প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অস্থায়ীভাবে বিচ্ছিন্ন ৪০ হাজার গ্যাস সংযোগে জীবনহানির ঝুঁকি

ইত্তেফাক: রাজধানীতে অস্থায়ীভাবে বিচ্ছিন্ন প্রায় ৪০ হাজার সংযোগ চিহ্নিত করেছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি। এ সংযোগগুলো স্থায়ীভাবে বিচ্ছিন্ন করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকারি সংস্থাটি। অস্থায়ীভাবে বিচ্ছিন্ন সংযোগগুলো থেকে পরবর্তীতে অবৈধভাবে গ্যাসের ব্যবহার এবং দুর্ঘটনা প্রতিরোধের লক্ষ্যে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। শুরুতে ঢাকার এবং পরে ঢাকার বাইরে তিতাস গ্যাসের আওতাধীন এলাকায় এই স্থায়ীভাবে সংযোগ বিচ্ছিন্ন কার্যক্রম বিচ্ছিন্ন করা হবে।

সম্প্রতি তিতাস গ্যাস কোম্পানি এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। গত মঙ্গলবার অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণ বিষয়ে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের এক সভায় এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। দুই সভাতেই উপস্থিত থাকা একাধিক কর্মকর্তা জানান, অবৈধ সংযোগ কিংবা গ্রাহকদের ইচ্ছার ভিত্তিতে বিভিন্ন সময় বাসা-বাড়ি বা অফিসের গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। পরবর্তীতে আবার সংযোগ দেওয়া লাগতে পারে এমন বিবেচনায় দীর্ঘদিন ধরেই সেগুলো অস্থায়ীভাবে বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে।

গ্রাহকের আঙ্গিনায় রাইজার রয়ে যায়। কিন্তু এগুলোর অনেকগুলো ব্যবহার করে বেশ কিছু সংখ্যক গ্রাহক পরে অবৈধভাবে পুনরায় গ্যাস সংযোগ স্থাপন করে। এমন অবৈধ সংযোগের কারণে তিতাস গ্যাস লোকসানের শিকার হচ্ছে। একইসঙ্গে এগুলো থেকে বিভিন্ন সময় দুর্ঘটনা ঘটছে। সর্বশেষ গত ২৭ জুন রাজধানীর মগবাজারে একটি তিনতলা ভবনে ভয়াবহ বিস্ফোরণে ১২ জন মারা যান। আহত হন দুই শতাধিক মানুষ। ওই ভবনে থাকা অস্থায়ীভাবে বিচ্ছিন্ন একটি গ্যাস সংযোগ স্থায়ীভাবে বিচ্ছিন্ন না করায় লাইন লিকেজ হয়ে গ্যাস জমে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এমন প্রেক্ষাপটে এক বছরের বেশি সময় ধরে যাদের গ্যাস সংযোগ আইনগতভাবে বিচ্ছিন্ন আছে তাদের সব ধরনের সংযোগ স্থায়ী বিচ্ছিন্ন করা হবে। বেআইনি বা অবৈধ সংযোগ উচ্ছেদ কার্যক্রমও আরও বিস্তারিত উপায়ে পরিচালনা করা হবে। এতে গ্রাহকের নিরাপত্তা বাড়বে, অগ্নি দুর্ঘটনা ও গ্যাস অপচয় রোধ সম্ভব হবে। ওই কর্মকর্তা জানান, প্রায় এক যুগ পর এমন উদ্যোগ নেওয়া হলো।

মগবাজারের বিস্ফোরণের পর তিতাসের তদন্ত কমিটি জানায়, প্রায় ৮ বছর আগে ওই ভবনের গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল। ফলে বিস্ফোরণটি সিলিন্ডার গ্যাস বা অন্য কোনো কারণে হতে পারে। যদিও একাধিক সংস্থার তদন্তে বলা হয়, তিতাসের বিচ্ছিন্ন গ্যাস সংযোগই এ জন্য দায়ী। সিআইডির তদন্তেও জানা যায়, ওই বাড়ির অবৈধ গ্যাস সংযোগ শুধু রাইজার থেকে বিচ্ছিন্ন করেছিল তিতাস। কিন্তু লাইনে গ্যাসের সরবরাহ স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হয়নি। ওই পাইপলাইনে সৃষ্ট ছিদ্র থেকে গ্যাস বের মগবাজারের ওই ভবনের একটি কক্ষে জমে। এটি থেকে পরবর্তীতে বিস্ফোরণ ঘটে।

তিতাস গ্যাস কোম্পানির এক কর্মকর্তা জানান, পুরনো জরাজীর্ণ গ্যাস বিতরণ লাইন প্রতিস্থাপন, বিদ্যমান লাইনে কোথাও ছিদ্র থাকলে সেগুলো চিহ্নিত করে মেরামতসহ বেশকিছু কাজের জন্য প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। একটি বিদেশি কোম্পানিকে জরিপের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কোম্পানিটি অস্থায়ীভাবে বন্ধ গ্যাস সংযোগ চিহ্নিত করেছে। রাজধানী ছাড়াও নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, নরসিংদী, ময়মনসিংহসহ তিতাসের বিতরণ এলাকায় এমন আরও অস্থায়ীভাবে বন্ধ সংযোগ চিহ্নিত করার কাজ চলমান রয়েছে। এখন পর্যন্ত শুধু ঢাকা উত্তর এবং দক্ষিণ অঞ্চলে প্রায় ৪০ হাজার অস্থায়ীভাবে বন্ধ সংযোগ চিহ্নিত করা হয়েছে। উত্তর অঞ্চলে থাকা উত্তরা, বাড্ডা, গুলশান, বনানী, বারিধারা এবং কুড়িল এলাকায় সাড়ে তিন হাজার এবং দক্ষিণে মতিঝিল, খিলগাঁও এবং পুরান ঢাকাসহ আশপাশের এলাকায় প্রায় ৩৭ হাজার অস্থায়ীভাবে বন্ধ সংযোগ রয়েছে। এ সংযোগ গুলোর ৯৫ শতাংশই আবাসিক। বাকি ৫ শতাংশ বাণিজ্যিক ও শিল্প।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত