প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অধ্যাপক কামরুল হাসান মামুন: সরকার এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কীভাবে লেখাপড়া চালু রাখা যায় তার একটি পথ বের করতেই হবে

অধ্যাপক কামরুল হাসান মামুন: আমার স্ত্রীর সাথে প্রায়ই তর্ক হয় একটা বিষয় নিয়ে। সে সব সময় বলে আমাদের করোনা পরিস্থিতি কখনো এমন পর্যায়ে যায় নেই যে সারা দেশ জুড়ে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে হবে। আমাদের সর্বোচ্চ খারাপ অবস্থা ইতালির বর্তমান সর্বোচ্চ ভালো অবস্থা থেকে অনেকগুন ভালো। আর সেখানে সর্বোচ্চ খারাপ অবস্থাতেও দেশজুড়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখেনি। শুধুই কি ইতালি? ব্রিটেনে করোনা প্যান্ডেমিকের কতো খারাপ অবস্থায় ছিলো তা নিশ্চই সবাই জানেন। অথচ তা সত্বেও শুধু প্রথম লকডাউনে স্কুল কলেজ বন্ধ ছিলো। এরপর সবসময়ই অনলাইন অফ লাইনের মিশ্রনে শিক্ষা কার্যক্রম চলমান রেখেছে। আমরা তাদের চেয়ে শতগুন ভালো হওয়া সত্বেও কেন সেটা করলাম না? তার বক্তব্য হলো ১ বছরেরও বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের ফলাফলের গ্রাভিটি আমরা বুঝতে পারছি না। তার ধারণা ক্ষতির গ্রাভিটি নিয়ে আমরা যথেষ্ট চিন্তা করছি না। ভাইস চ্যান্সেলর বলেছেন আমাদের বাস্তবতা মেনে বিজ্ঞানসম্মতভাবে এগোতে হবে। তিনি ছাত্রছাত্রীদের ধৈর্য্যধারণ করার পরামর্শ দিয়েছেন এবং বলেছেন, বেঁচে থাকলে পড়াশোনা করা যাবে। তিনি আরও বলেছেন, ছাত্রদের নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা আছে। বাস্তবতা মানে হলো আমাদের সক্ষমতা। তো সক্ষমতা বাড়ানোর কোন চেষ্টা কি আমরা করছি? ছাত্রদের নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা আছে শুনে আমার মনটা খুব খারাপ হয়েছে। তিনিতো আমাদের পরিকল্পনার কথা জানাবেন।

সরকারেরতো আরো অনেক কাজ আছে। আমারাতো কেবল ছাত্রদের নিয়ে কাজ করি। আমাদেরতো ছাত্রদের নিয়ে দিনরাত ভাবা উচিত। দিনরাত ভেবে সরকারকে বিশ্ববিদ্যালয় খোলার ব্যাপারে আমাদের পরিকল্পনা জানানো উচিত। তাছাড়া ‘বেঁচে থাকলে পড়াশুনা করা যাবে’ কথাটা খুবই নেগেটিভ হয়ে গেল না? আর বিজ্ঞানসম্মতভাবে আগাতে গত ১ বছরেরও বেশি সময় ধরে কি করেছি? সাশ্রয়ী মূল্যে দ্রুত গতির ইন্টারনেটের বিশেষ পেকেজের দাবি কি জানানো হয়েছে। আমি আমার স্ত্রীকে আমাদের বাস্তবতা বোঝাতে চেষ্টা করি। বলেছি আমাদের দৈনিক করোনায় ১১০ জন মারা গেলে সারা দেশে প্যানিক সৃষ্টি হয়। আইসিইউ, হাসপাতালে একটা বেড পাওয়া নিয়ে হাহাকার শুরু হয়। দেশের মানুষ ভিআইপি খুঁজতে থাকে যদি ইন কেইস আইসিইউ, হাসপাতালে একটা বেড পাওয়ার প্রয়োজন পরে। এই দেশে ভিআইপি ব্যতীত কোনো সম্মানজনক রাষ্ট্রীয় সেবাই সম্ভব না। তারপর ও আমাকে বলে তাহলে সরকার বুঝতে পারা উচিত যে যথেষ্ট আইসিইউ নেই, যথেষ্ট করোনার বেড নেই। এখন কি তোমরা ব্যবস্থার উন্নতির কাজ করছ যাতে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি খারাপ হলে মানুষ যেন প্যানিক না হয়? এই প্রশ্নের উত্তরতো আমি দিতে পারিনি। আমারতো মনে হয় আমরা ইতিমধ্যেই রিলাক্সড হয়ে গেছি। আসলে আমাদের সরকার হয়তো ভাবে যদি করোনা পরিস্থিতি আবার খারাপ না হয় তাহলেতো এই উন্নতির জন্য খরচ পুরাটাই জলে যাবে। তারপর ও বলেছে আমি যেন আমার গত পোস্টটি প্রতিদিন পোস্ট করি। তাই করলাম। অবস্থাদৃষ্টে এইটা নিশ্চিত যে করোনা সহসা যাচ্ছে না। তাই বলে শিক্ষা ব্যবস্থা বন্ধ থাকতে পারে না। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কীভাবে লেখাপড়া জারি রাখা যায় তার জন্য আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা জারি রাখতে হবে এবং সেটা দৃশ্যমান হতে হবে। আমাদের কি কি করণীয়?

[১] শিক্ষার্থীদের জন্য স্বল্পমূল্যে দ্রুত গতির ইন্টারনেট সার্ভিসের বিশেষ প্যাকেজ ব্যবস্থা চালু করা।

[২] কেবল যাদের পরীক্ষা অথবা ল্যাব ক্লাস থাকবে তাদের জন্য আবাসিক হল খোলা রাখা।

[৩] ৫০ শতাংশ অনলাইন এবং ৫০ শতাংশ অফ লাইন ক্লাস চালু করা। ৫০ শতাংশ অফ লাইন ক্লাসের মধ্যে পরীক্ষা ও ব্যাবহারিক ক্লাস থাকতে পারে।

[৪] ভবিষ্যতে যেন কোন আবাসিক হলে গণরুম নামক কোনো ব্যবস্থা থাকতে না পারে তার সমাধানে এখনই কার্যকরী ব্যবস্থা নেওয়া। আমাদের শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে পারি না। সরকার এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কীভাবে লেখাপড়া চালু রাখা যায় তার একটি পথ বের করতেই হবে। এইভাবে চলতে পারে না। ব্রিটেনে করোনা প্যান্ডেমিকের কতো খারাপ অবস্থায় ছিলো তা নিশ্চই সবাই জানেন। অথচ তা সত্বেও শুধু প্রথম লকডাউনে স্কুল কলেজ বন্ধ ছিলো। এরপর সবসময়ই অনলাইন অফ লাইনের মিশ্রনে শিক্ষা কার্যক্রম চলমান রেখেছে। আমরা তাদের চেয়ে শতগুন ভালো হওয়া সত্বেও কেন সেটা করলাম না? আমাদের খুব দ্রুত এমন ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। শুনলাম ধারণ ক্ষমতার অর্ধেক নিয়ে পরিবহন চলতে পারবে, ধারণ ক্ষমতার অর্ধেক নিয়ে হোটেল রেস্টুরেন্ট খুলতে পারবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার ব্যাপারে এইরকম চিন্তা কেন করি না। লেখক : শিক্ষক, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, মামুন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত