প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎ প্রকল্পের সবাইকে দেয়া হবে করোনা টিকা

রিয়াদ ইসলাম: [২] পুরো উদ্যোমে এগিয়ে চলছে রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণ কাজ। ২০২৩ সালে প্রকল্পটি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে রাশিয়া ও বাংলাদেশীসহ মোট ২৫ হাজার মানুষ নিরলসভাবে কাজ করছেন।

[৩] প্রকল্পের পরিচালক ড. শৌকত আকবর জানান, ‘রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প দেশের অগ্রাধিকারভুক্ত একটি প্রকল্প। দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতেও এ প্রকল্পের কাজ আগের মতো পুর্ণোদ্যমে চলছে। করোনা ভাইরাস যাতে এই প্রকল্পের কাজে কোনো বাধা হতে না পারে সে জন্য সরকারি নির্দেশনা মেনে প্রকল্পের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।’

[৪] তিনি বলেন, ‘জুলাই মাসে প্রকল্পে কর্মরত প্রায় আট হাজার বাংলাদেশী ও বিদেশী নাগরিকের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার ৭ থেকে ৮ শতাংশ। আক্রান্ত রুশ কর্মীদের রূপপুর আবাসন প্রকল্পের গ্রিন সিটির হসপিটালে আইসোলেশন করে চিকিৎসা দেয়া হয়। এছাড়াও তাঁদের জন্য ১০টি ডেডিকেটেড কোভিড-১৯ হাসপাতালে চিকিৎসা ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বাংলাদেশি কর্মীরা যারা আক্রান্ত হচ্ছেন তাঁদের সংশ্লিষ্ট কোম্পানি নিজ নিজ বাড়িতে আইসোলেশন করে চিকিৎসা নিশ্চিত করছেন।

[৫] ড. শৌকত আকবর জানান, ‘ইতিমধ্যে আমরা একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। আগামী ১০-১১ জুলাইয়ের মধ্যে রুশ সরকারের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রোসাটমের পরিচালক ও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রীর মধ্যে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে কিভাবে কোভিড নিয়ন্ত্রণ করা যায় সে বিষয়ে আলোচনা করে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে রূপপুর প্রকল্পে কর্মরত সকলকে করোনাভাইরাসের টিকা প্রদানের ব্যবস্থা করা হবে।’

[৬] বৃহস্পতিবার প্রকল্প এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, প্রকল্প সাইটের সকল প্রবেশ পয়েন্টসহ অফিস বিল্ডিং এবং ক্যান্টিনে প্রবেশকালে কর্মীদের তাপমাত্রায় স্ক্যান করা হচ্ছে। সাইটের সকল স্থানে প্রতিদিনই পরিচালিত হচ্ছে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম। দেশী-বিদেশি সকল কর্মীকে মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার সরবরাহ করে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় সকল স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করা হচ্ছে। চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে সকল ধরণের স্বাস্থ্য নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।

[৭] এ বিষয়ে প্রকল্পের সাইট ইনচার্জ রুহুল কুদ্দুস বলেন, প্রকল্পের প্রবেশ পথে একটি মেডিকেল ক্যাম্প বসানো হয়েছে। সেখানে প্রকল্পের নিজস্ব চিকিৎসক এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের লোকজন প্রকল্পে কর্মরত সকলের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করছেন। প্রকল্প পরিচালকের নির্দেশে আমরা বিদেশিদের হোম কোয়ারেন্টাইনের সময়সীমা পূরণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করছি। তিনি আরও বলেন, রাশিয়ার আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তায় দেশে প্রথম এই পরমাণু বিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে ২০২৩ সালে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কথা রয়েছে। ফলে করোনা সতর্কতা অবলম্বন করেই প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নেয়া হচ্ছে।

[৮] এদিকে রুশ রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি কর্পোরেশন রোসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচোভ এক বিবৃতিতে বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসজনিত পরিস্থিতিতে কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সাধারণ জনগণের জীবন ও স্বাস্থ্যকে সর্বাধিক প্রাধান্য দিয়ে জরুরী নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন।

[৯] এতে বলা হয়, রাশিয়ার পারমাণু বিদ্যুৎ স্থাপনাগুলোতে অতিরিক্ত যে সকল পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে তার মধ্যে রয়েছে, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, যথাসম্ভব বেশি সংখ্যক লোককে দূর থেকে কাজ করার সুযোগ প্রদান, প্রচুর পরিমাণে ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী ও হাইজিন পণ্য সংগ্রহ, কর্মকর্তাদের বিদেশ সফর বাতিল। এ ছাড়াও সকল স্থাপনা ও যানবাহনগুলোতে অব্যাহতভাবে জীবাণুমুক্ত কার্যক্রম পরিচালিত করা।

[১০] বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, করোনা সংকটকালেও বিদেশে নির্মাণাধীন প্রকল্পগুলোর কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তবে এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারের নির্দেশনা বিশেষভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত