প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] প্রযুক্তির ছোঁয়ায় কৃষিতে দিন বদল, ভোলায় আমনের আদর্শ বীজতলা প্রস্তুতিতে ব্যস্ত কৃষকরা

মনিরুজ্জামান: [২] বোরো ফসল ঘরে তোলার পর আমন চাষের নতুন স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামছে ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার কৃষকগণ। বীজতলা প্রস্তুতিতে ব্যস্ততম সময় কাটছে তাদের। আধুনিক প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে এখানকার কৃষকরা। প্রযুক্তির ছোঁয়া কৃষকদের ঘরে ঘরে। প্রযুক্তির ছোয়ায় বদলে যাচ্ছে এ এলাকার কৃষি ব্যবস্থা। উদ্যোমী কৃষকগণ নতুন নতুন প্রযুক্তি গ্রহন করছে। লাভবান হচ্ছে তারা। দিন বদল হচ্ছে কৃষকদের। এক কথায় গ্রামীণ কৃষি অর্থনীতি গতিশীল হচ্ছে দ্বীপজেলায়। কৃষিক্ষেত্রে যুক্ত হওয়া এমন একটি প্রযুক্তি হচ্ছে কমিউনিটি ও আদর্শ বীজতলা।

[৩] শষ্য ভান্ডার হিসাবে পরিচিত দ্বীপ জেলা ভোলা।জেলার বোরহানউদ্দিন উদ্দিন উপজেলায় প্রতিটি আদর্শ বীজতলা তৈরীতে দিন দিন কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এ পদ্বতিটি। কমিউিনিটি বা আদর্শ বীজতলা তৈরী করায় কৃষকদের ধান উৎপাদ খরচ ৩০ থেকে ৩৫ ভাগ কম লাগছে এমন কথা বললেন কৃষি অফিসের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা খায়রুল আলম ও উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মো. ফিরোজ আলম।

[৪] বোরহানউদ্দিন উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়,চলতি আমন মৌসুমে উপজেলায় ১৫হাজার ৫শত হেক্টর জমিতে উপশী এবং ২ হাজার ৯শত হেক্টর জমিতে স্থানীয় জাতের আমন আবাদের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। যার বিপরীতে ্১ হাজার ২৭৫ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরী করা হয়েছে। যার মধ্যে উচ্চফলনশীল ১০৩৩ হেক্টর , ও স্থানীয় জাতের ২৪২ হেক্টর।

[৫] গত শনিবার বাটামারা ব্লকের মোঃ নাছিরের সাথে কথা হয়। তিনি জানান, একসাথে এক একর জমিতে ব্রি ধান ৫২ এর আদর্শ বীজতলা তৈরির কথা। উপজেলার পক্ষিয়া,টবগী ও কুতুবা ইউনিয়নের কয়েকটি ব্লকের আধুনিক বীজতলা পরিদর্শনে গেলে টবগী ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের কৃষক বিরান চন্দ্র দাস,নিরব, রিপন ইব্রাহিম, পক্ষিয়া ইউনিয়নের আকতার, মালেক, আলমগীর, কুতুবা ইউনিয়নের অহিদ সর্দার,আমির হোসেন, গংগাপুর ইউনিয়নের সবুজ, বেল্লাল,আলমগীর জানায়,উপজেলা কৃষি অফিসার বিভিন্ন ট্রেনিং এর সময় আমাদেরকে আদর্শ পদ্ধতিতে বীজতলা বপন করতে বলেছেন।

[৬] মাঠ পর্যায়ের অফিসারগন আমাদেরকে ১মিটার পাশ এর পর একটু জায়গা খালি রেখে (আলাদা আলাদা বেড করে আদর্শ বীজতলা) ধান রোপণ করত বলছেন। বীজতলায় তারা ব্রি ধান ৫২,৭৬ বিনা ধান-১৭,২০ এবং স্থানীয় কার্তিক সাইল, মধুমালতি, সাদা মোটা, সাদা চিকন, রাজাসাইল বীজ ধান লাগান বলে জানান।

[৭] তারা জানান, উপজেলা কৃষি অফিসের সহযোগীতা ও পরামর্শে ওই পদ্ধতিতে বীজতলা তৈরী করেন। প্রচলিত পদ্ধতির চেয়ে আদর্শ পদ্ধতিতে যে কোন জমিতে বীজতলা করলে তা থেকে চারা উঠানো খুবই সহজ। তাছাড়া এ পদ্ধতিতে বীজতলা তৈরী করলে বীজ,শ্রম সার,কীটনাশক স্প্রে, সেচ দেওয়া সহজ ও সময় কম লাগে। পূর্বের পদ্ধতিতে তৈরী বীজতলার চারা দিয়ে ২.৫ একর জমি রোপন করতে ৫০ কেজি বীজের চারা লাগত। আদর্শ বীজতলার ক্ষেত্রে ওই পরিমান জমিতে লাগে ৩৫ কেজি বীজ এর চারা। এ সময় কৃষি কর্মকর্তা কয়েকটি বীজতলা পরিদর্শন করেন।

[৮] উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ওমর ফারুক জানান,আদর্শ পদ্ধতিতে বীজতলা করলে সব দিক দিয়েই উপকৃত হয় কৃষক। এছাড়া ও চারায় ছত্রাক জনিত বাকানী রোগ হলে কিংবা বিজাত বাচাই করে চারা উপড়ে ফেলতে সহজ হয়।তিনি আর ও জানায়,বিভিন্ন প্রকল্প ভিক্তিক প্রশিক্ষণের সময় কৃষকদেরকে আদর্শ বীজতলা গ্রহণের পরামর্শ প্রদান করা হয়।

সর্বাধিক পঠিত