প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] জিহাদে অংশ নিতে সদাপ্রস্তুত ছিলেন নাবিলা: পুলিশ

সুজন কৈরী : [২] গ্রেপ্তার নারী সদস্য হলেন- জোবাইদা সিদ্দিকা নাবিলা। ২৬ আগস্ট রাজধানীর বাড্ডা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ডিএমপির সিটিটিসির সিটি-ইন্টেলিজেন্স এ্যানালাইসিস ডিভিশনের সাইবার ইন্টেল টিম। তিনি উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী ছিলেন। বর্তমানে তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে সিটিটিসি।

[৩] তার কাছ থেকে জঙ্গীবাদের কাজে ব্যবহৃত সিমকার্ড ও মেমোরিকার্ডসহ মোবাইল ফোনসেট জব্দ করা হয়েছে।

[৪] সিটিটিসি বলছে, আগে আর কোনো নারী জঙ্গি গ্রেপ্তার হয়নি। নাবিলা প্রথম প্রশিক্ষিত নারী জঙ্গি। অন্য জঙ্গি সংগঠনের নারী সদস্য গ্রেপ্তার হলেও তারা নাবিলার মতো প্রশিক্ষিত ছিলো না। আনসার আল ইসলামের হয়ে মিডিয়া শাখা অর্থাৎ জঙ্গিবাদের প্রচার-প্রচারণার দায়িত্ব পালন করতেন নাবিলা। তার সামরিক শাখার সঙ্গে যোগাযোগ ছিলো। তিনি দেশ ও দেশের বাইরে যেকোনো সময় জিহাদ করার জন্য প্রস্তুত ছিলেন।

[৫] রোববার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সিটিটিসির প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, গ্রেপ্তার নাবিলা ২০২০ সালের প্রথম দিকে নিজের নাম পরিচয় গোপন করে ছদ্মনামে একটি ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খোলেন। একসময় তিনি ফেসবুকে আনসার আল ইসলামের অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজ ‘তিতুমীর মিডিয়া’র খোঁজ পান। তখন তিনি এই পেইজে যুক্ত হয়ে সংগঠনের বিভিন্ন উগ্রবাদী ভিডিও, অডিও ও আর্টিকেল সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করে ও তাদের মতাদর্শকে লালন করে। এর প্রেক্ষিতে ‘তিতুমীর মিডিয়া’র পেইজের অ্যাডমিনের সাথে তার যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হয়।

[৭] তিতুমীর মিডিয়ার পেইজের অ্যাডমিন উগ্রবাদী জিহাদী কনটেন্ট সম্বলিত আনসার আল ইসলামের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটগুলোর লিঙ্ক তাকে দেন। এর প্রেক্ষিতে গ্রেপ্তার নারী জঙ্গি আনসার আল ইসলামের সেসব অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রবেশ করেন ও তাদের উগ্রবাদী মতাদর্শকে কঠোরভাবে লালন করেন। তাদের মতাদর্শকে সবার সাথে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দিতে অনলাইন মিডিয়া প্লাটফর্মকে বেছে নেন। এরই ফলশ্রুতিতে গ্রেপ্তার নাবিলা ফেসবুক, টেলিগ্রাম  অনলাইন প্লাটফর্মে বিভিন্ন ছদ্মনামে একাধিক অ্যাকাউন্ট খোলেন।

[৮] আসাদুজ্জামান বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জঙ্গিবাদী প্রচারণার জন্য ২টি ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট, ১টি ও ৪টি টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্টের তথ্য পাওয়া যায়। তিনি ফেসবুকে ভুয়া অ্যাকাউন্ট দিয়ে ব্যাপক হারে আনসার আল ইসলামের উগ্রবাদী সহিংস মতাদর্শ প্রচার, বিভিন্ন উগ্রবাদী প্রচারণাকারী আইডির সাথে নিয়মিত যোগাযোগ ও বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করতেন। আনসার আল ইসলামের মতাদর্শ প্রচারের জন্য টেলিগ্রামের মাধ্যম ব্যবহার করেন। এনক্রিপ্টেড সিকিউরড অ্যাপ টেলিগ্রাম ব্যবহার করে নাবিলা ৪টি অ্যাকাউন্ট এবং টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ১৫টির বেশি চ্যানেল নিজে খুলে তা পরিচালনা করতেন। এসব চ্যানেলে তিনি আনসার আল ইসলামের বিভিন্ন উগ্রবাদী সহিংস ভিডিও, অডিও, ছবি ও ফাইল শেয়ার করতেন।

[৯] নাবিলার নিজের সবগুলো টেলিগ্রাম চ্যানেল মিলে আনুমানিক ২৫ হাজার সাবসক্রাইবার আছে, যারা নিয়মিত তার চ্যানেলগুলো অনুসরণ করেন। নাবিলা তার টেলিগ্রাম চ্যানেলগুলোতে ‘জিহাদ কেন প্রয়োজন’, ‘কিতাবুল জিহাদ’, ‘একাকি শিকারি লন উলফ’, ‘স্নিপার সেলগুলোতে গোয়েন্দাদের অনুপ্রবেশ ও প্রতিরোধের উপায়’, ‘নীরবে হত্যার কৌশল’, ‘পুলিশ শরীয়তের শত্রু’, লন উলফ-বালাকট-মিডিয়া-এইচকিউ’, ‘আল আনসার ম্যাগাজিন ইস্যু’, ‘জিহাদের সাধারণ দিক নির্দেশনা’, ‘তাগুতের শাসন থেকে মুক্তির ঘোষণা’ ইত্যাদি ছাড়াও আরও অসংখ্য উগ্রবাদী সহিংস জিহাদী প্রচারণার বই বিভিন্ন সময় আপলোড করতেন।

[১০] গ্রেপ্তার নাবিলা নিজে আনসার আল ইসলামের বিভিন্ন অফিসিয়াল ও আন-অফিসিয়াল চ্যানেলে যুক্ত ছিল। সেই চ্যানেলে ‘আইডি, স্মোক বোম্ব’ আগ্নেয়াস্ত্র ইত্যাদি তৈরি করা ও বিভিন্ন হামলায় কৌশলগত বিষয়ক ভিডিও এবং ফাইল শেয়ার করতেন।

[১১] সিটিটিসি’র কর্মকর্তা বলেন, গ্রেপ্তার নাবিলা আনসার আল ইসলামের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে এনক্রিপ্টেড সোস্যাল মিডিয়া ‘ঈযরৎঢ়রিৎব’ এ অ্যাকাউন্ট খোলার নির্দেশনা পেয়ে সেখানেও অ্যাকাউন্ট খুলে উগ্রবাদী প্রচারণা চালাতেন। এসব প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই গ্রেপ্তার নাবিলা নারী জিহাদের ময়দানে অংশগ্রহণের জন্য নিজেকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করেন। এমনকি সাম্প্রতিক সময়ে তার বিবাহের কথাবার্তা চললে তিনি ছেলে পক্ষকে জানান, তিনি জিহাদের ময়দানে ডাক আসলে সামনের সারিতে থাকবেন ও শহীদি মৃত্যু আসলেও পিছু হটবেন না। ছেলে এরূপ মতাদর্শের না হলে তিনি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হবেন না।

[১২] এর আগে আনসার আল ইসলামের কোনও নারী সদস্য গ্রেপ্তার হয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে আসাদুজ্জামান বলেন, আগে আনসার আল ইসলামের কোনও নারী সদস্য গ্রেপ্তার হওয়ার তথ্য আমাদের কাছে নেই। আনসার আল ইসলামের এই প্রথম কোনো নারী সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে সিটিটিসি। আনসার আল ইসলামের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল।

[১৩] গ্রেপ্তার নাবিলা ছাড়া আনসার আল ইসলামের আর কোনও নারী সদস্যের সন্ধান আপনারা পেয়েছেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তাকে আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করছি। তিনি আনসার আল ইসলামের যে গ্রুপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন, সেসব লোকজনের নাম আমরা জানার চেষ্টা করছি। তবে এ মুহূর্তে এ বিষয়ে বিস্তারিত আমরা বলতে চাচ্ছি না।

[১৪] নাবিলার টেলিগ্রাম চ্যানেলের সাবস্ক্রাইবারদের মধ্যে কোনও নারী আছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে সিটিটিসি প্রধান বলেন, সাবস্ক্রাইবার কোনও নারী সদস্য থাকতে পারে। আমরা তরুণদের মূলত টার্গেট করে এ বিষয়ে অনুসন্ধান করছি।

[১৫] পরিবারের ভূমিকা কি ছিল এমন প্রশ্নর জবাবে তিনি বলেন, পরিবার চেষ্টা করেছিলো তাকে জঙ্গিবাদ থেকে দূরে সরিয়ে আনতে। কিন্তু পারেনি। পরিবারের অমতেই তিনি এক আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়ানোর কথা বলে বেরিয়ে পড়েন।

[১৬] জিহাদ করার চেষ্টা কোথায় ছিলো জানতে চাইলে তিনি বলেন, যেকোনও জায়গায়, যেকোনও দেশে জিহাদ করার প্রস্তুতি ছিলো তার।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত