প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ফাইজারের টিকা দেয়া হবে না রাজধানীর বাইরে

নিউজ ডেস্ক: করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে শিগগিরই ফাইজার-বায়োএনটেকের টিকা প্রয়োগ শুরু করবে সরকার। তবে পরিবহন ও সংরক্ষণ জটিলতায় এ টিকা রাজধানীর বাইরে প্রয়োগ করা হবে না। গতকাল নিয়মিত বুলেটিনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র ও পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম এ কথা জানান। এদিকে গতকাল দেশে দেড় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চসংখ্যক রোগী শনাক্ত হয়েছে।

ডা. নাজমুল ইসলাম জানান, ফাইজারের টিকা অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় পরিবহন ও সংরক্ষণের কথা চিন্তা করে ফাইজারের টিকাটি রাজধানীর হাসপাতালে প্রয়োগের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। যে হাসপাতালগুলোতে যারা আগে টিকা পেতে নিবন্ধন করেছিলেন এবং কোনো কারণে আগে গ্রহণ করতে পারেননি তারা অগ্রাধিকার পাবেন। যারা আগে নিবন্ধন করেছেন তারাই এ টিকা আগে পাবেন। এছাড়া স্বাস্থ্যকর্মী ও অন্য যেসব ফ্রন্টলাইনার এখনো তাদের প্রথম ডোজ টিকা পাননি, তাদের ক্ষেত্রে প্রাধান্য দেয়া হবে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ), শেখ রাসেল জাতীয় গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল এবং জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের করোনা টিকাদান কেন্দ্রে ফাইজারের টিকা দেয়া হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, ফাইজারের টিকা গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারী মায়েদের দেয়া যাবে না। অ্যালার্জি প্রতিক্রিয়ার ইতিহাস (অ্যানাফাউল্যাক্সিস) থাকলে সেসব ব্যক্তিকে টিকা দেয়া যাবে না। প্রথম ডোজ দেয়ার পর যদি অ্যালার্জি প্রতিক্রিয়া হয়ে থাকে, তাহলে দ্বিতীয় ডোজ দেয়া যাবে না। কোনো ব্যক্তির শরীরে ৩৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রার জ্বর থাকলে তাকেও এ টিকা দেয়া হবে না। এমনকি গ্রহীতার কভিড-১৯ রোগের লক্ষণ থাকলে সেরে না ওঠা পর্যন্ত টিকা দেয়া যাবে না। এছাড়া অসুস্থ ও হাসপাতালে ভর্তি ব্যক্তিকেও দেয়া হবে না ফাইজারের টিকা।

উল্লেখ্য, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নেতৃত্বে করোনার টিকার জন্য গড়ে ওঠা বৈশ্বিক জোট কোভ্যাক্স ফ্যাসিলিটি গত ৩১ মে ১ লাখ ৬২০ ডোজ ফাইজারের টিকা ঢাকায় পাঠায়। এ টিকা মাইনাস ৯০ থেকে মাইনাস ৬০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করতে হয়। একই সঙ্গে প্রয়োগের আগে এক ধরনের মিশ্রণ মিশিয়ে তা ডোজে রূপান্তর করতে হয়। ফাইজারের টিকা রাখার জন্য সরকারের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) নিজস্ব ব্যবস্থাপনা, জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান (আইপিএইচ), রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর), আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি), বিএসএমএমইউ গবেষণাগারে এ টিকা রাখার মতো উপযুক্ত রেফ্রিজারেটর রয়েছে।

এদিকে গতকাল দেশে আরো ২ হাজার ৫৩৭ জন কভিড-১৯ পজিটিভ হয়েছে। শনাক্তের এ সংখ্যা গত দেড় মাসে সর্বোচ্চ। গতকাল আরো ৩৬ জন করোনা রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

সরকারের করোনাবিষয়ক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সর্বশেষ গত ২৮ এপ্রিল গতকালের চেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছিল। সেদিন ২ হাজার ৯৫৫ জনের শরীরে ভাইরাসটির সংক্রমণ ধরা পড়ে। নতুন আক্রান্তদের নিয়ে দেশে মোট করোনা রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮ লাখ ১৭ হাজার ৮১৯। আর মারা গেছে ১২ হাজার ৯৪৯ জন কভিড-১৯ পজিটিভ রোগী। সর্বশেষ ২ হাজার ২৬৭ জন করোনা রোগী সুস্থ হওয়ায় এ পর্যন্ত সুস্থ রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৫৭ হাজার ৫৬৯।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশের ৫১০টি পরীক্ষাগারে ২০ হাজার ৫৮৪টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এ পর্যন্ত সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৬১ লাখ ৬ হাজার ৭৯১টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। মোট শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৩৯ শতাংশ।

গতকাল মারা যাওয়া ৩৬ জনের মধ্যে ১৭ জন পুরুষ ও ১৯ জন নারী। তাদের ৩৩ জন সরকারি ও তিনজন বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। মৃতদের বয়স বিবেচনায় ২১ জন ষাটোর্ধ্ব। বাকিদের মধ্যে আটজন ৫১ থেকে ৬০, চারজন ৪১ থেকে ৫০, দুজন ৩১ থেকে ৪০ এবং একজনের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ছিল। বিভাগভিত্তিক হিসাবে তাদের মধ্যে ছয়জন করে ১২ জন ঢাকা ও চট্টগ্রাম, নয়জন রাজশাহী, ১০ জন খুলনা, একজন সিলেট এবং চারজন রংপুরের বাসিন্দা। সূত্র- বণিক বার্তা

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত