প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিশ্বের সর্ববৃহৎ মাংস প্রক্রিয়াজাত কোম্পানি জেবিএস হ্যাকারদের কবলে

রাশিদ রিয়াজ : যুক্তরাষ্ট্রের এ মাংস প্রক্রিয়াজত কোম্পানি হ্যাক করার পর প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এ সাইবার হামলার জন্যে দায়ী করেছেন রাশিয়াকে। রাশিয়ার তরফ থেকে জানানো হয়েছে তারা বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছেন। জেবিএসএর সিইও জোসেফ ব্লাউন্ট স্বীকার করেছেন গত ৭ মে কোম্পানির তেলের পাইপ লাইন হ্যাক করার পর তিনি এক ঘন্টার মধ্যে হ্যাকারদের ৪.৪ মিলিয়ন ডলারের দাবি পরিশোধ করেছেন। কারণ এরফলে বিশাল পরিমান গ্যাস কেনার জন্যে অর্থ খরচ করতে হত। এবার হ্যাক করার ফলে যুক্তরাষ্ট্রে জেবিএস’এর ৯টি মাংস প্লান্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়। কারণ কোম্পানিটির কমপিউটার নেটওয়ার্ক অচল হয়ে পড়ে। এতে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা এবং যুক্তরাষ্ট্রে তাদের কর্মকাণ্ড সাময়িক সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এর সঙ্গে জড়িত কয়েক হাজার শ্রমিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন গ্রাহকরা। হ্যাকাররা জেবিএসএর কমপিউটার নেটওয়ার্কে ঢুকে অর্থ দাবি করে। দাবি করা অর্থ না দেয়া পর্যন্ত তারা কমপিউটার নেটওয়ার্কে কর্মকাণ্ড বিঘ্নিত করাসহ ফাইলগুলো মুছে দেয়ারও হুমকি দিতে থাকে।

হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র ক্যারিন জ্যাঁ-পিয়েরে মঙ্গলবার বলেছেন, বিষয়টি নিয়ে এফবিআই তদনত্ শুরু করেছে। রাশিয়াকে যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে বলা হয়েছে দায়িত্বশীল একটি রাষ্ট্র, এমন অর্থ দাবি করা অপরাধীদের আশ্রয় দিতে পারে না। জেবিএস বলেছে, হামলার পর সমস্যা অনেকটাই সমাধান করে ফেলেছে তারা। হামলার ঘটনা টের পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা আক্রান্ত সব আইটি সিস্টেম বন্ধ করে দেয়। তাদের ব্যাকআপ সার্ভার হ্যাক হয়নি। ওদিকে জেবিএস কোম্পানির শ্রমিকদের সংগঠন ইউনাইটেড ফুড অ্যান্ড কমার্শিয়াল ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করার আহ্বান জানিয়েছে। জেবিএসএর বর্তমান প্রক্রিয়ায় মাংস প্রক্রিয়াকরণ স্থাপনায় আইটি সিস্টেম অপরিহার্য। এ পদ্ধতিতে মাংস প্রক্রিয়াকরণ, বিলিং এবং শিপিংয়ে ব্যবহার করা হয় কমপিউটার। বিফ সেন্ট্রাল নামের ট্রেড গ্রুপের মতে, জেবিএস বন্ধ থাকার ফলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবে যেসব কাস্টমার তার মধ্যে আছে সুপারমার্কেট, ম্যাকডোনাল্ডের মতো প্রতিষ্ঠান। কারণ, তারা বার্গারে মাংস ব্যবহার করেন।

জেবিএসের গরুর মাংসের সবচেয়ে বড় ৫টি কেন্দ্রই যুক্তরাষ্ট্রে। কিন্তু হ্যাক হওয়ার পর কর্মকাণ্ড বন্ধ থাকায় তাদের মাংস উৎপাদন এক পঞ্চমাংশ কমে গেছে। অস্ট্রেলিয়া ও কানাডায় তাদের মাংস প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রগুলোও আক্রান্ত হয়েছে ও উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। তবে দক্ষিণ আমেরিকায় তাদের কর্মকাণ্ডে কোন বিঘ্ন ঘটেনি। এরই মধ্যে বাজারে মাংসের সরবরাহে ঘাটতি সৃষ্টি হওয়ায় পণ্যটির ৩০ শতাংশ দর বৃদ্ধির আশঙ্কা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ অন্যান্য মাংস প্রক্রিয়াজাত কোম্পানিকে বাজারে মাংস সরবরাহ বৃদ্ধি করতে বলেছে। জেবিএস যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ২০ ভাগ মাংসের চাহিদা পূরণ করে। কোম্পানিটির ব্রাজিল শাখা হ্যাক হওয়ার কথা জানালেও যুক্তরাষ্ট্রে এর সদর দফতর থেকে কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার শাখা কোম্পানিকে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। কোম্পানির ভাইটাল ফুয়েল আর্টারি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর হ্যাকারদের দাবিকৃত অর্থ পরিশোধ করতে বাধ্য হয় কোম্পানিটি। জেবিএস বলছে রাশিয়া ভিত্তিক হ্যাকারদের একটি অপরাধী চক্র এ ঘটনার জন্যে দায়ী।

যুক্তরাষ্ট্রে জেবিএস প্রধান আন্দ্রে নোগুয়েইরা জানিয়েছেন ভবিষ্যতে এধরনের ঘটনার সামাল দিতে সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জেবিএস যুক্তরাষ্ট্রে ৫২টি ভিন্ন ব্রান্ডে মাংস বিক্রি করে। এগুলোর মধ্যে সার্টিফাইড এ্যাঙ্গাস বিফ, ফাইভ স্টার রিজার্ভ, ব্লু রিবান এ্যাঙ্গাস বিফ, পিলগ্রিমস অন্যতম। চীনে যখন যুক্তরাষ্ট্র থেকে মাংস আমদানি বৃদ্ধি পাচ্ছে, খাবারের দাম বাড়ছে এবং শ্রমিক সংকটের মধ্যে জেবিএস এধরনের হ্যাকের কবলে পড়ল। গত এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রে মাংসের দাম ৫ ও গত এক বছরের তুলনায় অন্তত ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। পর্ক ও মুরগির মাংসের দাম গত এক বছরে ৫.৪ শতাংশ বেড়েছে। একই সঙ্গে ফ্রোজেন পর্ক সরবরাহ হ্রাস পেয়েছে ২৬ শতাংশ। নেব্রেসকার ফিউচারস ওয়ানের ব্যবস্থাপনা পরামর্শক ম্যাথিউ ওয়াইগ্যান্ড বলেছেন জেবিএস’এর মাংস প্রক্রিয়াজাত কয়েকদিন বন্ধ থাকলে বাজারে মাংসের সংকট সৃষ্টি হতে পারে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটির সাবেক সিনিয়র কর্মকর্তা পল রোজেনওয়েগ বলেন প্রথমে তেলের পাইপ লাইন ও ফের মাংস সরবরাহ প্রক্রিয়ায় এধরনের সাইবার হামলার মানে হচ্ছে জেবিএস নিরাপদ নয়।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত