প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] ব্ল্যাক ফাঙ্গাস নির্ণয়সহ রোগীর জীবন বাঁচাতে চিকিৎসা শুরুর আহ্বান জানালেন চিকিৎসকদের: উপাচার্য বিএসএমএমইউ

শাহীন খন্দকার: [২] বুধবার ডা. মিল্টন হলে ‘ব্ল্যাক ফাঙ্গাস নির্ণয় ও চিকিৎসা বিষয়ক গাইডলাইনের প্রকাশনা’ উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ আরও বলেছেন, কোভিড মহামারীর সাথে ভারতের ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের প্রাদূর্ভাবের সম্পর্ক রয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে কয়েকজন রোগী পাওয়া গেলেও এই মুহূর্তে ভারতের মত মহামারীর আশংকা নেই। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সকল চিকিৎসক, নার্স ও কর্মীদের নিয়ে কোভিড-১৯ মোকাবিলায়, বিশেষ করে দ্বিতীয় ঢেউয়ের সময়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে আসছে।

[৩] উপচার্য বলেন, আইসিইউ ও বেড সংখ্যা কয়েকগুণ বাড়িয়ে, হাইফ্লো অক্সিজেনের সরবরাহ সম্প্রসারিত করে ও ভ্যাক্সিনেশন এর মাধ্যমে কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে। ব্ল্যাক ফাঙ্গাস নিয়েও সরকার, চিকিৎসক সমাজ, সাংবাদিক ও জনগণকে সঠিক ধারণা ও করণীয় সম্পর্কে সচেতন করতে বুধবার এই গাইডলাইন প্রকাশ করা হল। ডা. মোঃ শারফুদ্দিন আহমেদ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, মিউকরমাইকোসিস বা ব্ল্যাক ফাঙ্গাস বিশেষ ধরণের অনুবীক্ষনিক ছত্রাকের সংক্রমণজনিত বিভিন্ন রোগকে বোঝায়। এর মধ্যে রাইজোপাস প্রজাতি সবচাইতে বেশি সংক্রামক, অন্যান্য জীবানু যেমন মিউকর, কানিংহামেলা, অ্যাফোফিজোমাইসেস, লিচথিমিয়া, সাকসেনিয়া, রাইজোমুকর প্রজাতিও এই রোগের কারণ।

[৪] উপচার্য আরও বলেন, এই ছত্রাক মাটি পানি ও বাতাসে ছড়িয়ে থাকলেও সংক্রমণ ক্ষমতা এতই কম যে ১ লাখ মানুষের মধ্যে মাত্র ১-২ জনর সংক্রামিত হতে পারে। অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, বিশেষত কিটো অ্যাসিডোসিস আক্রান্ত রোগীরা, ক্যান্সারের রোগী, অতিরিক্ত বা অপ্রয়োজনীয় ব্রড-স্পেকট্রাম অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার, অন্তঃসত্ত্বা মহিলা, অত্যাধিক মাত্রায় বা অপ্রয়োজনীয় স্টেরয়েড গ্রহণ করা, কিডনি বা অন্য অঙ্গ প্রতিস্থাপন করা রোগী এবং চরম অপুষ্টিজনিত রোগী, চামড়ার গভীর ক্ষত ও পোড়া ঘায়েও এই রোগ হতে দেখা যায়।

[৫] কোভিড ভাইরাসে দীর্ঘমেয়াদে আক্রান্ত বা চিকিৎসাধীন রোগী এই রোগে আক্রান্ত হতে পারে। মিউকর ছত্রাকের হাইফাগুলো মানুষের রক্তনালীগুলিতে আক্রমণ করে, যা থেকে থ্রম্বোসিস ও টিস্যু ইনফার্কশন, নেক্রোসিস এবং পরিশেষে গ্যাংরিন তৈরি করে। সুস্থ মানুষের রক্তের শ্বেতরক্তকণিকা বা নিউট্রোফিল এই ছত্রাকের বিরুদ্ধে মূল প্রতিরক্ষার কাজ করে থাকে। সুতরাং, নিউট্রোপেনিয়া বা নিউট্রোফিল কর্মহীনতায় ( যেমন, ডায়াবেটিস, স্টেরয়েড ব্যবহার) বা এইডস আক্রান্ত ব্যক্তিরা সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে থাকেন।

[৬] তিনি বলেন, আক্রান্ত অঙ্গের উপর ভিত্তি করে মিউকরমাইকোসিস রোগটি ৬ ধরণের হলেও রাইনো-অরবিটাল-সেরেব্রাল রোগ নাক, নাকের ও কপালের সাইনাস, চোখ ও ব্রেইন বা মস্তিস্কের সংক্রমণ করে বলে এটাই সবচাইতে বিপদজনক। তাছাড়া ফুসফুসীয়, আন্ত্রিক, ত্বকীয় সংক্রমণও হতে পারে। আক্রান্ত অংশ আর নাকের শ্লেষ্মা, কফ, চামড়া ও চোখ কালো রং ধারণ করে বলে একে কালো ছত্রাক নামে ডাকা হয়।

[৭]আক্রান্ত রোগীদের দ্রুত এবং সঠিক চিকিৎসা না করতে পারলে ৫০ শতাংশ থেকে ৮০ শতাংশ রোগী মৃত্যুবরণ করে থাকে। উক্ত সংবাদ সম্মেলনে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ রফিকুল আলম, উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মোঃ জাহিদ হোসেন, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ডা.একেএম মোশাররফ হোসেন, প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। সম্পাদনা: মেহেদী হাসান

সর্বাধিক পঠিত