প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রাশেদা রওনক খান: বেকারত্বের প্রণোদনা : আর্থিক নয়, যোগ্যতা প্রমাণের!

রাশেদা রওনক খান : সরকার করোনা মোকাবেলায় বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা স্থিতিশীল রাখতে বিভিন্ন খাতে প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। অনেকেই প্রণোদনা পাওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে দাবি করে যাচ্ছে এবং তা সবই আর্থিক প্রণোদনা। এবারই একটা প্রণোদনার আবেদন দেখলাম, যা তারা টাকার অংকে চায়নি, চেয়েছে যোগ্যতা প্রমাণের জন্য দুটো বছর! শিক্ষক হিসেবে শিক্ষার্থীদের এই আবেদন দেখে অভিভূত হয়েছি, গর্ববোধ করছি যে, তারা নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণের জন্য সময় চেয়েছে, অর্থ নয়। আশা করছি রাষ্ট্র বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করবে।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিভিন্ন সময় একটাই কথা বলি, নিজেকে যোগ্য করে তোলো, দেখবে চাকরির বাজার তোমাকে খুঁজছে। কারণ আমাদের শিক্ষার্থীরা চাকরির বাজারে ঢুকতে পারছে না কেন, কোথায় চাকরির বাজার আর যোগ্যতার মাঝে বিরোধ ঘটছে, চাকরি পাবার পর প্রতিষ্ঠান কীভাবে তাদের যোগ্যতাকে মাপছে, এসবই বিভিন্নভাবে আমাদের কাছে তথ্য আকারে  চলে আসে। কারণ চাকরিদাতাদের সঙ্গে অনেক সময় আমাদের কথা বলতে হয় শিক্ষার্থীদের চাকরি পাওয়া সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে, সেখানেই আলাপচারিতায় একটা বিষয় স্পষ্ট যে, যোগ্য প্রার্থীকে পাওয়ার জন্য তারা অনেক সময় বসে থাকে, কিন্তু তাদের বিবেচনায় যোগ্য প্রার্থী যারা, তাদের সন্ধান তারা পায় না।

আমাদের মূল সমস্যা আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা আমাদের যোগ্য করে তুলতে অনেক সময় ব্যর্থ হয়, যদি না নিজের আগ্রহ ও চেষ্টা থাকে। মুখস্তবিদ্যা দিয়ে আর যাই হউক, চাকরির বাজারে নিজেকে যোগ্য প্রমাণ করা কঠিন। কিন্তু এসব তো পরের কথা, যদি চাকরির বয়সই না থাকে, তাহলে একজন যোগ্য প্রার্থী কীভাবে নিজেকে প্রমাণ করবে?

যে পরিবারে চাকরি প্রত্যাশী একজন শিক্ষার্থীই একমাত্র আশা-ভরসার স্থল, সেই পরিবারের দৃষ্টি দিয়ে যদি আমরা বিষয়টি ভাবি, তাহলে এই প্রণোদনার কথা বিবেচনা করা যেতে পারে। তাছাড়া বাস্তবতা এই যে, কোভিডের বিস্তার রোধে সরকার ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করার ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের সঙ্গে সব ধরনের চাকরির নিয়োগ পরীক্ষাও স্থগিত হয়ে গেছে। ইতোমধ্যেই শিক্ষিত বেকারদের জীবন হতে প্রায় দেড় বছর কেড়ে নিয়েছে করোনা। শিক্ষার্থীদের অনেকটা সময় চলে যাচ্ছে জীবন হতে। এসবই আমাদের বর্তমান সময়ের বাস্তবতা, মেনে নিতেই হবে। কিন্তু যারা এই কঠিন বাস্তবতাকে মানতে গিয়ে সময় হারাচ্ছে তাদের সময় দেওয়াটাও তো আমাদের দায়িত্ব!

ধারণা করা হচ্ছে, করোনায় বেকারত্বের হার ২০ থেকে বেড়ে ৩৫ শতাংশ হয়েছে। এডিবির এক প্রতিবেদনে জানা গেলো, করোনার প্রথম ছয় মাস সার্কুলার হয়েছে আগের বছরের এপ্রিল থেকে ৮৭ শতাংশ কম। তাহলে বিষয়টি দাঁড়াচ্ছে কী? এই সময়ের চাকরি প্রত্যাশীরা অনেকটা বঞ্চিত হচ্ছে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে যে তথ্য পেলাম তা হতে বুঝলাম, করোনাকালে  বেসরকারি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো জনবল নিয়োগ ১০০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৩ শতাংশ এ নিয়ে এসেছে। তাছাড়া করোনাকালে বেসরকারি খাতে কতো মানুষ যে চাকরি হারিয়েছেন তার তো কোনো হিসাবই নেই।

শিক্ষার্থীদের বেকারত্বের দীর্ঘনিঃশাস আমাদের প্রতিনিয়ত শুনতে হয় শিক্ষক হিসেবে। জানি না, অন্যদের কাছে সেই দীর্ঘনিঃশাস পৌঁছে কিনা, প্রতিনিয়ত হতাশ হয়ে পড়া যুব সমাজের মাদকে আসক্তি, আত্মহত্যা সহ সমাজের ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোও একেকটি বার্তা, একেকটি দীর্ঘশ্বাস আর এসব বার্তা আমলে নেবার দায়িত্ব কিন্তু দিন শেষে রাষ্ট্রেরই! ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত