প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কর্ণফুলী নদী ড্রেজিং প্রকল্পের মেয়াদ শেষ, এখন ঠিকাদার মিলেছে

পূর্বকোণ: কর্ণফুলী নদীর তীর সংরক্ষণ, প্রতিরক্ষা বাঁধ ও ড্রেজিং প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হচ্ছে এই জুন মাসে। ২০১৮ সালে শুরু হয়েছিল প্রকল্পের কাজ। ইতিমধ্যেই তীর সংরক্ষণ-বাঁধের কাজ ৯৫ শতাংশ শেষ। কিন্তু প্রকল্পভুক্ত কর্ণফুলী নদী ড্রেজিং এখনো শুরু হয়নি।

পাউবো জানাল, চতুর্থ দফা টেন্ডারে ড্রেজিংয়ের ঠিকাদার মিলেছে। ট্রাস্কফোর্সের সার্ভের পর কাজের ছাড়পত্র দেওয়া হবে। বর্ষার পর কাজ শুরু করার আশা করছেন সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নূরুল ইসলাম বলেন, ‘চতুর্থ দফা টেন্ডারে ড্রেজিংয়ের জন্য ‘যোগ্য ঠিকাদার’ পাওয়া গেছে। ইতিমধ্যেই পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। পরিকল্পনা কমিশনের অনুমোদনের পরই ওয়ার্ক অর্ডার (ছাড়পত্র) দেওয়া হবে।’

তিনি বলেন, ‘৬ প্যাকেজের কাজের জন্য চার জন ঠিকাদার মনোনীত হয়েছে। ঢাকার টাস্কফোর্স কমিটির সার্ভে শেষে ঠিকাদারদের ছাড়পত্র দেওয়া হবে।’

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, কর্ণফুলী ও ঈছামতি নদীর তীর সংরক্ষণ ও প্রতিরক্ষা বাঁধ এবং ড্রেজিং কাজের তিন শ ৯৬ কোটি নয় লাখ ৭৭ হাজার টাকার প্রকল্প নেয়া হয়। এরমধ্যে নদী ড্রেজিং প্রকল্পের বরাদ্দ দুই শ কোটি ১০ লাখ ৭৮ হাজার টাকা। বাকি বরাদ্দ হচ্ছে কর্ণফুলী, ইছামতি নদীর উভয় তীর সংরক্ষণ এবং শিলকসহ বিভিন্ন খালের প্রতিরক্ষা বাঁধ। ২০১৮ সালের ৯ অক্টোবর একনেক সভায় অনুমোদন হয় প্রকল্পটি। নভেম্বরে জিও অনুমোদনের পর টেন্ডার আহ্বান করা হয়। ওই বছরই (২০১৮ সাল) প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। চলতি বছরের জুন মাসে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে।

নির্বাহী প্রকৌশলী নূরুল ইসলাম বলেন, ‘জুন মাসে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে। তবে প্রকল্পের খরচ না বাড়িয়ে মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ানোর জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছি। মন্ত্রণালয় প্রকল্পের মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী অখিল কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘তিন দফার টেন্ডারে দুটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ ওঠায় সেই কার্যাদেশ বাতিল করা হয়েছিল। এখন চতুর্থ দফায় টেন্ডারে ড্রেজিংয়ের ঠিকাদার মনোনীত করা হয়েছে।’

পাউবো জানায়, তীর সংরক্ষণ ও প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ কাজ ১৫ প্যাকেজে ভাগ করা হয়েছে। এরমধ্যে ১৩ প্যাকেজের কাজের মধ্যে ৭ প্যাকেজের কাজ শেষ করা হয়েছে। আর ৬ প্যাকেজের কাজ প্রায় শেষের দিকে। আগামী জুনের মধ্যে তা শেষ করা হবে বলে জানান উপ-সহকারী প্রকৌশলী জিয়াউদ্দিন আরিফ। তিনি বলেন, আর দুটি প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে।

প্রকল্পে কর্ণফুলী ও ঈছামতি নদীর ১৬ কিলোমিটার এলাকা ড্রেজিং করার কথা ছিল। কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ডের ভুলের কারণে ইছামতি নদী ড্রেজিং বাদ দেওয়া হয়েছে। এখন শুধু কর্ণফুলী নদী ড্রেজিং করা হবে। কাপ্তাই উপজেলার চন্দ্রঘোনা ফেরিঘাট থেকে নাজিরচর এলাকা পর্যন্ত ড্রেজিং করা হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রকল্প গ্রহণ ও টেন্ডার প্রক্রিয়ার তিন বছর পর ড্রেজিং অংশে পরিবর্তন আনা হয়। বাতিল করা হয় ইছামতি নদীর ড্রেজিং অংশ। প্রতিবন্ধকতা, নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ও রাবার ড্রেম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় ইছামতি অংশ বাতিল করা হয় বলে জানান নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নূরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘টেন্ডার প্রক্রিয়ার পর পুনরায় সম্ভাব্যতা যাচাই করেছি। দেখা যায়, ইছামতির ড্রেজিংয়ের কারণে পানি উন্নয়ন বোর্ডের রেগুলেটর, সওজের সেতু, বিআরডিসি’র রাবার ডেম ও পাউবো’র নদীর তীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই প্রকল্পের ওই অংশে ড্রেজিং কাজ বাতিল করা হয়েছে।’

প্রকল্পের ওই অংশের জন্য বরাদ্দ ছিল প্রায় নয় কোটি টাকা। এ বিষয়ে প্রকৌশলী নূরুল ইসলাম বলেন, ‘বরাদ্দকৃত টাকা প্রকল্পের অন্য অংশে ব্যয় করার জন্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতি চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।’

পাউবো জানায়, নদী প্রতিরক্ষা, তীর সংরক্ষণ ও ড্রেজিং কাজ, একই প্রকল্পভুক্ত হওয়ায় একসঙ্গে টেন্ডার আহ্বান করা হয়। কিন্তু টেন্ডারের শর্তমতে ‘যোগ্য’ ঠিকাদার পাওয়া যাচ্ছিল না। এজন্য পরবর্তীতে প্রতিরক্ষা থেকে ড্রেজিং কাজ আলাদা করা হয়। তিন প্যাকেজে ভাগ করে ড্রেজিং প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। ‘অভিজ্ঞ ও যোগ্য’ ঠিকাদার না পাওয়া পরবর্তীতে ছয় প্যাকেজে ভাগ করা হয়। ২০১৮ সাল থেকে চার দফায় টেন্ডার আহ্বান করেও কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন যোগ্য ঠিকাদার পায়নি পানি উন্নয়ন বোর্ড। বর্তমানে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ পর্যায়ে এসে কাক্ষিত যোগ্য ঠিকাদার খুঁজে পেয়েছে পাউবো।

সূত্র জানায়, প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার পছন্দনীয় ঠিকাদার খুঁজে না পাওয়ায় আটকে ছিল ড্রেজিং কাজ। এছাড়াও তৃতীয় দফার টেন্ডারে ঠিকাদার নিয়োগ ও কার্যাদেশও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ উঠায় সেই কার্যাদেশ বাতিল করা হয়। এভাবে গ্যাঁড়াকলে পড়েছিল ড্রেজিং কাজ। প্রকল্পের মেয়াদ আগামী জুনে শেষ হচ্ছে। তারপরও ড্রেজিং প্রকল্পের কাজ শুরু করা যায়নি।

ঈষৎ পরিমার্জিত

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত