প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

এই বাংলাদেশকে কেউ হারাতে পারবে না

ভিকটর কে. রোজারিও : একটা ছবি সারাক্ষণ চোখের সামনে ভাসছে। ছবিটা আমার মনে আশা জাগিয়েছে। ছবিটা ছাপা হয়েছে দৈনিক আমাদের অর্থনীতি পত্রিকায়, জাগোনিউজের সংবাদ সূত্রে।

কৃষি ও অর্থনীতি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশের না কি মাটি/ভূমি সর্বকালের সর্বোচ্চ উৎপাদনশীলতায় আছে। এ দেশের মাটির এমনই গুণ, পৃথিবীর যে দেশ থেকে যে ফল-ফসল এখানে রোপন করা হচ্ছে, মাটি তা-ই ফলাচ্ছে, কৃষককে নিরাশ না করে। কয়েক বছর আগেও এ দেশে হাতে গোনা মাত্র কয়েক প্রকারের ফল ছিলো।

সাম্প্রতিক তথ্যে জেনেছি , দেশে এখন ৭২ রকম ফল উৎপাদন হচ্ছে। যে তরমুজের জন্য আগে সারাবছর অপেক্ষায় থাকতে হত, সে তরমুজ এখন সারা বছরই ফলে। আগে বছরে একবার গ্রীষ্মকালে তরমুজ পাওয়া যেত। এখন বর্ষাকালীন, শীতকালীন তরমুজও পাচ্ছি বাজারে। চৌষট্টি জেলাতেই। শ্রীমঙ্গলে মতিন নামের এক কৃষক তো জমিতে একই সাথে তিন রঙের তরমুজ ফলিয়ে রীতিমত তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। (দৈনিক আমাদের অর্থনীতি, ০৭ অগাস্ট, ২০২১)। মরুভূমির খেজুর ফলিয়ে সফলতা দেখাচ্ছেন দেশের বিভিন্ন জেলার কৃষকরা। তাদের একজন বাগেরহাটের দিহিতার জাকির হোসেন। (দৈনিক আমাদের অর্থনীতি-২৩ অগাস্ট, ২০২১)। ঠাকুরগাঁওসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হচ্ছে আরবীয় ত্বিন (ডুমুর) ফলের সফল চাষ।

একই পত্রিকার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মতিনুজ্জামান মিটু ২০ অগাস্ট একটি প্রতিবেদনে জানিয়েছেন ‘মৌসুমি ফল উৎপাদনে বিশ্বের শীর্ষ ১০ দেশের তালিকায় বাংলাদেশ’।

আগে অঞ্চলভেদে কৃষি জমি ছিলো এক বা দুই ফসলি। বছরে একবার আউশ ধান হত। কোন কোন জমিতে একসাথেই আউশ ও আমন ধান বোনা হত। আউশ কাটার পর জমিতে রয়ে যেত আমন। সারাবছরই টমেটো উৎপাদন হচ্ছে। বিদেশি ফল, সব্জী ও ফুল উৎপাদন হচ্ছে। ইরি ধান আসার পর বদলে গেছে দেশের কৃষিচিত্র। সারা বছরই চলছে ধান কাটা ও লাগানোর উৎসব। এই আউশ উঠছে তো, আমন লাগানো হচ্ছে। দুইয়ের মধ্যেখানে ঢুকে পড়ছে ইরি।

নভেম্বর-ডিসেম্বরে চলনবিলে একই সাথে ধান কাটা ও রসুন লাগানোর দৃশ্য তো রীতিমত উপভোগ করার বিষয়। একই জমিতে দলবেঁধে একদল মানুষ ধানের শীষ কেটে নিচ্ছে। তাদের পিছে পিছে আরেক দল ধানের গাছ বা নাড়া কেটে জমা করছে। একজন সদ্য খালি হওয়া জমিতে ছিটাচ্ছে সার ও কীটনাশক। এরপরই শুরু হয় আরেক উৎসব। নারীরা দলবেঁধে লাগাতে শুরু করেন রসুনের কোয়া। আরেক দল শ্রমিক একটু আগে কাটা নাড়া জমিতে বিছিয়ে ঢেকে দিচ্ছে রসুন। এ এক উৎসব যেন।
প্রথম উল্লিখিত খবর বা আলোচ্য ছবিটার দিকে তাকালে যে দৃশ্যটা আমরা দেখতে পাচ্ছি, একজন পুরুষ একটি গ্রাম্য পাকা রাস্তার উপর পাটি বিছিয়ে ধান উড়াচ্ছেন। রাস্তাটির ঠিক পাশেই চোখ জুড়াচ্ছে আমন ধানের চারা। তার অদূরেই ঝলমল করছে দেরীতে লাগানো পাকা আউশ ধানক্ষেত।

‘মৌলভীবাজারে চলছে ধান তোলার উৎসব’ নামের ছবিটা আমাদেরকে জানান দিচ্ছে অনেকগুলো পরিবর্তনের খবর। প্রথমত, পুরুষের ধান উড়ানো। এ দেশে ধান উড়ানোর কাজটি সাধারণত নারীরা করেন। পুরুষরা করবে জমিতে কাজ আর মহিলারা করবে ফসল ঘরে তোলার আগের কাজগুলো। গত কয়েক বছর ধরে দেখছি, সারাদেশেই পুরুষের পাশে কোমর বেঁধে জমিতে নেমে পড়েছে নারী। তারা ধান লাগাচ্ছে, জমির আগাছা পরিস্কার করছে, ধান কাটছে, রাস্তার মাটি কাটছে। শ্রমের বিভাজন ভুলে পুরুষও তাই দায়িত্ব নিচ্ছে প্রচলিত নারীর কাজের। দ্বিতীয়ত, জমির ব্যবহারের। এটাই আশা জাগানিয়া। একই জমিতে পাশাপাশি দুই অবস্থার ধান। পাকা ও চারাগাছ।

এমন অপূর্ব দৃশ্য যে দেশের কৃষির, সে দেশকে কেউ রুখতে পারবে না। না করোনা, না ফতোয়া। যে জাতি মাটির ব্যবহার করতে শিখে গেছে, তাকে আটকাবার শক্তি কারো হাতে নেই, থাকে না। সম্পাদনা : রাশিদ

 

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত