্তানের সীমান্ত খুব বেশি দূরে নয়। যদি কখনও সেরকম পরিস্থিতি তৈরি হয় বা যদি কখনও যুদ্ধ বাধে এবং আপৎকালীন অবতরণের দরকার হয়, তার জন্য বায়ুসেনা কতটা প্রস্তুত তা পরীক্ষা করে দেখা হল। একইসঙ্গে প্রতিবেশী ইসলামাবাদকে বার্তাও দেওয়া গেল দেশের সার্বভৌমত্ব এবং অখণ্ডতা রক্ষা করতে ভারত সবসময় প্রস্তুত।

শুধুমাত্র যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির জন্যই নয়, ত্রাণ সরবরাহ বা কোনও কঠিন উদ্ধারকাজের জন্যও যে বায়ুসেনা একেবারে তৈরি, সেই ভরসাও দেওয়া হল নাগরিকদের। একইসঙ্গে যে কোনওরকম পরিস্থিতিতে বিমান অবতরণের জন্য জাতীয় সড়কগুলি কতটা মজবুত, তাও পরীক্ষা করে দেখা হল। আজ বারমেরে ৯৯৫এ জাতীয় সড়কে সি-১৩০জে সুপার হারকিউলিস বিমান ছাড়াও জাগুয়ার এবং সুখোইয়ের মতো যুদ্ধবিমান ওঠা-নামা করে।

কোনওসময় যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি তৈরি হলে শত্রুপক্ষের প্রাথমিক নিশানা থাকে বায়ুসেনার ঘাঁটিগুলি। ওই সময় বিমান ওঠা-নামার জন্য বিকল্প হাইওয়ে না পাওয়া গেলে, সময়মতো জওয়ানদের মোতায়েন করা যায় না। আজকের এই পরীক্ষামূলক অবতরণ সফল হওয়ায় সেই দুশ্চিন্তা থেকে মুক্ত হল বায়ুসেনা।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং আজ এই ঐতিহাসিক সাফল্যের জন্য বায়ুসেনাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। বলেছেন, “সাধারণত আপনারা রাস্তা নিয়ে গাড়ি বা ট্রাক যেতে দেখেন, এখন দেখলেন রাস্তা দিয়ে বিমান ওঠা-নামা। এই সি-১৩০জে বিমানটি একাত্তরের যুদ্ধের সাক্ষী। এই পরীক্ষামূলক আপৎকালীন অবতরণ সফল হওয়ায় বায়ুসেনাকে আরও আত্মবিশ্বাসী করবে। এটা প্রমাণ করে দেশের সার্বভৌমত্ব এবং অখণ্ডতা রক্ষা করতে ভারত সবসময় প্রস্তুত।”

তিনি আরও বলেন, “শুধু যুদ্ধের জন্যই নয়, ত্রাণ সরবরাহ বা কোনও উদ্ধারকাজের জন্যও আমরা সবসময় তৈরি। বিশেষ করে করোনার মতো পরিস্থিতি কোনও যুদ্ধের থেকে কম নয়। যুদ্ধ হোক বা প্রাকৃতিক বিপর্যয়, ভারতীয় বায়ুসেনা সবসময় তৈরি।”

বারমেরে ৯৯৫এ জাতীয় সড়ক ছাড়াও ভিন্ন ভিন্ন রাজ্যে মোট ১২ টি হাইওয়েকে বেছে নেওয়া হয়েছে আপৎকালীন অবতরণের জন্য। সংবাদসংস্থা এএনআই সূত্রে খবর, আগ্রা-লখনউ এক্সপ্রেসওয়েকেও আপৎকালীন অবতরণের জন্য ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে বায়ুসেনা। সূত্র: টিভি নাইন বাংলা

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত