প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে নিয়ম বহিভূত ভবনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: চেয়ারম্যান রাজউক

সুজিৎ নন্দী: [২] ভবনগুলো রাজউক থেকে যে নকশা অনুমোদন করে কিন্তু তৈরির ক্ষেত্রে জায়গা না ছাড়া, উচ্চতা না মানাসহ বিধিমালার তোয়াক্কা না করে এগুলো তৈরি হয়েছে। রাজউক থেকে ১হাজার ৭শ’ ৮৮টি নিয়ম বহিভূত ভবনকে ইতোপূর্বে চারধাপে চূড়ান্ত চিঠি দিয়েছে।

[৩] রাজউকের সূত্র জানায়, কিছু ভবনকে জরিমানার নিয়ে ছাড়, কিছু আংশিক ভেঙ্গে ফেলা এবং যে ভবনগুলোর কোন অনুমোদন নেই সেগুলোর বিরুদ্ধে রাজউকের নিয়ম মোতাবেক চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

[৪] রাজউকের চেয়ারম্যান এ বি এম আমিন উল্লাহ নুরী বলেন, প্রতিটি অঞ্চলের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ বিষয়ে আলাদা আলাদা বৈঠক করবো। তবে পার্কিং এর বিষয়টিকে আমরা বিশেষ ভাবে গুরুত্বেও মধ্যে রাখবো। প্রয়োজনে নিয়ম বহিভূত ভবনের যে তালিকা আছে তা পুনরায় পরিদর্শক দিয়ে পরীক্ষা করানো হবে। এটাকে ‘বিশেষ অভিযান’ বলা যেতে পরে।

[৫] রাজউকের অথরাইজ বিভাগ জানায়, ইতোমধ্যে ভবনের মূল মালিক এবং নির্মাণকারী উদ্যোক্তা বা ডেভেলপার কোম্পানির বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। পাশাপাশি রাজউক অনুমোদিত নকশা আছে কিনা তা থাকলে নকশা অনুমোদন ও ভবন নির্মাণের সাল, নকশা প্রণয়নকারী স্থপতি এবং প্রকৌশলীর নাম ও রেজিস্ট্রেশন নম্বরের বিষয়ে তথ্য জোগাড় করেছে। নকশার বাইরের যদি ভবন বাড়ানো হয় তার বিরুদ্ধে বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

[৬] রাজউকের একজন পরিচালক জানান, এটি রাজউকের চলমান প্রক্রিয়া। যারা নিয়ম বহিভূত ভাবে ভবন নির্মাণ করেছে তাদের বর্ধিতাংশ দ্রুত ভেঙ্গে ফেলা উচিৎ। অন্যথায় রাজউক ব্যবস্থা নেবে। তবে যারা নকশা বহিভূত ভাবে ভবন নির্মাণ করেছে তাদের সংশোধন করার জন্য আমরা সময় দিয়েছি।

[৭] অথরাইজ বিভাগ জানায়, প্রায় তিন হাজার ভবনের অনুমোদিত নকশা সঙ্গে বাস্তবতার মিল পাওয়া যায়নি। বিশেষ করে কার পার্কিং এ অনিয়ম ধরা পড়েছে। পরিদর্শন করা ভবনগুলোতে এসব মানা হয়নি। বিশেষ করে বেজমেন্ট স্টোররুম বা গোডাউন হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া বেজমেন্টে জেনারেটর, সুইচগিয়ার রুম, সাবস্টেশন, বয়লার রুম কোনোভাবেই রাখা যাবে না।

[৮] বনানী এফ আর টাওয়ারে অগ্নিকান্ডের পরে রাজউক বিশেষ অভিযানে মাঠে নামে। সে সময় রাজউকের ২৪টি টিম রাজধানীর প্রায় ১ হাজার ৮৫০ ভবনের তথ্য সংগ্র করে। এর মধ্যে কেবল বিকল্প সিঁড়িই নয়, ১৫ শতাংশ বহুতল ভবন ঊর্ধ্বধুখী সম্প্রসারণ করার ক্ষেত্রেও নিয়ম মানা হয়নি। আর বহুতল ভবন নির্মাণে ৩৭ শতাংশ ভবনের যে পরিমাণ উন্মুক্ত স্থাান রাখার কথা তা রাখেনি।

[৯] ৪৭৪টি বহুতল ভবনের মালিকরা অভিযান চলাকালে রাজউককে নকশা দেখাতে পারেনি। এছাড়া সরকারের অন্য সংস্থাার ৪৪টি বহুতল ভবনেরও নকশা পায়নি রাজউক। পাশাপাশি ৭০ শতাংশ বহুতল ভবনে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাা নেই। ৩৩ শতাংশ বহুতল ভবনে অগ্নিকাণ্ডের সময় দ্রুত বের হওয়ার জন্য বিকল্প সিঁড়ি নেই। বাকি ৬৭ শতাংশ ভবনে এই সিঁড়ি থাকলেও ব্যবহার উপযোগী মাত্র ৪৩ শতাংশ। রাজউকের অথরাইজ বিভাগ সূত্রে এতথ্য জানা যায়।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত