শিরোনাম

প্রকাশিত : ০২ জুলাই, ২০২১, ০৩:৫০ রাত
আপডেট : ০২ জুলাই, ২০২১, ০৩:৫০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বিলুপ্তপ্রায় চিত্রার কৃত্রিম প্রজননে সফলতা অর্জন

বিলুপ্তপ্রায় চিত্রা মাছের কৃত্রিম প্রজনন এবং পোনা উৎপাদনে সফলতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট খুলনার পাইকগাছার লোনাপানি কেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা। মিঠা পানির বিলুপ্তপ্রায় মাছ পুনরুদ্ধারের পর এবার উপকূলীয় অঞ্চলের বিলুপ্তপ্রায় চিত্রা মাছ নিয়ে সফলতা পেলেন তারা। উপকূলীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক গুরুত্বসম্পন্ন মাছ চিত্র। মাছটি অঞ্চল ভেদে পায়রা, বিশতারা, বোথরাসহ একাধিক নামে পরিচিত। মাছটির বৈজ্ঞানিক নাম ঝপধঃড়ঢ়যধমঁং ধৎমঁং। মাছটি দেখতে যেমন আকর্ষণীয় খেতেও সুস্বাদু। এক সময় চিত্রা মাছ সুন্দরবন ও তৎসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকার নদ-নদী, খাঁড়ি ও ঘেরে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যেত। পরিবেশ বিপর্যয় ও সংরক্ষণের অভাবে এ মাছটি প্রায় হারিয়ে যাচ্ছে। ইনস্টিটিউটের খুলনা জেলার পাইকগাছার লোনাপানি কেন্দ্রে মা মাছ প্রতিপালন করে চলতি বছরের মে-জুন মাসে কৃত্রিম প্রজননে এই সফলতা এসেছে। গবেষক দলের নেতৃত্বে ছিলেন, লোনাপানি কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এবং কেন্দ্রপ্রধান ডক্টর মো. লতিফুল ইসলাম।

সূত্র জানায়, গবেষণার জন্য চার বছর আগে খুলনার শিবসা নদী এবং সুন্দরবন সংলগ্ন খাল হতে চিত্রা মাছের পোনা সংগ্রহ করা হয়। পরবর্তীতে, কেন্দ্রের আবদ্ধ পুকুরে প্রচলিত ভাসমান খাবারে অভ্যস্তকরণের মাধ্যমে প্রজননক্ষম মাছে পরিণত করা হয়। গবেষক দলের অন্যতম বিজ্ঞানী শাওন আহম্মেদ জানান, এই মাছ দৈর্ঘ্যে সাধারণত ৩৫ সে.মি. এবং সর্বোচ্চ ওজন ১.৫ কেজি পর্যন্ত হতে পারে। একই বয়সি পুরুষ মাছ স্ত্রী মাছ অপেক্ষা আকারে ছোট হয়ে থাকে। নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে জীবদ্দশার দ্বিতীয় বর্ষে কিছু মাছ প্রজননক্ষম হলেও তৃতীয় বর্ষে অধিকাংশ (৮০%) মাছ প্রজননক্ষম হয়। এ সময় পুরুষ মাছের সর্বনিম্ন ওজন ৮০ গ্রাম এবং স্ত্রী মাছ ১৮০ গ্রাম হয়ে থাকে। একটি প্রজননক্ষম চিত্রা মাছ প্রতি গ্রাম দেহ ওজনের জন্য ২০০০-২৫০০টি ডিম ধারণ করে থাকে।

গবেষক দলের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মিজানুর রহমান ওয়াসীম জানান, চিত্রা মাছ স্বভাবে সর্বভুক এবং এর প্রজনন মৌসুম হচ্ছে এপ্রিল-জুলাই মাস। পরিপক্ব মাছকে হ্যাচারিতে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে হরমোন প্রয়োগ করে প্রজননে উদ্দীপ্ত করা হয়। তিনি আরও জানান, চলতি বছরের ফেব্রম্নয়ারি মাস থেকেই প্রজননের চেষ্টা চালানো হয়েছে। কিন্তু এ বছর অতি খরাজনিত কারণে মাছের পরিপক্বতা আসতে বিলম্ব হলেও ধারাবাহিকভাবে চেষ্টা চালানোর পর কাঙ্ক্ষিত সফলতা পাওয়া গেছে।

চিত্রা মাছের প্রজনন ও পোনা উৎপাদনে সফলতা প্রসঙ্গে গবেষক দলের প্রধান বিজ্ঞানী ডক্টর মো. লতিফুল ইসলাম বলেন, গত চার বছর ধরে মাছটির কৃত্রিম প্রজনন নিয়ে কেন্দ্রে গবেষণা করা হচ্ছে। প্রজননক্ষম মাছ উৎপাদন, প্রজনন মৌসুম নির্ধারণ, প্রজননের জন্য উপযুক্ত লবণাক্ততা, উপযুক্ত হরমোন নির্বাচন ও ডোজসহ বিভিন্ন বিষয় নিরূপণের পরেই চিত্রা মাছের পোনা উৎপাদনে সফলতা এসেছে।

তিনি আরও বলেন, হ্যাচারিতে এখন সর্বমোট পাঁচ ব্যাচের পোনা রয়েছে। প্রথম ব্যাচের উৎপাদিত পোনার বয়স এখন ৩৪ দিন এবং সর্বশেষ ব্যাচের রেণুর বয়স ৫ দিন। উৎপাদিত রেণুগুলোকে প্রাথমিকভাবে গ্রিন অ্যালজি এবং রটিফার জাতীয় খাবার দিয়ে বড় করা হচ্ছে এবং পর্যায়ক্রমে আর্টেমিয়া ও অন্যান্য রেডি ফিড প্রয়োগ করা হচ্ছে। স্বাদু পানির মাছের কৃত্রিম প্রজননের তুলনায় লোনাপানির মাছের কৃত্রিম প্রজনন কষ্টসাধ্য বিষয় উলেস্নখ করে লতিফুল ইসলাম বলেন, লোনাপানির মাছের প্রজননে পারিবেশিক ও পারিপার্শ্বিক অনেকগুলো নিয়ামক বিবেচনায় নিতে হয় এবং রেণুর প্রাথমিক খাদ্য হিসবে লাইভ ফিড প্রয়োজন হয় যা উৎপাদন কষ্টসাধ্য।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ডক্টর ইয়াহিয়া মাহমুদ বলেন, বিলুপ্তপ্রায় চিত্রা মাছের প্রজনন সফলতা ইনস্টিটিউটের জন্য গর্বের। আমাদের বিজ্ঞানীরা নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে এ সফলতা অর্জন করেছে। সুস্বাদু চিত্রা মাছের কৃত্রিম প্রজনন কৌশল উদ্ভাবিত হওয়ায় মাঠপর্যায়ে এর পোনা উৎপাদন, প্রাপ্যতা ও চাষের প্রসার ঘটবে। চিত্রা মাছের প্রজনন সাফল্য বাংলাদেশকে মেরিকালচার তথা সুনীল অর্থনীতির ক্ষেত্রে উলেস্নখযোগ্য ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সূত্র:যায়যায়দিন

  • সর্বশেষ