প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] তিস্তা ভাঙ্গনে সর্বস্ব হারাচ্ছে কুড়িগ্রামের দুই পাড়ের মানুষ

সৌরভ ঘোষ: [২] প্রতিবছর কুড়িগ্রামে তিস্তা নদীর ভাঙ্গনে সহ¯্রাধিক ঘর-বাড়ি, ফসলী জমি ও নানা স্থাপনা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। বছরের পর বছর এ অবস্থা চলতে থাকায় ভিটে-মাটিসহ সর্বস্ব হারিয়ে নি:স্ব হয়ে পড়েছে নদী পাড়ের হাজার হাজার মানুষ।

[৩] এ অবস্থায় তিস্তার স্থায়ী ভাঙ্গন ঠেকাতে তিস্তা নিয়ে মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে সরকার। আর এ অপেক্ষার মধ্যেই নদী গর্ভে বিলীন হচ্ছে ঘর-বাড়ী ফসলী জমিসহ নানা স্থাপনা। এ অবস্থায় তিস্তায় কোন প্রকল্প না থাকলেও কবলিত এলাকা গুলোর ভাঙ্গন ঠেকাতে জরুরী ভিত্তিতে কাজ করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এতে করে কিছু এলাকা সাময়িক রক্ষা পেলেও অস্থায়ী নয়, দ্রæত স্থায়ী ভাঙ্গন রোধে সরকারের মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি স্থানীয়দের।

[৪] এ জেলার উপর দিয়ে ৪৩ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছে খর¯্রােতা তিস্তা নদী। চলতি বর্ষা মৌসুমেও নদীর দুইপাড় জুড়ে ভাঙ্গন দেখা দিলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থাপনা ও জনবসতীপুর্ণ এলাকা বাঁচাতে বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ও জিও টিউব ফেলে ভাঙ্গন ঠেকানোর চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

[৫] খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তিস্তার পানি বাড়া-কমার সাথে সাথে রাজারহাট ও উপজেলার চর গতিয়াসাম, বুড়িরহাট, তৈয়বখাঁ, খেতাবখাঁ, ঠুটা পাইকর এবং উলিপুর উপজেলার গোড়াই পিয়ার, দালালপাড়া, হোকডাঙ্গা, ডাক্তার পাড়া, অর্জুনসহ বেশ কিছু এলাকায় ভাঙ্গন তীব্র হয়ে উঠেছে। এসব এলাকার প্রায় শতাধিক পরিবার ভাঙ্গনের কবলে পড়ে ঘর-বাড়ি অন্যত্র সরিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে।

[৬] এদিকে সাময়িক ভাঙ্গন ঠেকানো এলাকার মানুষের মনে কিছুটা স্বস্তি মিললেও তাদের দাবি মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে স্থায়ী ভাবে ভাঙ্গন প্রতিরোধ করা হোক। আর যে সব ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় এখনো জরুরী কাজ শুরু হয়নি সেসব এলাকার মানুষের দাবি জরুরী ভিত্তিতে ভাঙ্গন ঠেকানোর পাশাপাশি দ্রæত তিস্তার ভাঙ্গন রোধে মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হোক।

[৭] রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের তৈয়বখাঁ এলাকার বাসিন্দা কামাল সরকার জানান, আমার বাড়ি তিস্তার একেবারেই কিনারে। ভাঙ্গন শুরু হলে পানি উন্নয়ন বোর্ড বালুর বস্তা ফেলে তা ঠেকিয়ে রেখেছে। এতে করে আপাতত ভাঙ্গন থেকে রক্ষা পেলেও এই বালুর বস্তা হয়তো আগামী বছর থাকবে না। নদীর নীচে চলে যাবে। তথন আবার ভাঙ্গনে ঘর-বাড়ি হারাতে হবে। আমরা চাই মেগা প্রকল্পের মাধ্যমে দ্রæত স্থায়ী ভাঙ্গন রোধের ব্যবস্থা।

[৮] উলিপুর উপজেলার গোড়াইপিয়ার এলাকার ফজলুল হক জানান, তিস্তার ভাঙ্গনের কবলে পড়ে গ্রামটির বেশিরভাগ এলাকা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

[৯] তিস্তার বিষয়ে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: আরিফুল ইসলামের সাথে কথা হলে তিনি জানান, তিস্তার উজানে ভারতীয় অংশে ভারী-বৃষ্টিপাতের ফলে উলিপুর ও রাজারহাট উপজেলার কিছু এলাকায় ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। তবে এই মুহুর্তে তিস্তার কোন প্রকল্প চলমান নেই। তারপরও আমরা যে এলাকাগুলোতে মেজর স্থাপনা রয়েছে সে এলাকাগুলোতে আমরা জিও ব্যাগ ও জিও টিউব ডাম্পিং করে ভাঙ্গন রোধ করছি।

[১০] দু’একটা জায়গায় বড় ভাঙ্গন রয়েছে সেখানে কাজ করার জন্য আমরা বরাদ্দ চেয়েছি। বরাদ্দ পেলে সেখানে কাজ করে রক্ষা করতে পারব। তবে আমরা আশা করছি যে তিস্তা নিয়ে যে মহাপরিকল্পনা বা মেগা প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, এটা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সানুগ্রহে যদি অনুমোদন হয় তাহলে তিস্তা পাড়ের মানুষের যে নদী ভাঙ্গর দু:খ সেটা থাকবে না। পাশাপাশি খনন হলে নদীও জীবন ফিরে পাবে।

[১১] স্থানীয়রা জানান, সরকারের মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে হাজার হাজার হেক্টর অনাবাদী জমি পরিনত হবে আবাদী জমিতে। তিস্তার দুইপাড় হয়ে উঠবে অর্থনৈতিক অঞ্চল। দুঃখ ঘুচবে নদী পাড়ের মানুষের। সম্পাদনা: সঞ্চয় বিশ^াস

সর্বাধিক পঠিত