প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] দুর্নীতি করে কেউ পার পাবে না, বললেন পানি সম্পদ উপমন্ত্রী

সোহেল মিয়া: [২] সোমবার (৯ আগস্ট) রাজবাড়ীতে কাজ শেষ হতে না হতেই ৩৭৬ কোটি টাকার প্রকল্পের সিসি ব্লক দফায় দফায় ভেঙে যাওয়া ও দৌলতদিয়া ঘাট এলাকার পদ্মার ভাঙন পরিদর্শনকালে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামিম বলেন যে কোন প্রকল্পই হোক দুর্নীতি করার কোন সুযোগ নেই। প্রধানমন্ত্রী আমাদের মন্ত্রীদেরকে কর্মীর মতো কাজ করতে বলেছেন। আমরা প্রধানমন্ত্রীর কথা মতো কাজ করছি। কোন প্রকল্পে কেউ দুর্নীতি করলে সে ধরা পড়বেই। দুর্নীতি করে কেউ পার পাবে না।

[৩] ভাঙন এলাকা পরিদর্শনকালে উপ-মন্ত্রী আরো বলেন, ৩৭৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত কংক্রিট দিয়ে সিসি ব্লক ভেঙে যাওয়া সত্যিই দুঃখজনক। এখানে অভিযোগ উঠেছে নির্মাণকাজে ত্রুটি ও দুর্নীতি থাকতে পারে। এই অভিযোগটি গুরুত্বসহকারে দেখা হবে। এব্যাপারে ঢাকায় ফিরে গিয়ে খুব দ্রুত একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। নির্মাণকাজে যদি কোন গাফলতি কিম্বা ত্রুটি থাকে তবে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা দায়ের করে শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কোন দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়া হবেনা।

[৪] গত ১৬ জুলাই সন্ধ্যার পর থেকে দফায় দফায় পদ্মার ভাঙন শুরু হয়। ভাঙনে রাজবাড়ী সদর উপজেলার গোদার বাজার এলাকায় ৭টি পয়েন্টের ৩ শত মিটার এলাকার হাজার হাজার কংক্রিটের সিসি ব্লক নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এতে হুমকির মধ্যে পড়ে রাজবাড়ী শহরক্ষা বাঁধসহ নদী তীরবর্তী শত শত স্থাপনা। এতে করে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয় নদী পাড়ের মানুষসহ রাজবাড়ীর সচেতন মহলের মধ্যে।

[৫] বিদ্যমান পরিস্থির মধ্যে আজ বিকেলে তিনি সদর উপজেলার বরাট ও মিজানপুর ইউনিয়নের গোদারবাজার এলাকার শহর রক্ষা বাঁধের সুরক্ষার জন্য ব্লক দিয়ে স্থায়ীভাবে পদ্মা নদীর তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের ধসে যাওয়া অংশ পরিদর্শন করেন।

[৬] এ সময় সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য কাজী কেরামত আলী, সংরক্ষিন মহিলা আসনের সংসদ সদস্য সালমা চৌধুরী রুমা, খোদেজা নাসরিন আক্তার হোসেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মো. ফজলুর রশিদ, জেলা প্রশাসক দিলসাদ বেগম, পুলিশ সুপার এম এম শাকিলুজ্জামান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের ফরিদপুর অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী আবদুল হেকিম, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী ইরাদত আলী, রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল আহাদ, পৌরসভার মেয়র আলমগীর শেখ তিতুসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও আওয়ামীলীগের নেত্রীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

[৭] উল্লেখ্য, রাজবাড়ীতে নদী ভাঙন রোধে ২০১৮ সালের জুন মাসে পদ্মা নদীর শহর রক্ষা বাঁধের ডান তীর প্রতিরক্ষার কাজ (দ্বিতীয় পর্যায়) প্রকল্পের আওতায় রাজবাড়ী সদর উপজেলার বরাটে তিন ও মিজানপুরে দেড় কিলোমিটারসহ সাড়ে চার কিলোমিটার এবং ২০১৯ এর জুলাইয়ে শুরু হওয়া (প্রথম সংশোধিত) শহর রক্ষা বাঁধের গোদার বাজার অংশের আড়াই কিলোমিটারসহ মোট সাত কিলোমিটার এলাকায় ৪৫২ কোটি টাকা ব্যায়ে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়।

[৮] এতে দ্বিতীয় পর্যায়ের সাড়ে চার কিলোমিটারে ৩৭৬ কোটি ও প্রথম সংশোধিত ১৫২৭ মিটারে ৭৬ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়। প্রকল্পের জন্য ৮.৩ কিলোমিটার অংশে ৪৯ লক্ষ ঘনমিটার ড্রেজিং করা হয়েছে। কিন্তু কাজ শেষ হতে না হতেই ২৭ জুলাই মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজবাড়ী সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নের গোদারবাজার এলাকার এনজিএল ইট ভাটার কাছে প্রায় ১৮০-২০০ মিটার বাঁধের ধ্বস হয়।

[৯] এর আগে ১৬ জুলাই গোদার বাজার চরসিলিমপুর এলাকার নদীর তীর এলাকার প্রকল্পের স্থানের কাজ শেষের দুই মাস না যেতেই প্রায় ২০মিটার অংশের ব্লকে ধসে যায়। পরে ব্লক ও জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙনরোধ করে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত