প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] ডিএসইর সূচক ৩ বছর তিন মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ

মাসুদ মিয়া: [২] দেশের শেয়ারবাজার গত দেড় মাসের বেশি সময় ধরে বেশ চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন বাড়ছে মূল্য সূচক পাশাপাশি লেনদেনের গতিও। সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবার ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ডিএসইর বাজার মূলধন। এর আগে চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি ডিএসইর বাজার মূলধন সর্বোচ্চ ছিল। ঐ দিন ডিএসইর বাজার মূলধন ছিল ৫ লাখ ১ হাজার ৭০৯ কোটি টাকা। দিনের গতকাল লেনদেন শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ২ হাজার ৭৪৩ কোটি টাকা। যা আগের কার্যদিবসে ছিল ৪ লাখ ৯৮ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা। অর্থাৎ একদিনে বাজার মূলধন বেড়েছে ৪ হাজার ১৬৩ কোটি টাকা। ডিএসইর সূচক গত ৩ বছর ৩ মাস ১২ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ স্থানে পৌঁছেছে।

[৩] দিনশেষে ১০১ পয়েন্ট বেড়ে ডিএসইর প্রধান সূচক দাঁড়িয়েছে পাঁচ হাজার ৯৮৫ পয়েন্ট। এর আগে ২০১৮ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি সূচক ছিল ৬ হাজার ৫০ পয়েন্ট। এ বিষয়ে বাজার সংশ্লিষ্টরা বলেন, কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে বিএসইসি শেয়ারবাজারে লেনদেন চালু রাখার সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। সেই থেকে সাধারণ বিনিয়োগকারীর পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা সক্রিয় হয়েছে। বিনিয়োগকারীরা এখন বিশ্বাস করছেন, যেকোনো পরিস্থিতিতে ব্যাংক খোলা থাকলে শেয়ারবাজারে লেনদেনও চলবে।

[৪] সংশ্লিষ্টরা আরও বলেন, যেকোনও দুর্যোগপূর্ণ অবস্থায় ব্যাংক খোলা থাকলে শেয়ারবাজারে লেনদেন চালু থাকবে। এটা বাজারের ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরও বাড়িয়েছে।

[৫] এ বিষয়ে ডিএসইর পরিচালক শাকিল রিজভী বলেন, শেয়াবাজারের অবস্থা এখন অনেক ভালো। ব্যাংক, বীমাসহ বেশিরভাগ কোম্পানি দশ শতাংশের বেশি লভ্যাংশ দিচ্ছে। মিউচুয়াল ফান্ডগুলো ভালো করছে। আগের তুলনায় রিটার্নও দিচ্ছে। তাতে শেয়বাজারে বিনিযোগকারীদের আস্থা বাড়ছে। এখন বিনিয়োগকারীরা শেয়ারাজারে বিনিয়োগও করছেন।

[৬] তিনি বলেন, শেয়ারবাজারের প্রাণ হচ্ছে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী। তারাও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছেন। বেশকিছু বড় ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী বাজারে অংশ নিয়েছেন। তাদের কারণে বাজার দিন দিন চাঙ্গা হচ্ছে।

[৭] এ বিষয়ে বিনিয়োগকারী এহতেশামুজ্জামান বলেন, গত একবছরে আমরা সাধারণ বিনিয়োগকারীরা দেখলাম ব্যাংকের ঘোষিত লভ্যাংশ অনেক আকর্ষণীয় এবং ব্যাংকের শেয়ার প্রতি ইপিএস অনেক ভাল। তাই ব্যাংকের শেয়ারে আমাদের এত আগ্রহ।

[৮] বিনিয়োগকারী হাসান মাহমুদ বলেন, ব্যাংক আন্ডার ভ্যালুড, এখান থেকে অনেক বাড়ার সুযোগ আছে। বিভিন্ন হাউজের এনালিস্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় যে, একমাত্র ব্যাংকের ইপিএস শতভাগ সঠিক, ব্যাংকগুলোর উপর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।

[৯] এ বিষয়ে ডিএসইর সাবেক এক সভাপতি বলেন, গত একবছরে শেয়ারবাজার ভালো হয়েছে ঠিক। কিন্তু সব বিনিয়োগকারী লাভবান হয়নি। তার কারণ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা যখন শেয়ার বিক্রি করেছে, তখন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা শেয়ারের দাম আরও বাড়বে বলে লোভে পড়ে কিনেছেন।

[১০] তিনি মনে করেন, শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করতে হলে প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তি বড় বিনিয়োগকারীদের শেয়ার কেনা বিক্রির প্রতি খেয়াল রাখতে হবে। দেখতে হবে তারা কী কিনছে, কী বিক্রি করছে। তবেই শেয়াবাজারে ব্যবসা করতে পারবেন বিনিয়োগকারীরা।

[১১] এদিকে বাজার মূলধনে রেকর্ড হওয়ার দিনে গতকাল ডিএসইর বাজার মূলধন বেড়েছে ৪ হাজার কোটি টাকার ওপরে। বাজার মূলধন বাড়ার অর্থ হলো তালিকাভূক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ার ও ইউনিটের দাম সম্মিলিতভাবে ঐ পরিমাণ বেড়েছে।

[১২] গতকাল ডিএসইতে লেনদেন আবার ২ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। মোট লেনদেন হয়েছে ২ হাজার ৩৬৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকার। এই নিয়ে গত ৬ কার্যদিবসের মধ্যে তিন কার্যদিবসেই লেনদেন ২ হাজার কোটি টাকা ছাড়ালো। গত কার্যদিবস ডিএসইতে ২ হাজার ৮ কোটি টাকার লেনদেন হয়। গতকাল ডিএসইতে ২ হাজার ৩৬৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে।

[১৩] ডিএসইতে লেনদেন ৪ মাস ১০ দিন বা ৮৭ কার্যদিবসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। ডিএসইতে এর আগে চলতি বছরের ১৭ জানুয়ারি লেনদেন হয়েছিল ২ হাজার ৩৮৪ কোটি টাকার। গতকাল ডিএসইতে ৩৬৪টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে ১৬৩টির বা ৪৪.৭৮ শতাংশের শেয়ার ও ইউনিট দর বেড়েছে। শেয়ার দর কমেছে ১৪৩টির বা ৩৯.২৯ শতাংশের এবং বাকি ৫৮টির বা ১৫.৯৪ তাংশের দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

[১৪] অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ২৭৭.২২ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ৩৪৭.৪০ পয়েন্টে। সিএসইতে ২৯৭টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৪০টির দর বেড়েছে, কমেছে ১২৫টির আর ৩২টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ১০৪ কোটি ৩৭ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। সম্পাদনা : প্রিয়াংকা

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত