শিরোনাম
◈ বিদ্যুৎ বিভ্রাট কাটিয়ে সচল জাতীয় গ্রিড, ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে বিদ্যুৎ সরবরাহ ◈ রমজানের আগে ভোজ্যতেলের দাম লিটারে ১৫ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব ব্যবসায়ীদের ◈ হুথিদের হামলা বন্ধে ১০০ কোটি ডলারের প্রস্তাব সৌদি আরবের, ইরানের মাধ্যমে যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ ◈ বাংলাদেশে ১ লাখ কোটি ইয়েন বিনিয়োগ করবে জাপান, ৫ বছরে ২ লাখ কর্মসংস্থানের লক্ষ্য ◈ চীনকে মোকাবিলায় মেগা বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা ভারতের, যে কারণে প্রতিবাদ করছে অরুণাচলের তরুণ প্রজন্ম ◈ সংরক্ষিত নারী আসনের উপনির্বাচন: বিএনপির প্রার্থী এলিজা জামানের মনোনয়নপত্র বৈধ, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার পথে ◈ নতুন বেতনকাঠামো: ১ নভেম্বর বকেয়াসহ বেতন পাবেন যারা, বঞ্চিত হবেন অনেকেই ◈ ইশরাকের আলোচিত মাদকবিরোধী অভিযানের পর গেন্ডারিয়ার ঘুন্টিঘরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ◈ মুক্তিযোদ্ধার দাফনে বাধা, আইজিপির বক্তব্য ও অস্বাস্থ্যকর খাবার নিয়ে যা বললেন তথ্য উপদেষ্টা (ভিডিও) ◈ পুতিনের প্রাসাদ ঘিরে নতুন ১৫টি আকাশ প্রতিরক্ষা টাওয়ার, নিরাপত্তায় ৫০ স্থাপনা

প্রকাশিত : ২৯ জুন, ২০২১, ০৯:৩৫ রাত
আপডেট : ২৯ জুন, ২০২১, ০৯:৩৫ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ইমরান আহমেদ ভূঁইয়া: "ব্যাংক ন্যায়পাল আইন সময়ের দাবি"

ইমরান আহমেদ ভূঁইয়া: লোন টেকওভার ব্যাংকের একটি প্রচলিত বিষয়। লোন টেকওভারের সময় সব সময়ই যে সম্পূর্ণ ঋন পরিশোধ করা হয় তা নয় অনেক ক্ষেত্রে পরবর্তী দায় পরিশোধের ক্ষেত্রে যে ব্যাংক লোন টি টেকওভার করছেন তিনি, যার লোনটি টেকওভার হচ্ছে সে ব্যাংক' কে ব্যাংক গ্যারান্টি প্রদান করেন। বিষয়টি'কে খোলাসা করার জন্য উদাহরন দেওয়া যেতে পারে। ধরুন 'ক' একটি রপ্তানিমূখী গার্মেন্টস শিল্প প্রতিষ্ঠান। তিনি 'খ' ব্যাংকের কাছ থেকে বিভিন্ন ক্যাটাগরির ঋন সুবিধা গ্রহন করে ব্যাবসা করে আসছেন। এর মধ্যে একটি হচ্ছে এলসি সুবিধা।

বিদেশী বায়ার "খ" ব্যাংকের মাধ্যমে ক এর নিকট নিদির্ষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট পরিমানের গার্মেন্টস পন্য সরবরাহের জন্য এলসি পাঠায়। এলসিতে বলা থাকে পন্যের মূল্য কত, কি রকমের সুতো বা ফেব্রিক্স এমনকি কোন রকমের বোতাম, জিপার ইত্যাদি দিয়ে পন্যটি তৈরি করতে হবে। 'ক' পন্য বিক্রির অর্ডার পাওয়ার পর উল্লেখিত সুতো বা ফেব্রিক্সের জন্য অর্থাৎ কাঁচামাল কেনার জন্য পুনরায় কাঁচামাল সরবরাহকারী দের নিকট এলসি পাঠান। বিদেশি বায়ারের থেকে প্রাপ্ত এলসি কে বলা হয় মাস্টার এলসি আর দেশীয় রপ্তানিকারক কাঁচামাল সরবরাহকারী দের যে এলসি দেয় তাকে বলা হয় ব্যাকটু ব্যাক এলসি।

সাধারনত ব্যাক টু ব্যাক এলসির পেমেন্ট হয় মাস্টার এলসির পেমেন্ট আসার পরে। যদি মাষ্টার এলসির পেমেন্ট না আসে তা যে কারনেই হোক না কেন ব্যাক টু ব্যাক এলসির পেমেন্ট দিতে বাধ্য থাকে ব্যাক টু ব্যাক এলসি প্রদানকারী ব্যাংকের। আবার উদাহরনে ফিরে যাই। "খ" এর সাথে ব্যাংকিং করে "ক" এর সুবিধা হচ্ছে না একে তো সুদের হার বেশি অন্যদিকে আগের ব্যাংক ম্যানেজার তুলনায় বর্তমান নতুন ম্যানেজার অনেক বেশী রক্ষনশীল ব্যাংকিং করেন "গ" আরেকটি ব্যাংক "ক" তার সাথে যোগাযোগ করে। গ এর অফার ক এর মনপুত হয়। "খ" এর সকল ফান্ডেড দেনা "গ" পরিশোধ করে লোন টেক ওভার করে আর নন ফান্ডেড এলসির দেনা পরিশোধের জন্য নতুন ব্যাংক আগের ব্যাংক কে ব্যাংক গ্যারান্টি দেয়।

'খ' ব্যাংকের অনেক গুলো মাষ্টার এলসির মধ্যে একটির পেমেন্ট আটকে যায়। ফলতঃ 'খ' 'ক' এর নামে ফোর্স লোন তৈরি করে ব্যাক টু ব্যাক এলসির পেমেন্ট করে ফোর্সলোন কৃত টাকা ব্যাংক গ্যারান্টির অধীনে 'গ' এর নিকট ক্লেইম করলো কিন্ত 'গ' পেমেন্ট করলো না। ক ঋন খেলাপী হল। সিআইবি'তে নাম উঠলো সকল ঋণসুবিধা বাতিল হলো। ক ক্ষতিপুরনের জন্য গ এর বিরুদ্ধে মামলা করলো। অন্যদিকে গ মামলা করলো অর্থঋন আদালত আইনে। নিশ্চিত ভাবেই বলা যায় গ এর মামলা চলবে মেট্রোরেলের গতিতে আর ক এর মামলা চলবে স্টীম ইঞ্জিনের গতিতে। ব্যাংক ন্যায়পাল প্রতিষ্ঠা ছাড়া কিভাবে সম্ভব এই দুইয়ের সমন্বয় করা। ইন্ডিয়া তে যা হয়েছে ৯০ এর দশকে বাংলাদেশে অন্তত ২০২১ সালে করতে সমস্যা কি? অনেক গ্রাহকই ব্যাংকের কর্মকর্তা কর্মচারীদের স্বেচ্ছাচারিতার স্বীকার। তারা যাবে কই। বাংলাদেশ ব্যাংক কি সব অভিযোগের সুরাহা করতে পারে? কেন খালি চেকে ইচ্ছেমত অংক বসিয়ে চেক ডিজঅনার করে মামলা করা গ্রাহকের বিরুদ্ধে? ব্যাংকের এসকল অপকর্ম, গ্রাহক হয়রানি রোধ করার জন্য ব্যাংক ন্যায়পাল আইন করা এখন সময়ের দাবি। (লেখক ডেপুটি এটর্নি জেনারেল)

 

  • সর্বশেষ