প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দেশেই উৎপাদন হবে রেলের যন্ত্রাংশ, নীতিমালা করছে বাংলাদেশ রেলওয়ে

নিউজ ডেস্ক: দেশেই রেলওয়ের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ উৎপাদনের উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। সংস্থাটির নিজস্ব কারখানার পাশাপাশি বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদেরও উৎপাদন প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, বাংলাদেশে উৎপাদন ছাড়াও বিভিন্ন দেশ থেকে যন্ত্রাংশ আমদানি করে রেলওয়েকে সরবরাহ করতে পারবেন উদ্যোক্তারা। এজন্য একটি নীতিমালার খসড়া প্রস্তুত করেছে রেলওয়ে। সংস্থাটির কর্মকর্তারা মনে করছেন, উদ্যোগটির সফল বাস্তবায়ন হলে যন্ত্রাংশ সহজ ও সুলভে যেমন পাওয়া যাবে, তেমনি তা স্থানীয় শিল্পের বিকাশেও অবদান রাখবে। বণিক বার্তা

মূলত ট্রেনের ইঞ্জিনের (লোকোমোটিভ) যন্ত্রাংশ উৎপাদন ও সংগ্রহের জন্য নীতিমালাটি প্রস্তুত করছে রেলওয়ে। নীতিমালায় বলা হয়েছে, বহরে থাকা ইঞ্জিন মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নিয়মিত বিপুল পরিমাণ যন্ত্রাংশ প্রয়োজন হয়। এসব যন্ত্রাংশ বিশেষায়িত সামগ্রী। ডিজেল ইঞ্জিনের যন্ত্রাংশের কোনো ড্রয়িং ও স্পেসিফিকেশন না থাকায় পার্ট নম্বর ও বিবরণের ভিত্তিতে চিহ্নিত করা হয়। এসব যন্ত্রাংশ সংগ্রহ করতে বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ করতে হয় রেলওয়েকে।

নীতিমালায় আরো বলা হয়েছে, পরনির্ভরশীলতা কমানোর জন্য অতীতে বিসিক নীতিমালার আওতায় এবং পরবর্তী মহাপরিচালক বাংলাদেশ রেলওয়ের কার্যালয়, মেকানিক্যাল শাখা থেকে জারি করা নির্দেশনা অনুযায়ী স্থানীয় প্রস্তুতকারক অনুসন্ধান ও সাময়িকভাবে প্রস্তুতকারীদের যন্ত্রাংশ তৈরির অনুমোদন দেয়া হয়। কিন্তু যথাযথ মনিটরিংয়ের জন্য নীতিমালা ও গাইডলাইন না থাকায় এবং উদ্যোক্তাদের দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের সুরক্ষা না থাকায় টেকসই উদ্যোক্তারা বিনিয়োগে উৎসাহী হননি। উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগে আগ্রহী করতেই নীতিমালাটি তৈরি করছে রেলওয়ে।

খসড়া নীতিমালা অনুযায়ী, যেসব উদ্যোক্তা বা প্রতিষ্ঠানের বিসিক তালিকাভুক্তির বা অনুরূপ অন্য কোনো সনদ, নিজস্ব কারখানা, পর্যাপ্ত মেশিনারিজ, দক্ষ জনবল ও আর্থিক সক্ষমতা রয়েছে, তারা যন্ত্রাংশ উৎপাদনের জন্য যোগ্য হবেন। যোগ্যতাসম্পন্ন উদ্যোক্তা বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্নের পর প্রাথমিকভাবে সেটিকে পাঁচ বছরের জন্য একক সোর্স হিসেবে ঘোষণা করবে রেলওয়ে। এ সময়ের মধ্যে উপযুক্ত কারণ ছাড়া দেশী-বিদেশী কোনো সরবরাহকারীর কাছ থেকে চুক্তিবদ্ধ কারখানায় উৎপাদিত পণ্য সংগ্রহ করবে না সংস্থাটি। রেলওয়ে কর্তৃক গঠন করা ডকুমেন্ট অ্যাসেসমেন্ট কমিটি, ফ্যাক্টরি ইন্সপেকশন কমিটি, কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট কমিটি ও মূল্য নির্ধারণ কমিটি এসব বিষয় দেখাশোনা করবে।

কম-বেশি ২৫ হাজার ধরনের যন্ত্রাংশ প্রয়োজন হয় ট্রেনের একটি ইঞ্জিনে। সবই আবার বিশেষায়িত ‘আইটেম’। এসব যন্ত্রাংশের মাত্র ৫ শতাংশ বাংলাদেশে উৎপাদন হয়। ৯৫ শতাংশ যন্ত্রাংশ বিভিন্ন বিদেশী প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সংগ্রহ করে বাংলাদেশ রেলওয়ে। চাহিদা নিরূপণ থেকে দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে যন্ত্রাংশের একটি লট কিনতেই রেলওয়ের সময় লেগে যায় প্রায় দুই বছর। যন্ত্রাংশ সংগ্রহে এ ‘অতিরিক্ত সময়ক্ষেপণ’ ইঞ্জিনের সক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ের এক প্রতিবেদনে।

বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়ের বহরে ব্রড গেজ ও মিটার গেজ মিলিয়ে ইঞ্জিন রয়েছে ২৬৩টি। এর মধ্যে ৭৭ শতাংশ মিটার গেজ ও ৪৭ শতাংশ ব্রড গেজ ইঞ্জিন আবার আয়ুষ্কাল পেরিয়েছে। পুরনো ইঞ্জিনগুলোয় যন্ত্রাংশের প্রয়োজনও হয় বেশি। পাইপলাইনে নতুন ইঞ্জিন কেনার একাধিক প্রকল্পও রয়েছে। ফলে সামনের দিনগুলোতে বাংলাদেশ রেলওয়েতে যন্ত্রাংশের চাহিদা আরো বাড়বে বলে মনে করছেন রেলওয়ের কর্মকর্তারা।

যন্ত্রাংশ সংগ্রহের বিদ্যমান জটিলতা ও ভবিষ্যৎ চাহিদার কথা বিবেচনায় রেখে আমদানি যন্ত্রাংশের বিকল্প উৎস তৈরির পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। এজন্য একটি খসড়া নীতিমালাও প্রণয়ন করেছে সংস্থাটি। নীতিমালার লক্ষ্য সম্পর্কে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ রেলওয়ের রোলিংস্টকের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে সরকারি-বেসরকারি যৌথ উদ্যোগে আমদানি বিকল্প যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ তৈরির মাধ্যমে দেশীয় প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং অধিকতর দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টি করে দ্রুত স্বনির্ভর বাংলাদেশ গঠন করা। অন্যদিকে সম্ভাব্য সর্বোচ্চসংখ্যক লোকোমোটিভের যন্ত্রাংশ দেশে তৈরির সুযোগ সৃষ্টি, বাংলাদেশ রেলওয়েতে যন্ত্রাংশ সরবরাহের জন্য টেকসই উদ্যোক্তা তৈরিসহ সাতটি উদ্দেশ্যের কথা বলা হয়েছে খসড়া নীতিমালায়।

ইঞ্জিনের যন্ত্রাংশ সংগ্রহ প্রক্রিয়ার জটিলতা ও খসড়া নীতিমালার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করে গতকাল যোগাযোগ করা হয় রেলপথমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজনের সঙ্গে। তিনি বলেন, রেলওয়ের পাহাড়তলী ও সৈয়দপুর কারখানায় বগি-ওয়াগনের কিছু যন্ত্রাংশ তৈরি হয়। ইঞ্জিনের যন্ত্রাংশ বলতে গেলে পুরোটাই আমদানিনির্ভর। এ কারণে ট্রেন পরিচালনায় বিভিন্ন সমস্যার মুখে পড়তে হয়। এমন অবস্থায় আমরা চাইছি যন্ত্রাংশের একটি বিকল্প উৎস তৈরি করতে। এতে একদিকে যেমন রেলওয়ের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ সহজেই পাওয়া যাবে, তেমনি স্থানীয় শিল্পেরও বিকাশ ঘটবে বলে মনে করেন রেলমন্ত্রী।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত