শিরোনাম
◈ জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এশীয় দেশগুলোকে ১০ বিলিয়ন ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতি জাপানের ◈ দেশে প্রথম গভীর অনুসন্ধান কূপ খনন শুরু, মিলতে পারে দিনে ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস ◈ মার্কিন বাহিনীর হাতে ইরানি জাহাজ আটক, পাল্টা হুঁশিয়ারি তেহরানের ◈ তাবলিগের শীর্ষ মুরুব্বি মাওলানা ফারুকের ইন্তেকাল ◈ আরও ১৭১ খেলোয়াড় ক্রীড়া কার্ড পেলেন ◈ ওয়াশিংটনের দাবিকে ‘অবাস্তব’ আখ্যা, আলোচনায় না যাওয়ার ঘোষণা ইরানের ◈ যে জেলায় আগের দামেই মিলছে জ্বালানি তেল! ◈ ব্যঙ্গাত্মক কার্টুন শেয়ার করায় গ্রেফতারের পর কারাগারে, সংসদে হাসনাত ও চিফ হুইপের মধ্যে বিতর্ক ◈ জোট শরিকরা সংরক্ষিত নারী আসনে কে কতটি পেল জামায়াত থেকে ◈ বিদ্যুৎ খাতে ৫২ হাজার কোটি টাকা বকেয়া, ঋণের বোঝা দেড় লাখ কোটি: সংসদে জ্বালানিমন্ত্রী

প্রকাশিত : ১৯ আগস্ট, ২০২১, ০২:২৪ রাত
আপডেট : ১৯ আগস্ট, ২০২১, ০২:২৪ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

মিরাজুল ইসলাম: বাঙালি তালেবানদের সঙ্গে আফগানি তালেবানদের মোটা দাগে পার্থক্য থাকবেই

মিরাজুল ইসলাম: আমার ধারণায় তালেবান নেতারা কিছুটা হলেও ভারতীয় ইতিহাস থেকে পঠন-পাঠন নিয়ে কাবুলের রাজপ্রাসাদে প্রবেশ করেছেন। এই কাবুল থেকেই মুঘল সাম্রাজ্যের গোড়া-পত্তন করা বাবর ধন-সম্পদ-রত্ন প্রত্যাশী সৈন্যদের নিয়ে ভারত জয় করতে রওয়ানা দিয়েছিলেন। দিল্লির ইব্রাহীম লোদী গংদের পরাজিত করার পর বাবরের সৈন্য সামন্তরা নেচে-গেয়ে, সুসজ্জিত নগরীর প্রমোদ ভবনগুলোতে রাত কাটিয়ে এবং যার পক্ষে যতোটুকু সম্ভব সব লুটপাট করে আবার কাবুলের পার্বত্য এলাকায় ফিরে যেতে চেয়েছিলো। বর্তমান তালিবান সৈন্যদের নাচ-গান-খানা-পিনা কিংবা শিশুদের পার্কে আনন্দ করার দৃশ্য অবলোকন করে সেইসব কথা মনে পড়ে গেলো। কিন্তু বাবর চেয়েছিলেন হিন্দুস্তানে স্থায়ী হতে। তিনি ছিলেন সুদূরপ্রসারী চিন্তাশীল একজন মুঘল।

তাঁর প্রধান সেনাপতিদের প্রবল আপত্তি উপেক্ষা করে হিন্দুস্তানেই স্থায়ী হলেন বাবর। দিল্লির অঢেল রাজকোষ বাবরকে স্বস্তি দিয়েছিলো। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন শক্তিক্ষয় করে সারা জীবন জঙ্গের ময়দানে কাটানো সম্ভব নয়। মুঘল সম্রাট বাবর তাঁর ধর্ম-মত-সংস্কৃতির সম্পূর্ণ বিপরীত মতের বিশাল জনগোষ্ঠীর মাঝে নিজস্ব শাসন ব্যবস্থা কিভাবে কায়েম করলেন, তা যেকোনো দখলদারদের জন্য আদর্শ। বাই এনি চান্স, তালেবানরা যদি ভারত শাসন করা তাদের অতীত পুরুষদের কাছে থেকে শিক্ষা নিয়ে গোঁড়া মরুকরণের পাশাপাশি আধুনিক মেরুকরণ ঘটাতে পারে, তবে ধরে নেওয়া যায় আফগানিস্তানে তালেবান শাসন দীর্ঘতর হতে যাচ্ছে।

তবে বাঙালি তালেবানদের সঙ্গে আফগানি তালেবানদের মোটা দাগে পার্থক্য থাকবেই। কারণ এখন আদর্শগত ধর্মের সঙ্গে জড়িয়ে আছে মোক্ষম রাজনীতি। সুতরাং লম্বা দাড়ি ও পাগড়ী পড়ে ঘরের বিবি-বাচ্চাদের হিজাব করালেই বাংলাদেশি তালেবানমনস্কদের পক্ষে আফগানি মোল্লা হওয়া সম্ভব না। বাবরের বংশধর আওরঙ্গজেব নিজেও সেই চেষ্টা করতে গিয়ে পুরো মুঘল সাম্রাজ্যের পতন তরান্বিত করেছিলেন। তার চেয়ে বড় কথা তারা খায় খটখটে শুকনা রুটি, আর আমাদের ঝোল মেখে দুই বেলা ভাত না খেলে চলেই না। লেখক ও চিকিৎসক

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়