প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] ঈশ্বরদীতে আষাঢ়ের বৃষ্টিতে আমনে আশীর্বাদ

রিয়াদ ইসলাম: [২] আষাঢ়ের বৃষ্টির পানিতেই আমন ধানের চাষ শুরু হয়েছে। চলতি আমন মৌসুমের চারা ভালো হওয়ায় ও টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে কৃষকেরা আগাম আবাদ শুরু করেছেন। কৃষকেরা এখন দিনরাত খেতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

[৩] সরেজমিনে দেখা যায়, ঈশ্বরদী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আমন ধানের বীজতলা তৈরিতে ব্যস্ততা বেড়েছে কৃষকদের। চলতি মৌসুমের বোরো পাকা ধান কাটা শেষ হয়েছে মাত্র। আর এই ধান কাটার সঙ্গে সঙ্গেই আমন ধানের বীজতলা তৈরিতে ব্যস্ত সময় কাটাতে শুরু করেন কৃষকরা।

[৪] এ দিকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার হাট-বাজারে হরেক রকম হাইব্রিড জাতের আমন ধানের বীজ বিক্রি হচ্ছে। যে কারণে দোকানগুলোতে বেড়েছে কৃষকদের বিভিন্ন উন্নত ফলনশীল জাতের ধানের বীজ কেনার হিড়িক।

[৫] কথা হয় উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের কৃষক ওবায়দুল আলীর সঙ্গে। তিনি জানান, এবার ৫ বিঘা জমিতে ধান চাষের জন্য ৬ শতক জমিতে বীজতলা তৈরি করেছেন। জমিতে চারা লাগাতে সব মিলিয়ে ৩৫ থেকে ৪৫ দিন সময় লাগবে।

[৬] একই কথা বলেন মাঝদিয়া গ্রামের শফিকুল ইসলামও। তিনি বলেছেন, বোরো ধান চাষ করে এবার আমরা অনেক লাভবান হয়েছি। তাই দ্রুত আমন ধানের বীজতলা তৈরির জন্য জমির আগাছা পরিষ্কার করে উপযোগী করে তুলেছি। চারাগুলো কিছুদিন পর নতুন জমিতে রোপণ করব।

[৭] লক্ষীকুন্ডা ইউনিয়নের কামালপুর চর এলাকার কৃষক হাসান সোহেল জানান, লোডশেডিংয়ের যন্ত্রণা থেকে রেহাই পেতে ও গভীর নলকূপের সেচের খরচ বাঁচাতে কৃষকেরা মধ্য আষাঢ়ের বৃষ্টির পানি জমিতে বেঁধে আগাম চাষ শুরু করে দিয়েছেন। একদিকে সেচের খরচ, অন্যদিকে শ্রমিকের উচ্চমজুরিও বেঁচেছে।

[৮] ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৪ হাজার ২৬৫ হেক্টর জমিতে ১৯ হাজার ১৯২ মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

[৯] তিনি জানিয়েছেন, কৃষকরা উফসি এবং হাইব্রিড জাতের ধান বেশি রোপণ করছে। এ জাতের ধানে ১শ ২০ থেকে ১শ ৪০ দিনের মধ্যে ফসল পাওয়া যাবে। আর হেক্টর প্রতি ৪ থেকে ৫ মেট্রিক টন ফলন পাওয়া যাবে। এ বছরও কৃষক পরিবারকে বিনা মূল্যে উন্নতমানের বীজ, সার ও কীটনাশক বিতরণ করা হয়েছে। মাঠ কর্মীরা কৃষকদের সব ধরণের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত