প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ডজনখানেক মেগা প্রকল্পে ভর করে আন্তঃসংযোগের মডেল হয়ে উঠছে বিমসটেকের দেশগুলো

আসিফুজ্জামান পৃথিল: বঙ্গোপসাগরের উপর নির্ভরশীল দেশগুলোর আন্তঃসম্পর্ক জোরদার করতেই গঠন হয়েছিলো বিমসটেক। এর আগে কখনই সাগরভিত্তিক কোনও আন্তর্জাতিক সহায়তা গড়ে উঠেনি। সে হিসেবে এই উদ্যোগ ছিলো বেশ চমকপ্রদ। এছাড়াও দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে এরকম উদ্যোগ এই প্রথম। ভারতের উদ্যোগে গঠিত এই সংস্থায় বড় ধরণের ফায়দা পাচ্ছে ভৌগলিকভাবে বিচ্ছিন্ন ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল। তবে আঞ্চলিক সংযোগ থেকে অন্য দেশগুলোর প্রাপ্তিও কম নয়।

বিমসটেক একীভূত করেছে বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, মিয়ানমার, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ডকে। এই অঞ্চলে থাকেন বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ২১ শতাংশ। সব মিলিয়ে এই অঞ্চলের জিডিপি ২.৮ ট্রিলিয়ন ডলার। গড় প্রবৃদ্ধি সাড়ে ৬ শতাংশ।

ভারতের জন্য এই প্লাটফর্ম তার পূর্বে তাকাও নীতির বাস্তবায়নের পথ তৈরি করেছে। আর বাংলাদেশকে তৈরি করেছে দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া, বিশ্বের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় দুই অঞ্চলের জংশন হিসেবে। বঙ্গোপসাগরের তীরবর্তী দেশগুলো শেষ পর্যন্ত বুঝতে পেরেছে, তারা বিশ্বের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় সাগরের প্রান্তে বসে আছে।

এই দেশগুলো মিলে গড়ে তুলছে ভারত-মিয়ানমার-থাইল্যান্ড ত্রি মহাসড়ক। যাতে যুক্ত হতে পারে বাংলাদেশ। একদিন এই মহাসড়ক কম্বোডিয়া, লাওস হয়ে ভিয়েতনামে যাবে বলেও আশা রয়েছে। ভারত আশা করছে তার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয়রাজ্যগুলোর সীমান্তবর্তী ৪ দেশ, নেপাল, ভুটান, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে ওই অঞ্চলে বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়াতে। ফলে এই অঞ্চলে থৈরি হতে যাচ্ছে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক সুযোগ।

ইতোমধ্যেই এই লক্ষ্যে কমপক্ষে ৭টি প্রকল্প শেষ হয়েছে অথবা চলমান রযেছে। ২০২২ সালে শেষ হবে ব্রহ্মপুত্র পরিযোজনা প্রকল্প। কাজ চলমান আছে ত্রি মহাসড়কের। ১২৯ কোটি ডলার ব্যয়ে শেষ হয়েছে ফেনি সেতু। ২১ সালে শেষ হবে আখাউড়া-আগরতলা রেল লিঙ্ক। এতে ব্যয় হচ্ছে বিপুল ৯৬৮ কোটি ডলার! নির্মিত হয়েছে দিল্লি হা নই রেল লিঙ্ক। ২০২০ সালে কার্যক্রম শুরু করেছে হলদিবাড়ি-চিলাহাটি রেল-লিঙ্ক। কাজ চলছে করিমগঞ্জ-সিলেট রেল লিঙ্কের।

বিমসটেকের সঙ্গে নিজেদের মুক্ত ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় পরিকল্পনা নিয়ে যুক্ত হতে চায় জাপান।এটিকে সামনে রেখে দেশটি ইতোমধ্যেই বড় ধরণের বিনিয়োগ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারে। গত বছর টোকিও ঘোষণা দিয়েছে চীন থেকে সরিয়ে বাংলাদেশে কোনও কোম্পানি বিনিয়োগ করতে চাইলে দেওয়া হবে ভর্তুকি। তবে চীন নিজেদের জন্য এই উদ্যোগকে প্রায় হুমকি মনে করছে। কারণ তাদের আছে বেল্ট ্যাান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ। অবশ্য তারা বাঁকা পথে না গিয়ে জাপানের বিনিয়োগস্থলগুলোতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। ফলে দুই দিক থেকেই লাভবান হচ্ছে বাংলাদেশসহ বেশ কিছু দেশ। আবার এই অঞ্চলে আশিয়ানের এশিয়ান হাইওয়ে প্রকল্প এখন চরমান। ফলে এক সঙ্গে ৩ শক্তির চেষ্টায় বাংলাদেশ পরিণত হতে যাচ্ছে এশিয়ার জংশনে। ভৌগলিক অবস্থানই ঢাকাকে এই বিশেষ সুবিধা এনে দিয়েছে। পদ্মা বহুমখিী সেতুন কাজ পুরোপুরি শেষ হয়ে গেলে বাংলাদেশের এক প্রন্ত থেকে আরেক প্রান্ত সড়ক ও রেলপথে পুরোপুরি সংযুক্ত হয়ে যাবে। যা প্রভাব পেরবে এশিয়ার সংযোগেই। এই যোগাযোগ সুবিধার কথা মাথায় রেখেই বাংরাদেশ দুটি ও মিয়ানমার একটি মেগা বন্দর প্রকল্প নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।

বিমসটেক ও অন্য সংযোগ উদ্যোগগুলো নিশ্চিতভাবেই এই অঞ্চলের জিডিপিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। সার্ক ও আশিয়ান দেশগুলোর সাগর কেন্দ্রীক এই উদ্যোগ অবম্যই উইনিক। এই উদ্যোগের ফলে শুধু অর্থনীতি নয়, মানব উন্নয়ন সূচকেও পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রযেছে। তবে আদতে এ থেকে কোন দেশ কতোটা ফায়দা নিতে পারবে সে প্রশ্ন উঠছে। আর মিয়ানমার ক্রমেই যেভাবে গৃহযুদ্ধের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, এসব উদ্যোগে ধীরগতি চলে আসারও শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত