প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মুসা কলিম মুকুল: অমানুষের কারাগার হতে ধূলির ধরায় পরীর মুক্তি হোক

মুসা কলিম মুকুল: ব্যাটালোকের আরো মেয়েমানুষ চাই। অল্প পয়সার ও অল্প ক্ষমতার ব্যাটালোকেদের বিশুদ্ধ কিছু নারীদেহ হলেই চলে যায়। পয়সা ও ক্ষমতায় মদমত্ত ব্যাটা লোকেদের স্বহস্তে খুলবার জন্য মেয়েমানুষদের গতরে আগে অভিজাত পোশাক ও গহনাদি পরানো চাই। পয়সা ও ক্ষমতার বাড়াবাড়ি হলে কেবল অভিজাত সাজপোশাক ওয়ালি মেয়েমানুষে ব্যাটালোকেদের চলে না আর, মেয়েমানুষকে অনেকখানি ‘শিল্পী’ হতে হয়। আরো পয়সা ও ক্ষমতাওয়ালা ব্যাটালোক হলে তাদের কাছে মেয়েমানুষদের যেন ‘প্রেম করছে’- এমন ভাবসাব দেখাতে হয়। নইলে তাদের উন্নত রূচি উঠতে চায় না।

পয়সা দিয়ে মেয়েমানুষদের দেহে অভিজাত সাজসজ্জা অনায়াসে চড়ানো যেতে পারে। পয়সার মাপে শিল্প ও শিল্পী মেলে কোন দেশে-কালে?

ভাবের প্রকাশ হলো শিল্প। প্রকাশের জন্য ভাণ্ডে কল্পনা না থাকলে কী প্রকাশ করবে এই জরুরি মেয়েমানুষেরা? কী করে উত্থিত করবে ভদ্দরব্যাটালোক খদ্দেরের রূচি? নারী হোন আর নর হোন, যিনি কল্পনার আকাশ-পাতালবিহারী তার মুক্তি তো সত্যিকারের ভাবে, প্রেমে ও প্রকাশে। চিরায়ত শিল্পী তো পয়সার অনুগামী নন। অথচ শিল্পীনারীদেহই যে চাই-ই চাই ক্ষমতামত্ত ব্যাটালোকের! অভিজাত উন্নত রূচি যে অনুত্থিত রয়!

টাকায় ও ক্ষমতায় বাঘের দুধও মেলে, শিল্পী তো কোন ছার! অি ভজাত ব্যাটা লোকেদের পয়সা ও ক্ষমতার সামনে অতএব শিল্পের সংজ্ঞা সামান্য বদলে নিতে হয়। শিল্পের জন্য কল্পনা আর প্রকাশের দক্ষতার অনিবার্যতাকে ছেঁটে দিলেই হয়ে গেল। এর পর শিল্পের গায়ে যা থাকে তাকে পয়সার বাজারে তোলা কঠিন হয় না আর। কত ‘সঙ্গীত’, কত ‘নৃত্য’, কত ‘চলচ্চিত্র’ এখন বাজারে! কত প্লাগ-ইন, কত রঙচঙ কত ধুন্ধুমার আজ শিল্পের সুপারমার্কেটে! সিনেমার পর্দা উঠে যাবার পরও অভিনেত্রীরা ধূলির ধরায় ঝলমলে নায়িকা হয়ে রয়ে যায়। কল্পনাশক্তি আর প্রকাশের দক্ষতা যখন প্রয়োজনীয় নয়, এইসব নায়িকা, গায়িকা, পাঠিকা, মডেল ইত্যাদির আবেদনময়ী দেহটি রয়ে যায় ‘রূচি’র আবেদন নিয়ে। শাড়ি-গয়না, ‘শিল্প’, ‘প্রেম’ ইত্যাদি খুলে নিলে যে সারবস্তুটি থাকে, দেহ যার নাম, যেটিই আরাধ্য আসলে- তার চর্চা ষোলআনা, কোথাও ফাঁকিজুকি নেই। মজনুর প্রেমদৃষ্টির গুণেই কেবল যে লাইলি অনিন্দ্য সুন্দরী হয়ে ওঠে- সেই লাইলির চরিত্রের জন্যও তাই ‘মিস ইন্ডিয়া’ বানিয়ে আনতে হয়।

হুরী বল, পরী বল, পেত্নী বল আর শাকচুন্নী বল, লাইলি তো নয় কেউ, মিস ইউনিভার্স সকলে। বিশ্বজগতের নদী- বন-সমুদ্রের, জীবজগতের, মানুষের সমাজের বিপদের দিনে এইসব বীর কুমারীরা কর্তব্যে ঠনঠন হলেও আকাইম্যা ক্ষমতাওয়ালাদের রূচির উত্থানের প্রয়োজনে এইসব কুমারীদের নির্মাণ করতেই হয়।

কবি চন্দ্রাবতী কিংবা মহাশ্বেতা দেবী পয়সার জোরে কেউ বানাতে পারে না, ক্ষমতার জোরে কেউ ওইসব প্রকাশকামী শিল্পীকে আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপও করতে পারে না। বাজার পরী বানায়, হুরী বানায় বাজারের প্রয়োজনে, শিল্পপতির টাকার জোরে হয় ‘শিল্প’, ‘শিল্পী’, ‘প্রেম’, ‘প্রেমিকা’ ইত্যাদি। কিন্তু মুশকিল হলো, পরী-হুরীরাও মানুষ যে। মানুষ স্বভাবতই মানবীয় ঝামেলা পাকিয়ে ফেলে। পয়সা আর ক্ষমতা ভোগ চায়, মানবীয় ঝামেলা নয়। মুহূর্তেই পরী-হুরী ইত্যাদি ‘শিল্পী-প্রেমিকা’কে আস্তাকুঁড়ে ফেলতে তাই দ্বিধা করে না শিল্প পতি। শিল্পপতি, ছত্রপতি ইত্যাদি ব্যাটালোকের রূচির ছাঁচে গড়া পরী তো পরী নয় মোটে, মানুষ। মানুষকে মানুষ হতে দিতে হয়। অমানুষের কারাগার হতে ধূলির ধরায় পরীর মুক্তি হোক। ফেসবুক থেকে

সর্বাধিক পঠিত