প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] পুঠিয়ায় অনলাইন ক্লাসে শিক্ষার্থীরা সুফলের মুখ দেখেনি

আবু হাসাদ: করোনা মহামারিতে গত এক বছর যাবত দেশে লকডাউনের কারণে বন্ধ রয়েছে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। সরকারী নিদর্শনা মোতাবেক সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনলাইন ক্লাস চালু করা হয়। তবে নানা জটিলতার কারণে রাজশাহীর পুঠিয়ায় স্কুল-কলেজ গুলোতে অনলাইন ক্লাস আলোর মূখ দেখেনি।

[৩] উপজেলা মাধ্যমিক ও প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় মোট কলেজের সংখ্যা ১৮ টি, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ৪৮ টি, প্রাথমিক বিদ্যালয় ৮৯ টি এবং মাদ্রসা রয়েছে ১৪ টি। এ সকল প্রতিষ্ঠানে প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেনী পর্যন্ত বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২৫ হাজারের অধিক রয়েছে। এছাড়া ব্যাক্ত মালিকানা প্রাইভেট কিন্ডার গার্ডেন রয়েছে প্রায় ২৫ টি।

[৪] আজিজুর রহমান নামের একজন শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, আমার একটি ছেলে নবম ও মেয়ে ৫ম শ্রেণীতে পড়ে। করোনার প্রভাবের কারণে কাজ অনেক কমে গেছে। দীর্ঘদিন থেকে সংসার চলছে টেনেকষে। এর মধ্যে ভালো মানের ফোন বা কম্পিউটার কেনার মত সমর্থ আমার নেই। এরকম শুধু আমি একা নেই, আমার মত অনেক শ্রমজীবি পরিবারের ছেলে মেয়েদের একই অবস্থা। স্কুল গুলোতে অনলাইন ক্লাস চললেও প্রযুক্তির অভাবে আমাদের সন্তানরা এতে অংশ নিতে পারেনি। তারা বাড়িতে যা পারছে তাই পড়ছে। তবে শিক্ষকদের নির্দেশ মোতাবেক তারা এবার বাড়ি থেকে লিখে স্কুলে জমা দিচ্ছে।

[৫] সাব্বির হোসেন নামের একজন এসএসসি পরীক্ষার্থী জানায়, করোনার কারণে সরকার গত বছর অটাপাস দিয়েছে। এবারও করোনার প্রভাব রয়েছে। তাই সকলকে অটোপাস দেয়ার আশা করেছিলাম। যার কারণে অনলাইন ক্লাসে তেমন আগ্রহ ছিল না। তবে স্যারদের নির্দেশকক্রমে এসাইমেন্ট গুলো বাড়িতে লিখে জমা দিচ্ছি।

[৬] বানেশ্বর ইসলামিয়া হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক আজাদ রহমান বলেন, গত বছর লকডাউনের শুরু থেকে এই প্রতিষ্ঠান সরকারী নির্দেশনা মোতাবেক অনলাইন পাঠদান চলছে। প্রতিষ্ঠানের বিষয় ভিক্তিক শিক্ষকরা পাঠদান অব্যহত রেখেছেন। এখনো নিয়মিত সকল বিষয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান দেয়া হচ্ছে। এই স্কুলের পাশাপাশি অন্যান্য কিছু প্রতিষ্ঠানের অনেক শিক্ষার্থীরা আমাদের অনলাইন ক্লাসে অংশ নিচ্ছেন।

[৭] উপজেলা শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও গাঁওপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উইলিয়াম নাসির উদ্দীন বলেন, অনলাইন পাঠদান কার্যক্রম গতবছর চালু ছিল। বর্তমানে অনলাইনে ক্লাস নিতে হবে এমন কোনো নির্দেশনা নেই। যার কারণে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান অনলাইন ক্লাস বন্ধ রেখেছেন। তবে দুই একটি প্রতিষ্ঠানে এখনো ক্লাস চালু আছে।

[৮] তিনি বলেন, সকল শিক্ষার্থীদের অনলাইন ক্লাসে অংশ গ্রহণ করারমত প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা নেই। যাদের আছে তারা ক্লাসে অংশ নিচ্ছে। তবে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীদের সংখ্যার পরিমাণে অনেক কম। তবে চলতি বছরের শুরু থেকে শিক্ষার্থীদের “হোম এসাইমেন্ট” কার্যক্রম চলছে। এতে সকল ছাত্র-ছাত্রীরা অংশ নিচ্ছে।

[৯] এ ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা লায়লা আকতার জাহান বলেন, গত বছরের ন্যায় এবার চলতি বছরের শুরুতে শিক্ষার্থীদের অনলাইন পাঠদান চলেছে। তবে এখন এসাইমেন্ট কার্যক্রম চলছে। এখন অনলাইনে ক্লাস করাতে হবে তেমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তবে আগামি ১৩ জুন সারা দেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার ঘোষনা এসেছে। সে ক্ষেত্রে সকল শিক্ষার্থীরা সরাসরি ক্লাসে অংশ গ্রহন করতে পারবে। ইতোমধ্যে সরকারী নির্দেশনা মোতাবেক সকল প্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে শিক্ষকদের অবহিত করা হয়েছে। সম্পাদনা: হ্যাপি

সর্বাধিক পঠিত