প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] ভাষানচরে জাতিসংঘের সম্পৃক্ততা যাত্রার শুরুতেই হোচট, রোহিঙ্গাদের কর্মকাণ্ডে বিব্রত বাংলাদেশ

তরিকুল ইসলাম: [২] সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে জুলাইয়ের মধ্যে ভাসানচরে মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে জাতিসংঘের যুক্ত হওয়া নিয়ে আশাবাদী বাংলাদেশ। এই মূহুর্তে রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে ব্রিবত ও নতুন করে বিতর্ক তৈরি নিয়ে সন্দীহান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।

[৩] তারা বলছেন, জাতিসংঘসহ বৈশ্বিক অংশীজনদের ভাসনচর বিরোধীতা থেকে সড়িয়ে আনতে সক্ষম হয় বাংলাদেশ। ভাসানচরে সরিয়ে নেওয়া রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তায় এবার জাতিসংঘের যুক্ত হবার পালা।

[৪] জাতিসংঘের সঙ্গে আগামী সপ্তাহ থেকে আলোচনা শুরু হতে পারে জানিয়ে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন বলেন, জাতিসংঘ তার মতো করে তহবিল সংগ্রহ করবে। জেআরপির কাঠামোর মধ্যে অথবা এর বাইরে গিয়ে তারা অর্থের ব্যবস্থা করতে পারে। ভাসানচরে নোয়াখালী জেলা প্রশাসন কাজ করবে। এ কারণে কক্সবাজারে জাতিসংঘ যেভাবে কাজ করে তার থেকে এটি ভিন্ন হবে।

[৫] জাতিসংঘের যে পর্যালোচনা সেটি বেশি আপত্তিকর না। আমরা সবগুলোই করছি এবং সেগুলো কীভাবে আলোচনার মাধ্যমে আরও ভালোভাবে করা যায়, সেটি আমরা দেখবো। তারা বলেছে দুর্যোগ হলে কী করা হবে। সেটির জন্য আমরা উঁচু বাঁধ দিচ্ছি। সেখানে বর্তমানে অপারেশন থিয়েটার নেই, এটিও আমরা করবো।

[৬] ত্রাণসচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি অংশীজনদের সঙ্গে কথা বলে কমিটি সুপারিশ জমা দেবে। এর ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের নেতৃত্বাধীন কমিটি জাতিসংঘের ভাসানচরে যুক্ততার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

[৭] জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার পরিচালনাবিষয়ক সহকারী হাইকমিশনার রাউফ মাজাও এবং সুরক্ষাবিষয়ক হাইকমিশনার গিলিয়ান ট্রিগস বাংলাদেশ সফর করছেন। সোমবার তারাসহ ইউএনএইচসিআর প্রতিনিধি দল ভাসানচর গেলে রোহিঙ্গাদের বিক্ষোভের মুখে পরেন। ইউএনএইচসিআরের সদর দপ্তরের কোনো প্রতিনিধিদের এটাই ছিল প্রথম ভাসানচর সফর।

[৮] ইউএনএইচসিআর দুই সহকারী হাইকমিশনারের সফর তাৎপর্যপূর্ণ উল্লেখ করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, জাতিসংঘ ভাসানচরে কোন ফর্মে যুক্ত হবে সেটি চূড়ান্ত করতেই এ সফর। তারা দেশি-বিদেশি অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করবেন।

[৯] তাদের আগে জাতিসংঘের কারিগরি দল মার্চে ভাসানচর পরিদর্শন শেষে তাদের প্রতিবেদনে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছে। গত সপ্তাহে ঢাকা সফরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি ভলকান বজকির ভাসানচর প্রকল্পের প্রশংসা করে গেছেন।

[১০] গত বছরের ৪ ডিসেম্বর থেকে এ পর্যন্ত ছয় দফায় প্রায় ১৮ হাজার রোহিঙ্গাকে স্বেচ্ছায় ভাসানচর নিয়ে যায় সরকার। এখন বর্ষা মৌসুম থাকায় নতুন কোনও রোহিঙ্গাকে নেওয়ার পরিকল্পনা নেই। সেপ্টেম্বরের পর থেকে আরো এক লাখ রোহিঙ্গাকে নেওয়ার কাজ পূর্ণ উদ্যমে শুরু হবে।

সর্বাধিক পঠিত